একটি মৌলিক শাখা। তে কোনো ভাষার বাক্যের গঠন, শব্দের বিন্যাস, পদসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাক্যগঠনের নিয়ম বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। বাক্যতত্ত্ব ব্যাখ্যা করে কীভাবে শব্দ ও পদ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন করে এবং ভাষার ব্যাকরণগত নিয়ম অনুসারে বাক্যের কাঠামো নির্ধারিত হয়। রূপতত্ত্ব যেখানে শব্দের অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে আলোচনা করে, বাক্যতত্ত্ব সেখানে শব্দের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর ভাষিক একক—বাক্য—নিয়ে আলোচনা করে।
ব্যুৎপত্তি: বাক্যতত্ত্ব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত রূপ হলো- বাক্যতত্ত্ব= বাক্য+ তত্ত্ব
- বাক্য= এক বা একাধিক পদ দ্বারা গঠিত এমন ভাষিক একক, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ভাব প্রকাশ করে।
- তত্ত্ব = মূলনীতি, বিজ্ঞান বা বিশ্লেষণ।
ইংরেজি Syntax শব্দটি গ্রিক
শব্দটি গ্রিক syntaxis (বিন্যাস, সংযোজন) থেকে উদ্ভূত। এর আক্ষরিক অর্থ ‘একত্রে সাজানো’ বা ‘সুশৃঙ্খল বিন্যাস’।
logos ('শাস্ত্র' বা 'জ্ঞান') থেকে উদ্ভূত।
সংজ্ঞা: যে শাস্ত্রে ভাষার বাক্যগঠন, শব্দবিন্যাস, পদসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাক্যগঠনের নিয়ম বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে বাক্যতত্ত্ব বলে।
বাক্যতত্ত্বের উদ্দেশ্য:
বাক্যতত্ত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—
- ভাষার বাক্যগঠনের নিয়ম নির্ধারণ করা।
- বাক্যে শব্দ ও পদের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা।
- বাক্যের গাঠনিক বিন্যাস বিশ্লেষণ করা।
- বিভিন্ন ধরনের বাক্যকাঠামো নির্ণয় করা।
- ভাষার ব্যাকরণগত নিয়ম ব্যাখ্যা করা।
ভাষার বাক্য-সংগঠনকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা।
বাক্যতত্ত্বের ইতিহাস: পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর ভিতরে বাক্যতত্ত্বের বিকাশ ঘটেছে।
কিন্তু বিষয়ে কিছু উল্লেখযোগ্য ভাষায় বাক্যতত্ত্বের শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
এই বিচারে বাক্যতত্ত্বকে ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন
সভ্যতা অনুসারের বিচার করা হয়। যেমন প্রাচীন ভারত, গ্রিস, আরব, ইত্যাদি
সভ্যতার বিচারে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বাক্যতত্ত্বের বিকাশকে উল্লেখ করা হয়।
- প্রাচীন ভারতে শব্দতত্ত্বের বিকাশ: প্রাচীন ভারতীয় ব্যাকরণে পাণিনি তাঁর অষ্টাধ্যায়ী গ্রন্থে শব্দ, বিভক্তি, কারক এবং বাক্যগঠনের বহু নিয়ম প্রণয়ন করেন। পরবর্তীকালে কাত্যায়ন ও পতঞ্জলি এই আলোচনা আরও বিস্তৃত করেন।
- প্রাচীন গ্রিক ও রোমান শব্দতত্ত্বের বিকাশ:
গ্রিক ব্যাকরণবিদ ডায়োনিসিয়াস থ্রাক্স এবং পরবর্তীকালের রোমান ব্যাকরণবিদেরা পদবিভাগ, বাক্যগঠন ও ব্যাকরণগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের গবেষণা ইউরোপীয় ব্যাকরণচর্চার ভিত্তি স্থাপন করে।
মধ্যযুগ আরব বিশ্ব: মধ্যযুগে আরবি ভাষাবিদের হাতে আরবি
ভাষার বাক্যতত্ত্ব গড়ে উঠছিল।
আধুনিক যুগ: আধুনিক যুগ
উনবিংশ শতাব্দীতে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের বিকাশের পাশাপাশি বাক্যগঠন নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু হয়। বিংশ শতাব্দীতে ফার্দিনান দ্য সসুর-এর কাঠামোবাদী ভাষাতত্ত্ব ভাষার গঠন বিশ্লেষণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে নোম চমস্কি তাঁর