বাংলা
মৌখিক সাহিত্য
লোকমুখে প্রচলিত সাহিত্যের সাধারণ নাম হলো মৌখিক সাহিত্য।
যে কোনো ভাষার উৎপত্তির সৃষ্টির ঊষলগ্ন থেকে এই সাহিত্যের সৃষ্টি।
এই বিচারে বাংলা ভাষায় লোখমুখে প্রচলিত সাহিত্য হলো বাংলা মৌখিক সাহিত্য এবং তা
বাংলা ভাষা সৃষ্টির সূচনাকাল থেকেই সৃষ্টি হয়ে চলেছে।
অঞ্চলভেদ মৌখিক বাংলা ভাষার ভিন্ন ভিন্ন রূপ রয়েছে। এই বিচারে বাংলা মৌখিক
সাহিত্যেরও আঞ্চলিক ভাষাগত রূপ রয়েছে। বাংলা মৌখিক সাহিত্যের বিষয়ানুসারে পাওয়া যায়,
আঞ্চলিক ভাষার লোকগল্প, ছড়া, লোকগান, প্রবাদবাক্য, ধাঁধাঁ, পৌরাণিক কাহিনি, রূপকথা
ইত্যাদি। ভাষার ক্রমবির্তনের ধারায় আঞ্চলিক ভাষার নানা পরিবর্তন ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে।
ভাষার এই পরিবর্তনের ধারার সামগ্রিক রূপটি অনুধাবন করা যেতো, যদি মৌখিক সাহিত্যকে
লিখিত আকারে বা শ্রবণ নমুনা হিসেবে ধারণ করে রাখা যেতো। এই কাজটি করা সম্ভব হয়নি,
কারণ-
- বাংলা ভাষা সৃষ্টির
সূচনালগ্নে লোক কাহিনি লিখে রাখার তাগিদ ছিল না
- বাংলা ভাষার লিখিত
বাংলায় লিখিত সাহিত্যের আদি নুমনা হিসেবে
চর্যাগীতি-কে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এর পরবর্তী সময়ে
ভারার লেখ্যরূপ নিয়ে চর্চা করতেন ধর্মগুরুরা। এসকল রচনায় স্থানীয় শাসকবর্গ
এঁদের সহায়তা করতেন। লোকসাহিত্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণের এঁদের আগ্রহ ছিল না।
বাংলা মৌখিক সাহিত্যের
সংরক্ষণে বিশেষভাবে স্মরণীয় ছিলেন দীনেশচন্দ্র রায়। তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলের দশটি পালাগান
সংগ্রহ করে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর এই সংগৃহীত পালা 'ময়মনসিংহ গীতিকা' নামে
প্রকাশিত হয়। তবে এর আদি সংগ্রাহক ছিলেন- চন্দ্রকুমার দে। সংগৃহীত মৌখিক সাহিত্যের
অপর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো- 'গোপীচন্দ্রের গান বা পালা।
সূত্র :
- গোপীচন্দ্রের গান ।
আশুতোষ ভট্টাচার্যের সম্পাদিত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬১।
- ভাষার ইতিবৃ্ত্ত। সুকুমার সেন। আনন্দ পাবলিশারস্ প্রাইভেট লিমিটেড। নভেম্বর
১৯৯৪।
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত। ডঃ মুহম্মদ শহীদউল্লাহ। মাওলা ব্রাদার্স। জুলাই ১৯৯৮
- বাংলা সাহিত্যের কথা। ডঃ মুহম্মদ শহীদউল্লাহ। মাওলা ব্রাদার্স।