মণিমালা ছন্দ ও তাল
নজরুল সৃষ্ট তাল। এর উৎস সংস্কৃত ছন্দ মন্দাকিনী

সংস্কৃত ছন্দ মন্দাকিনী
অক্ষর সংখ্যা ১২
মাত্রা সংখ্যা ২০
গণবিন্যাস= ' ত য ত য'।

বৈদ্যশ্রীগঙ্গাদাস বিরচিত 'ছন্দোমঞ্জরী'  [দ্বিতীয় সংস্করণ। ১৮৯১। পৃষ্ঠা ৪৯] গ্রন্থের ১২শ বৃ্ত্তির ১৫শ ছন্দ। এই ছন্দের নমুনা  সূত্র- 'তৌ তৌ (মণিমালা) ছিন্না গুহবক্‌ত্রৈঃ'।

                     
তৌ - তৌ - / ণি - লা - /
  ১০  

                     
ছি - ন্না - গু / - ক্‌ত্রৈঃ - /
১১   ১৬ ১৭ ১৮ ১৯  
মণিমালা তাল
সংস্কৃত মণিমালা ছন্দের অনুসরণে কাজী নজরুল ইসলাম, এই তালটি সৃষ্টি করেছিলেন। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে জুলাই (শনিবার, ১০ শ্রাবণ ১৩৪৮) কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে ছন্দিতা নামক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪২ বৎসর ২ মাস। এই অনুষ্ঠানের 'মণিমালা তালে' নিবদ্ধ গানটি ছিল-

মত্তময়ূর তালের পরিচয়
মাত্রা সংখ্যা:
২০
পদ প্রকরণ: ১০/১০
পদ প্রকৃতি: সমপদী।
তালি:
খালি: নাই

নজরুল ইসলামের পাণ্ডুলিপি অনুসরণ করলে দেখা যায়, হ্রস্ব ও দীর্ঘ মাত্রা নির্ণনয়ে তিনি  ২টি সঙ্কেত ব্যবহার করেছেন। তিনি দীর্ঘ মাত্রার জন্য তা এবং হ্রস্ব মাত্রার এক মাত্রা ব্যবহার করেছেন। এছাড়া ছন্দ-বিভাজনে ব্যবহার করেছিলেন , (কমা)।


এই পাণ্ডুলিপি অনুসারে দেখায় যায় ১০ মাত্রার পরে একটি কমা ব্যবহার করেছেন। এই সূত্রে তালটির ছন্দ-বিজান সঙ্কেত হয়- ১০/১০। নজরুল ইসলামের পাণ্ডুলিপি অনুসরণের তালটির কাঠামো নিচের ছকের মতো দাঁড়ায়।

 

+

                   
I

তা

-

তা

-

না

না

তা

-

তা

-

 

১০

 

                    +
তা - - না না তা - তা - I তা
১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮ ১৯ ২০  

ঠেকা

 

+

                   
I

ধা

-

ধিন

-

না

তিন

তিন

-

না

-

 

১০

 

                    +
ধা - ধিন - না তিন তিন - না - I ধা
১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮ ১৯ ২০  

সূত্র :