নাইজার-কঙ্গো ভাষা-পরিবার

ইংরেজি :
Niger–Congo language family

আফ্রিকার ি ি। এই পরিবারের ভাষার সংখ্যা প্রায় ১৫১৪। প্রথমদিকে এই পরিবারটিকে সাধারণ আফ্রকার ভাষা হিসাবে পরিচয় দেওয়া হতো। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান ভাষা বিজ্ঞানী সিগিস্‌মুন্ড কোয়েল্লে (
Sigismund Koelle) আফ্রিকার ভাষাগুলোকে খুব সতর্কতার সাথে শ্রেণিকরণ করার উদ্যোগ নেন। এই সময় ইনি একটি পৃথক ভাষা পরিবার হিসাব এই নামটির প্রস্তাব করেন। ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে অপর একজন জার্মান ভাষাবিদ উইলহেল্‌ম ব্লিক (Wilhelm Bleek) এই ভাষা পরিবারের আটালন্টিক গোষ্ঠীর বহু ভাষাকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করেন। এর কয়েক দশক পর জার্মান ভাষাবিদ কার্ল মেইন্‌হফ (Carl Meinhof) পৃথকভাবে 'বান্টু' নামক একটি পৃথক ভাষা গোষ্ঠীর অস্তিত্বের কথা বলেন। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বিচারে ভাষাবিদ ফ্রেড্রিক মুলার (Friedrich Müller) 'নেগ্রো' এবং বান্টু ভাষাগোষ্ঠীকে পৃথক করেন। মেইন্‌হফের শিষ্য ওয়েস্টারম্যান (Westermann) সুদানিক ভাষাসমূহের শ্রেণিবিভাজন করেন। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় ভাষাগুলোর ভিতর সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশিত করতে সক্ষম হন। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পশ্চিম সুদানি ভাষা এবং বান্টু ভাষার ভিতরে যে সম্পর্ক রয়েছে, তা প্রকাশ করেন। ওয়েস্টারম্যান-এর এই গবেষণার সূত্রে জোসেফ গ্রিনবার্গ (Joseph Greenberg) এই বিষয়ে প্রচুর গবেষণা করেন এবং ১৯৪৯-১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তিনি পশ্চিম সুদানি ভাষা এবং বান্টু ভাষাকে একটি ভাষা-পরিবারের অংশ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে বলে মত দেন। এই ভাষা পরিবারের ইনি নামকরণ করেন 'নাইজার-কঙ্গো ভাষা পরিবার'।

এই ভাষা পরিবারের ভাষাগুলোতে, ধ্বনি
মুক্তাক্ষরে উচ্চারিত হয়। ফলে ব্যঞ্জনবর্ণগুলোতে কোনো রুদ্ধ রূপ পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে অক্ষরের ক্ষুদ্র এককটি হয় CV (Consonant Vowel) ধরনের। এই পরিবারের ভাষাগুলোতে ক্রিয়ামূলের সাথে এক বা একাধিক ক্রিয়ামূল যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ তৈরি করে। কিন্তু বিশেষ্য-মূলের পূর্বে উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন নতুন শব্দ তৈরি হয়। এর শব্দের ধ্বনিগত পরিবর্তনও মাঝে মাঝে ঘটে থাকে।

 

 

এই পরিবারে  ৭টি উপ-পরিবার আছে। এই উপ-পরিবারগুলো হলো


আটলান্টিক-কঙ্গো (Atlantic-Congo)
কোর্ডোফানিয়ান (
Kordofanian)
মান্ডে (
Mande )
অনির্দেশিত

 


সূত্র : http://www.ethnologue.com/