ব্যাকরণের প্রধান বিষয়:‘বি’ (বিশেষভাবে) + ‘আ’ (সম্পূর্ণরূপে) + √কৃ (করা, বিশ্লেষণ করা) + ‘অন’ প্রত্যয়ে গঠিত।
শব্দটির মূল অর্থ ‘বিশ্লেষণ’, ‘বিভাজন’ বা ‘ব্যাখ্যা’।
১. ধ্বনিতত্ত্ব: (Phonology / Phonetics) ধ্বনিতত্ত্বে ভাষার ধ্বনি, ধ্বনির উৎপত্তি, উচ্চারণ, শ্রেণিবিভাগ, ধ্বনির পরিবর্তন এবং ভাষায় ধ্বনির কার্যকারিতা আলোচনা করা হয়। এটি ভাষার ক্ষুদ্রতম উচ্চারণগত একক সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে।
২. রূপতত্ত্ব: (Morphology) ব্যাকরণের প্রধান শাখা এবং বর্ণনামূলক ও নির্দেশমূলক ব্যাকরণ ব্যাকরণ ব্যাকরণ হলো ভাষার গঠন, রূপ, ধ্বনি, শব্দ, বাক্য, অর্থ এবং ভাষা-ব্যবহারের নিয়মাবলির বিজ্ঞান। যে শাস্ত্রে কোনো ভাষার ধ্বনি, শব্দ, রূপ, পদ, বাক্য ও অর্থের গঠন এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে সেই ভাষার ব্যাকরণ বলে। ব্যাকরণের প্রধান উদ্দেশ্য ভাষার কাঠামোকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা, ভাষার নিয়মাবলি নির্ণয় করা এবং ভাষার শুদ্ধ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। ব্যাকরণের প্রধান শাখা ভাষার বিভিন্ন স্তর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ব্যাকরণকে কয়েকটি প্রধান শাখায় ভাগ করা হয়। প্রতিটি শাখা ভাষার একটি নির্দিষ্ট দিক নিয়ে আলোচনা করে।
৩. শব্দতত্ত্ব (Lexicology): শব্দতত্ত্বে শব্দের অর্থ, উৎপত্তি, শ্রেণিবিভাগ, ব্যবহার, সমার্থক, বিপরীতার্থক, পারিভাষিক শব্দ, শব্দভাণ্ডারের বিকাশ এবং শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
৪. বাক্যতত্ত্ব (Syntax): বাক্যতত্ত্বে শব্দসমূহ কীভাবে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে বাক্যে বিন্যস্ত হয়, বাক্যের গঠন, পদক্রম, বাক্যের প্রকারভেদ এবং বাক্যের উপাদানসমূহের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।
৫. অর্থতত্ত্ব (Semantics): অর্থতত্ত্বে শব্দ, পদ, বাক্য ও উক্তির অর্থ, অর্থের পরিবর্তন, অর্থের সম্পর্ক এবং ভাষার মাধ্যমে অর্থ প্রকাশের নীতি আলোচনা করা হয়।
৬. বর্ণনামূলক ব্যাকরণ (Descriptive Grammar) বর্ণনামূলক ব্যাকরণ ভাষাকে বাস্তবে মানুষ যেভাবে ব্যবহার করে, সেই রূপে পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও বর্ণনা করে। এখানে ভাষাকে শুদ্ধ বা অশুদ্ধ বলে বিচার করা হয় না; বরং ভাষার প্রকৃত ব্যবহারকে বৈজ্ঞানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চল, সমাজ, শ্রেণি ও সময়ে ভাষার যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, বর্ণনামূলক ব্যাকরণ তা নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে। আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান মূলত বর্ণনামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করে। উপভাষা-গবেষণা, সমাজভাষাবিজ্ঞান, করপাসভিত্তিক ভাষা-গবেষণা এবং ভাষার পরিবর্তনশীল রূপের অধ্যয়নে এই ধরনের ব্যাকরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৭. নির্দেশমূলক ব্যাকরণ (Prescriptive Grammar) নির্দেশমূলক ব্যাকরণ ভাষার মান্য ও আদর্শ রূপ নির্ধারণ করে। এতে ভাষা কীভাবে ব্যবহার করা উচিত, কোন রূপটি শুদ্ধ, কোনটি অশুদ্ধ, কোনটি মান্য এবং কোনটি অমান্য—এসব বিষয়ে বিধান দেওয়া হয়। বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসন, সাহিত্য, সংবাদমাধ্যম এবং আনুষ্ঠানিক রচনায় যে ভাষারীতি অনুসরণ করা হয়, তা প্রধানত নির্দেশমূলক ব্যাকরণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নির্দেশমূলক ব্যাকরণের উদ্দেশ্য ভাষার মানরূপ সংরক্ষণ, যোগাযোগে একরূপতা প্রতিষ্ঠা এবং ভাষা-শিক্ষাকে সুসংহত করা। বর্ণনামূলক ও নির্দেশমূলক ব্যাকরণের পার্থক্য বর্ণনামূলক ব্যাকরণ ভাষার বাস্তব ব্যবহার ব্যাখ্যা করে, আর নির্দেশমূলক ব্যাকরণ ভাষার মান্য ব্যবহার নির্ধারণ করে। প্রথমটি গবেষণাভিত্তিক ও পর্যবেক্ষণমূলক; দ্বিতীয়টি নিয়মভিত্তিক ও শিক্ষামূলক। একটি ভাষা কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা জানায়, অন্যটি ভাষা কীভাবে ব্যবহার করা উচিত সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়।
্য>্য
প্রত্যয়িত বিশেষণ
প্রত্যয়ী বিশেষণ