পাথুরিয়াঘাটা বঙ্গনাট্যালয়
খ্রিষ্টীয় ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি নাট্যশালা।
১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে
শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুরের উদ্যোগে
পাথুরিয়াঘাটা ঠাকুর বাড়িতে প্রথম একটি নাট্যমঞ্চ স্থাপিত হয়েছিল।
এই নাট্যমঞ্চে অভিনীত হয়েছিল 'মালবিকাগ্নিমিত্র' নাটক। উল্লেখ্য এটাই ছিল
পাথুরিয়াঘাট বঙ্গনাট্যালয়ের
আদি মঞ্চ। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুলাই এই মঞ্চে
'মালবিকাগ্নিমিত্র' দ্বিতীয়বার অভিনীত হয়েছিল। সম্ভবত এটি ছিল
একটি অস্থায়ী ধরনের মঞ্চ। এই নাট্যমঞ্চের অবৈতনিক সম্পাদক ছিলেন ঘনশ্যাম বসু।
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে যতীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নিজ বাসভবন একটি স্থায়ী মঞ্চ
স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এই সূত্রে তৈরি হয়েছিল পাথুরিয়াঘাটা বঙ্গনাট্যালয়। এই বছরের
৩০ ডিসেম্বর এই মঞ্চে প্রথম অভিনীত হয়েছিল 'বিদ্যাসুন্দর' নাটক। এই নাটকটি এবং
যেমন কর্ম তেমন ফল' মোট আটবার মঞ্চস্থ হয়েছিল।
১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হয়েছিল 'বুঝলে কি না' নামক প্রহসন।
১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অভিনীত হয়েছিল রামনারয়ণ তর্করত্নের 'মালতীমাধব'।
১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে মার্চ মাসে অভিনীত হয়েছিল 'চক্ষুদান' ও 'উভয় সঙ্কট' নামক দুটি
প্রহসন।
১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে কোনো নাটক মঞ্চস্থ হয় নি।
১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জানুয়ারি অভিনীত হয়েছিল 'রুক্মিণী হরণ' ও 'উভয় সঙ্কট'। ৫
মার্চ 'রুক্মিণী হরণ' পুনরায় মঞ্চস্থ হয়েছিল।
১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজপ্রতিনিধি লর্ড নর্থব্রুক পাথুরিয়াঘাটা
রাজবাড়িতে আসেন এবং এই নাট্যমঞ্চ পরিদর্শন করেন। লর্ড নর্থব্রুক এবং তাঁর সাথে আগত
সম্ভ্রান্ত ইংরেজ নারী-পুরুষের জন্য 'রুক্মিণী হরণ' ও 'উভয় সঙ্কট' মঞ্চস্থ করা
হয়।
সূত্র:
- বঙ্গীয় নাট্যশঠালার
ইতিহাস। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ মন্দির, ১৩৪৬
-
বাংলা থিয়েটারের গান। শ্রীরাজ্যেশ্বর মিত্র। ইন্দিরা সংগীত-শিক্ষায়তন।
১৯৮২।
-
বাংলা থিয়েটারের পূর্বাপর। নৃপেন্দ্র সাহা। তূণ প্রকাশ। ১৯৯৯।
-
বাংলা নাটকের বিবর্তন। সুরেশচন্দ্র মৈত্র। মুক্তধারা। ১৯৭১