সমাজভাষাবিজ্ঞান
Sociolinguistics

ভাষাতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এতে ভাষা ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশে ভাষার ব্যবহার, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং ভাষার সামাজিক কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। সমাজভাষাবিজ্ঞান ব্যাখ্যা করে সমাজ, সংস্কৃতি, অঞ্চল, শ্রেণি, পেশা, শিক্ষা, বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় এবং সামাজিক অবস্থানের কারণে ভাষা কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং ভিন্ন ভিন্ন রূপে ব্যবহৃত হয়। সমাজভাষাবিজ্ঞান ভাষাকে কেবল একটি ব্যাকরণগত ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক আচরণ (Social Behavior) হিসেবেও বিবেচনা করে।

ব্যুৎপত্তি: সমাজভাষাবিজ্ঞানশব্দের ব্যুৎপত্তিগত রূপ হলো- সমাজভাষাবিজ্ঞান = সমাজ+ ভাষা+ বিজ্ঞান
সংজ্ঞা: যে শাস্ত্রে ভাষা ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রেক্ষাপটে ভাষার ব্যবহার এবং ভাষাগত বৈচিত্র্য বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে সমাজভাষাবিজ্ঞান বলে।

সমাজভাষাবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য: সমাজভাষাবিজ্ঞানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো— সমাজভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাস: ভাষা ও সমাজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা প্রাচীনকাল থেকেই থাকলেও সমাজভাষাবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিকশিত হয়।

মূলত উনবিংশ শতাব্দীতে ভাষার আঞ্চলিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। উপভাষাবিজ্ঞান সমাজভাষাবিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬০-এর দশকে William Labov ভাষার সামাজিক বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক সমাজভাষাবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন। একই সময়ে Dell Hymes ভাষার সামাজিক ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে Ethnography of Communication ধারণা প্রবর্তন করেন। পরবর্তীকালে Joshua A. Fishman, Basil Bernstein, Peter Trudgill প্রমুখ ভাষাবিদ এই শাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করেন। বর্তমানে সমাজভাষাবিজ্ঞান ভাষানীতি, ভাষা-পরিকল্পনা, ভাষা সংরক্ষণ, ভাষা-অধিকার, বহুভাষিকতা এবং ডিজিটাল যোগাযোগের ভাষা বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সমাজভাষাবিজ্ঞানের প্রধান শাখা

সমাজভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় সমাজভাষাবিজ্ঞানের প্রধান তত্ত্বসমূহ সমাজভাষাবিজ্ঞানের গুরুত্ব
সূত্র :