বিলাবল অঙ্গ
উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত
পদ্ধতিতে রাগাঙ্গ বিশেষ।
এই রাগাঙ্গে অন্তর্গত রাগগুলো সব স্বর শুদ্ধ। রাগের মূল কাঠামো হিসেবে শুদ্ধ বিলাবল পাওয়া যায়।
অনেকে মনে করেন যে, শুদ্ধ বিলাবল মূলত বিলাবল অঙ্গ।
এই অঙ্গের সাথে আরও কিছু সুরশৈলী বা বিশেষ প্রক্রিয়ায় অন্য স্বরে প্রয়োগে সৃষ্টি
হয়েছে আলাহিয়া বিলাবল, নট বিলাবল, শুক্ল বিলাবল, বঙ্গাল বিলাবল, হেম বিলাবল
ইত্যাদি। সেনী ঘরানায় রেখাব ও পঞ্চম বর্জিত একপ্রকার বিলাবল অঙ্গের গীত পাওয়া যায়।
বিলাবলের এই রূপটিকে বলা হয় ঔড়ব বিলাবল।
বিলাবল অঙ্গের
বৈশিষ্ট্য
- এই রাগের মূল কাঠামো-
শুদ্ধ বিলাবল।
- এই অঙ্গে সব স্বর
শুদ্ধ। মূল ভিত্তি
আরোহণ
স র গ ম প ধ ন র্স
অবরোহণ
র্স ন ধ প ম গ র স
- এই অঙ্গের রাগে স্বরপ্রয়োগ
প্রায় সরল ও অলঙ্কারবিহীন।
বক্রতা বা জটিলতা অপেক্ষাকৃত কম।
- প্রধান চলনের রূপ-
গ-র-গ ও
ন-ধ-ন-র্স, অবরোহণে ম-গ-ম-র-স
- রাগের আবহ নির্মল, প্রশান্ত, মঙ্গলময় ও গাম্ভীর্যহীন।
প্রভাতকালীন স্নিগ্ধতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। শুদ্ধ বিলাবলের বিস্তারের স্থান মন্দ্র ও মধ্য সপ্তক। প্রকৃতি শান্ত।
এই অঙ্গের রাগসমূহ
- আলাহিয়া
বিলাবল
আরোহণ: স র গ প
ধ ন র্স
অবরোহণ: র্স ন ধ
ণ ধ প ম গ র স
পকড় : সর, গরগ
প, ধ, ন ধ ন র্স। র্স ন ধ, প, ধণধপ, মগ মর স।
এই রাগে অবরোহণে কোমল নিষাদ ব্যবহৃত হলেও চলনে বিলাবলের রূপ
পাওয়া যায়।
আরোহণে: গ-র-গ
ও ন-ধ-ন-র্স ,
অবরোহণে: ম-গ-ম-র-স
তথ্যসূত্র:
- মগনগীত ও তান মঞ্জরী। প্রথম খণ্ড। চিন্ময় লাহিড়ী। প্রকাশিকা শ্রীমতী ইলা
লাহিড়ী। ১৪ এপ্রিল, ১৯৮৫। পৃষ্ঠা: ৩১
- মারিফুন্নাগমাত।
রাজা নওয়াব আলী খান। অনুবাদ মকসুদুর রহমান হিলালী। বাঙলা একাডেমী বর্ধমান
হাউস। ঢাকা। পৃষ্ঠা: ৮৭-৮৮।
- রাগ বিজ্ঞান অভিধান। নিত্যানন্দ কর্মকার। প্রগ্রেসিভ
পাবলিশার্স কলকাতা। পৃষ্ঠা: ১
- রাগ রূপায়ণ (প্রথম খণ্ড )। সুরেশ চক্রবর্তী। জেনারেল প্রিন্টার্স য়্যান্ড পাব্লিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড সেপ্টেম্বর ১৯৬৫। পৃষ্ঠা: ১০০।
-
রাগশ্রেণী। ভীমরাও শাস্ত্রী। শান্তিনকেতন প্রেস, ১৩৩৩
বঙ্গাব্দ। পৃষ্ঠা: ৪৮।
- হিন্দুস্থানী সঙ্গীত পদ্ধতি (প্রথম খণ্ড)। মূল গ্রন্থ রচয়িতা পণ্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখণ্ডে। অনুবাদ: অসীমকুমার চট্টোপাধ্যায়, সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মণিকা সাহা। দীপায়ন। মাঘ
১৩৯৮। পৃষ্ঠা: ৩০।