ঊর্ধক্রমবাচকতা
Hypernymy

অর্থতত্ত্ব শব্দতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থগত সম্পর্ক। যে সম্পর্কে একটি সাধারণ অর্থবোধক শব্দ তার অধীনস্থ একাধিক বিশেষার্থক শব্দকে ধারণ করে, তাকে ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা বলে। অর্থাৎ কোনো শ্রেণির সাধারণ নাম (generic term) এবং সেই শ্রেণির অন্তর্গত সদস্যদের নামের মধ্যকার অর্থগত সম্পর্কই ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা। যে শব্দটি সাধারণ বা বৃহত্তর শ্রেণিকে নির্দেশ করে তাকে ঊর্ধ্বক্রমবাচক শব্দ (Hypernym) বলে এবং যে শব্দটি সেই বৃহত্তর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত কোনো নির্দিষ্ট সদস্যকে নির্দেশ করে তাকে অধঃক্রমবাচক শব্দ (Hyponym) বলে।

ব্যুৎপত্তি: ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা = ঊর্ধ্ব + ক্রম + বাচকতা

সংজ্ঞা: যে অর্থগত সম্পর্কে একটি সাধারণ অর্থবোধক শব্দ তার অধীনস্থ এক বা একাধিক বিশেষার্থক শব্দকে ধারণ করে, তাকে ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা বলে।

মানুষের শব্দভাণ্ডারে যত অর্থবোধক নাম, গুণ, ক্রিয়া ও ধারণা রয়েছে, সেগুলোর কিছু আমরা প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধি করি, আবার কিছু অভিজ্ঞতা, কল্পনা ও বিমূর্ত চিন্তার মাধ্যমে উপলব্ধি করি। শব্দার্থতত্ত্ব, শব্দজালিকা
(WordNet) এবং জ্ঞান-প্রতিনিধিত্বমূলক ভাষাতত্ত্বে এ ধরনের প্রতিটি অর্থবোধক ধারণাকে একটি সত্তা (Entity) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রতিটি সত্তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও পরিচয় রয়েছে। এই পরিচয়কে সাধারণ থেকে বিশেষ স্তরে অথবা বিশেষ থেকে সাধারণ স্তরে বিন্যস্ত করলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ঊর্ধ্বক্রমিক শ্রেণিবিন্যাস
(Hierarchical Classification) গড়ে ওঠে। ভাষাতত্ত্বে কোনো সাধারণ শ্রেণির শব্দ এবং সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বিশেষ শব্দগুলোর মধ্যে যে সম্পর্ক থাকে, তাকে ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা বলা হয়।

ভাষাতত্ত্বে কোনো বৃহত্তর শ্রেণির নাম এবং সেই শ্রেণির অন্তর্গত সদস্যগুলোর নামের মধ্যকার অর্থগত সম্পর্ককে ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা বলা হয়। যেমন— যেমন রঙ একটি সাধারণ ধারণা। এর অন্তর্ভুক্ত সাদা, কালো, লাল, নীল, হলুদ ইত্যাদি নির্দিষ্ট রঙ। এখানে রঙ হলো ঊর্ধ্বক্রমবাচক শব্দ
(Hypernym) এবং সাদা, কালো, লাল, নীল ইত্যাদি অধঃক্রমবাচক শব্দ (Hyponyms)

 যা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম নিয়ে স্বাধীনভাবে নিজের অস্তিত্ব প্রকাশ করতে পারে, তাই হলো সত্তা। যে কোনো সত্তাকে ধাপে ধাপে তার পরিচয় তুলে ধরতে গেলে একটি ঊর্ধ্বক্রমিক বিন্যাস সৃষ্টি করে। একে বলা হয় ঊর্ধক্রমবাচকতা । যেমন- সাদা, কালো, লাল, নীল, হলুদ ইত্যাদির সাধারণ ঊর্ধক্রমিক শব্দ স্তর হবে রঙ।

এই ভাবে যদি প্রতিটি শব্দের প্রকৃতি অনুসারে যদি স্তরে স্তরে সাজানো যায়, তাহলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রেণিবিন্যাস
(Hierarchical Classification) সৃষ্ট হবে। উদাহরণ স্বরূপ নিচে ইংরেজি শব্দজালিকা অনুসারে 'মানুষ' নামক প্রজাতির অন্তর্ভুক্তিসমূহ দেখানো হলো-

homo, man, human being, human:
হোমো, মানব, মানবজাতি, মনুষ্য
           => hominid – হোমিনিডি
              => primate – প্রাইমেট
                => placental, placental mammal, eutherian, eutherian mammal অমরাযুক্ত
                   => mammal, mammalian –স্তন্যপায়ী
                      => vertebrate, craniate – মেরুদণ্ডী
                         => chordate কর্ডেট
                            => animal, animate being, beast, brute, creature, fauna প্রাণী
                               => organism, being জীবসত্তা
                                  => living thing, animate thing জীবন্ত বস্তু
                                      => object, physical object দৈহিক লক্ষ্যবস্তু
                                         => physical entity দৈহিক সত্তা
                                             => entity সত্তা

WordNet-এ এই ধরনের শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে প্রতিটি সত্তার অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি স্তরের শব্দ তার নিচের স্তরের শব্দগুলোর ঊর্ধ্বক্রমবাচক এবং উপরের স্তরের শব্দটির অধঃক্রমবাচক হিসেবে সম্পর্কিত থাকে।

এই স্তরগুলিকে এইভাবে প্রকাশ করলে একটি উর্ধ্বক্রমবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে পারি। শব্দজালিকায় উর্ধ্বক্রমবাচক ধারণাকে বলা হয়েছে- ঊর্ধ্বক্রমাবাচকতা (Hypernymy)। আর এই ঊর্ধ্বক্রমনির্দেশকতা নির্দেশক শব্দকে বলা হয়ে  ঊর্ধ্বক্রমবাচক শব্দ (Hypernym) দিয়ে।

ঊর্ধ্বক্রমাবাচকতা শব্দের নিজের উর্ধ্বক্রমবাচক রূপ হবে-


তথ্সূত্র: