নৃভাষাতত্ত্ব
Anthropological Linguistics

ভাষাতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এতে ভাষা, মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এই শাখায় ভাষাকে কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনধারা, বিশ্বাস, জ্ঞান, আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও বিশ্বদৃষ্টির বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নৃভাষাতত্ত্ব মূলত ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্ব -এর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আন্তঃবিষয়ক শাস্ত্র।

ব্যুৎপত্তি: নৃভাষাতত্ত্ব ব্যুৎপত্তিগত রূপ হলো-নৃভাষাতত্ত্ব = নৃ+ ভাষা+ তত্ত্ব
সংজ্ঞা: যে শাস্ত্রে ভাষা এবং মানবসমাজের সংস্কৃতি, জীবনধারা, সামাজিক সংগঠন ও বিশ্বদৃষ্টির পারস্পরিক সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে নৃভাষাতত্ত্ব বলে।

নৃভাষাতত্ত্বের উদ্দেশ্য: নৃভাষাতত্ত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো— নৃভাষাতত্ত্বের ইতিহাস: ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা প্রাচীনকাল থেকেই থাকলেও নৃভাষাতত্ত্ব একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বিকশিত হয়।

উনবিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন আদিবাসী ও স্বল্পপরিচিত ভাষার তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার সূচনা হয়।
মার্কিন নৃতত্ত্ববিদ Franz Boas নৃভাষাতত্ত্বের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি উত্তর আমেরিকার আদিবাসী ভাষা নথিভুক্ত করে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন। তাঁর শিষ্য Edward Sapir ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। পরবর্তীকালে Benjamin Lee Whorf ভাষা মানুষের চিন্তা ও বিশ্বদৃষ্টিকে প্রভাবিত করে—এই ধারণা (Sapir–Whorf Hypothesis) উপস্থাপন করেন। বর্তমানে নৃভাষাতত্ত্ব বিপন্ন ভাষা সংরক্ষণ, ভাষাগত নৃতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ভাষা-নথিভুক্তকরণ এবং ভাষা-প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

নৃভাষাতত্ত্বের প্রধান শাখা
নৃভাষাতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নৃভাষাতত্ত্বের প্রধান তত্ত্বসমূহ নৃভাষাতত্ত্বের গুরুত্ব
তথ্যসূত্র :