মনোভাষাবিজ্ঞান
Psycholinguistics

ভাষাতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। মনোভাষাবিজ্ঞান ভাষাতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এতে মানুষের মস্তিষ্কে ভাষা কীভাবে অর্জিত, সংরক্ষিত, উপলব্ধ, উৎপন্ন এবং ব্যবহৃত হয়, তা বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এই শাখা ভাষাতত্ত্ব, মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের (Cognitive Science) সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। মনোভাষাবিজ্ঞান ব্যাখ্যা করে মানুষ কীভাবে ভাষা শেখে, ভাষা বোঝে, বাক্য গঠন করে, কথা বলে, পড়ে, লেখে এবং ভাষাগত তথ্য স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে।

ব্যুৎপত্তি: মনোভাষাবিজ্ঞানের শব্দের ব্যুৎপত্তিগত রূপ হলো-মনোভাষাবিজ্ঞান = মন+ ভাষা+ বিজ্ঞান
সংজ্ঞা: যে শাস্ত্রে মানুষের মস্তিষ্কে ভাষার অর্জন, উপলব্ধি, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের মানসিক প্রক্রিয়া বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে মনোভাষাবিজ্ঞান বলে।

 


সমাজভাষাবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য: মনোভাষাবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য মনোভাষাবিজ্ঞানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—

মনোভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাস: ভাষা ও মনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা প্রাচীনকাল থেকেই থাকলেও মনোভাষাবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে বিংশ শতাব্দীতে বিকশিত হয়। প্রাথমিক পর্যায় উনবিংশ শতাব্দীতে মনোবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্বের বিকাশের সঙ্গে ভাষার মানসিক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার সূচনা হয়।

১৯৫০-এর দশকে নোয়াম চমস্কি -এর ভাষা-অর্জন তত্ত্ব (Language Acquisition Theory) এবং George A. Miller-এর জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞানের গবেষণা মনোভাষাবিজ্ঞানের বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীকালে Jean Piaget, Lev Vygotsky, Eric Lenneberg, Steven Pinker প্রমুখ গবেষক ভাষা-অর্জন, ভাষা-চিন্তা ও জ্ঞানীয় বিকাশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। বর্তমানে মনোভাষাবিজ্ঞান স্নায়ুভাষাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভাষা-প্রযুক্তি, ভাষা-শিক্ষা এবং ভাষা-চিকিৎসাবিজ্ঞানে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মনোভাষাবিজ্ঞানের প্রধান শাখা
মনোভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় মনোভাষাবিজ্ঞানের প্রধান তত্ত্বসমূহ মনোভাষাবিজ্ঞানের গুরুত্ব
সূত্র :