('শাস্ত্র' বা 'জ্ঞান') থেকে উদ্ভূত।
সংজ্ঞা:
যে শাস্ত্রে ভাষার শব্দের গঠন, রূপিম, শব্দগঠনের নিয়ম এবং শব্দের রূপগত পরিবর্তন বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে রূপতত্ত্ব বলে।
রূপতত্ত্বের উদ্দেশ্য
রূপতত্ত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—
- ভাষার রূপিম শনাক্ত করা।
- শব্দগঠনের নিয়ম ব্যাখ্যা করা।
- শব্দের রূপগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা।
- উপসর্গ, প্রত্যয় ও বিভক্তির ব্যবহার ব্যাখ্যা করা।
- নতুন শব্দ সৃষ্টির প্রক্রিয়া নির্ণয় করা।
- ভাষার রূপগত কাঠামো বিশ্লেষণ করা।
রূপতত্ত্বের ইতিহাস: রূপতত্ত্বের ইতিহাস মানবসভ্যতার ভাষাচর্চার ইতিহাসের
সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর ভিতরে
রূপতত্ত্বের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু বিষয়ে কিছু উল্লেখযোগ্য ভাষায় রূপতত্ত্ব
শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই বিচারে রূপতত্ত্বকে ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন
সভ্যতা অনুসারের বিচার করা হয়। যেমন প্রাচীন ভারত, গ্রিস, আরব, ইত্যাদি
সভ্যতার বিচারে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশকে উল্লেখ করা হয়।
- প্রাচীন ভারতে ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশ: পাণিনি (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব
পঞ্চম–চতুর্থ শতক) তাঁর বিখ্যাত ব্যাকরণগ্রন্থ অষ্টাধ্যায়ী-তে সংস্কৃত ভাষার
শব্দগঠন, ধাতু, প্রত্যয়, বিভক্তি ও সমাসের একটি সুসংগঠিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। কাত্যায়ন ও পতঞ্জলি এই ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করেন।
- প্রাচীন গ্রিস ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশ:
গ্রিক ও রোমান ব্যাকরণবিদেরা শব্দের শ্রেণিবিভাগ, বিভক্তি ও রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করেন। তবে তাদের গবেষণা মূলত ব্যাকরণকেন্দ্রিক ছিল।
মধ্যযুগ আরব বিশ্ব: মধ্যযুগে আরবি ভাষাবিদের হাতে আরবি
ভাষার রূপতত্ত্ব গড়ে উঠছিল।
আধুনিক যুগ:
ঊনবিংশ শতাব্দীতে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের বিকাশের সঙ্গে শব্দগঠন ও রূপপরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ গুরুত্ব লাভ করে। বিংশ শতাব্দীতে কাঠামোবাদী ভাষাতত্ত্বে রূপিম -কে ভাষার একটি মৌলিক একক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। পরবর্তীকালে উৎপাদক ভাষাতত্ত্ব-এ শব্দগঠনের নিয়ম ও রূপগত কাঠামো নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
বর্তমানে রূপতত্ত্ব ভাষা-প্রযুক্তি, যন্ত্র-অনুবাদ, স্বয়ংক্রিয় শব্দবিশ্লেষণ, প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ