রূপতত্ত্ব
Morphology

ভাষাতত্ত্বের একটি মৌলিক শাখা। এতে ভাষার শব্দের গঠন, রূপিম, শব্দগঠনের প্রক্রিয়া এবং শব্দের রূপগত পরিবর্তন বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। উল্লেখ্য, রূপতত্ত্ব ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থবহ একক (রূপিম) কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দ গঠন করে এবং ব্যাকরণগত কারণে শব্দের রূপ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা ব্যাখ্যা করে। ধ্বনিতত্ত্ব যেখানে ধ্বনি নিয়ে এবং বাক্যতত্ত্ব যেখানে বাক্যের গঠন নিয়ে আলোচনা করে, রূপতত্ত্ব সেখানে শব্দের অভ্যন্তরীণ গঠন ও রূপবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করে।

ব্যুৎপত্তি: রূপতত্ত্ব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত রূপ হলো- রূপতত্ত্ব = রূপ + তত্ত্ব
সংজ্ঞা: যে শাস্ত্রে ভাষার শব্দের গঠন, রূপিম, শব্দগঠনের নিয়ম এবং শব্দের রূপগত পরিবর্তন বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে রূপতত্ত্ব  বলে।

রূপতত্ত্বের উদ্দেশ্য
রূপতত্ত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—

রূপতত্ত্বের ইতিহাস: রূপতত্ত্বের ইতিহাস মানবসভ্যতার ভাষাচর্চার ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর ভিতরে রূপতত্ত্বের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু বিষয়ে কিছু উল্লেখযোগ্য ভাষায় রূপতত্ত্ব শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই বিচারে রূপতত্ত্বকে ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন সভ্যতা অনুসারের বিচার করা হয়। যেমন প্রাচীন ভারত, গ্রিস, আরব,  ইত্যাদি সভ্যতার বিচারে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশকে উল্লেখ করা হয়।

মধ্যযুগ আরব বিশ্ব: মধ্যযুগে আরবি ভাষাবিদের হাতে আরবি ভাষার রূপতত্ত্ব গড়ে উঠছিল।

আধুনিক যুগ: ঊনবিংশ শতাব্দীতে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের বিকাশের সঙ্গে শব্দগঠন ও রূপপরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ গুরুত্ব লাভ করে। বিংশ শতাব্দীতে কাঠামোবাদী ভাষাতত্ত্বে রূপিম -কে ভাষার একটি মৌলিক একক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। পরবর্তীকালে উৎপাদক ভাষাতত্ত্ব-এ শব্দগঠনের নিয়ম ও রূপগত কাঠামো নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। বর্তমানে রূপতত্ত্ব ভাষা-প্রযুক্তি, যন্ত্র-অনুবাদ, স্বয়ংক্রিয় শব্দবিশ্লেষণ, প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ
(NLP) এবং অভিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

রূপতত্ত্বের প্রধান শাখা
১. রূপিমতত্ত্ব (Morphemics): রূপিমের প্রকৃতি, শ্রেণিবিভাগ ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করে।
২. শব্দগঠনতত্ত্ব (Word Formation) :উপসর্গ, প্রত্যয়, সমাস, সন্ধি, সংযোজন, সংক্ষিপ্তকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে নতুন শব্দ সৃষ্টির নিয়ম বিশ্লেষণ করে।তীব্রতা স্থিতিকাল  অনুরণন শব্দতরঙ্গ।
৩.
রূপপরিবর্তনতত্ত্ব (Inflectional Morphology): ব্যাকরণগত কারণে শব্দের রূপ পরিবর্তনের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করে।
৪. উৎপত্তিগত রূপতত্ত্ব
(Derivational Morphology): মূল শব্দ থেকে নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে।
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়
  • রূপিম 
    • মুক্ত রূপিম
    • বদ্ধ রূপিম
  • মূল
  • ধাতু
  • প্রাতিপদিক
  • উপসর্গ
  • প্রত্যয়
  • বিভক্তি
  • অনুসর্গ
  • সমাস
  • সন্ধি
  • শব্দগঠন
  • রূপপরিবর্তন
  • উৎপত্তিগত রূপ
রূপতত্ত্বের প্রধান তত্ত্বসমূহ
  • রূপিম তত্ত্ব
  • শব্দ ও প্রতিমা তত্ত্ব
  • পদ ও প্রক্রিয়া তত্ত্ব
  • উৎপাদক রূপতত্ত্ব
  • প্রাকৃতিক রূপতত্ত্ব
  • নির্মাণমূলক রূপতত্ত্ব
রূপতত্ত্বের গুরুত্ব
  • ভাষার শব্দগঠন ব্যাখ্যা করে।
  • ব্যাকরণ রচনার ভিত্তি প্রদান করে।
  • অভিধান প্রণয়নে সহায়তা করে। নতুন শব্দ গঠনের নিয়ম নির্ধারণ করে।
  • ভাষা-শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • যন্ত্র-অনুবাদ ও প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণে (NLP) ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র