('শাস্ত্র' বা 'জ্ঞান') থেকে উদ্ভূত।
ধ্বনিতত্ত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—
- ভাষার ধ্বনিম নির্ধারণ করা।
- ধ্বনির পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা।
- ধ্বনির বিন্যাসের নিয়ম নির্ণয় করা।
- ধ্বনির মাধ্যমে অর্থের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা।
- ভাষার ধ্বনি-সংগঠন বিশ্লেষণ করা।
ধ্বনিতত্ত্বের ইতিহাস:
ধ্বনিতত্ত্বের ইতিহাস মানবসভ্যতার ভাষাচর্চার ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। মানুষ ভাষা ব্যবহার শুরু করার পর থেকেই ধ্বনি, উচ্চারণ এবং শব্দের গঠন সম্পর্কে সচেতনতা জন্ম নেয়। তবে ধ্বনিতত্ত্ব একটি স্বতন্ত্র ভাষাতাত্ত্বিক শাস্ত্র হিসেবে গড়ে ওঠে দীর্ঘ ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমে।
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর ভিতরে
ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু বিষয়ে কিছু উল্লেখযোগ্য ভাষায় ধ্বনিতত্ত্ব
শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই বিচারে ধ্বনিতত্ত্বকে ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন
সভ্যতা অনুসারের বিচার করা হয়। যেমন প্রাচীন ভারত, গ্রিস, আরব, ইত্যাদি
সভ্যতার বিচারে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশকে উল্লেখ করা হয়।
- প্রাচীন ভারতে ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশ: প্রাচীন ভারতের বৈদিক যুগে বেদ সংরক্ষণের জন্য শুদ্ধ উচ্চারণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হতো। বেদের মন্ত্রের উচ্চারণে সামান্য পরিবর্তনও অর্থ ও ধর্মীয় তাৎপর্যে প্রভাব ফেলতে পারে—এই বিশ্বাস থেকেই ধ্বনি-বিশ্লেষণের সূচনা হয়।
খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দে শিক্ষা নামে পরিচিত বেদাঙ্গে ধ্বনির উচ্চারণস্থান, উচ্চারণপ্রণালী, স্বর, মাত্রা ও উদাত্ত–অনুদাত্ত–স্বরিত প্রভৃতি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম ধ্বনিবিষয়ক শাস্ত্রগুলোর একটি।
এরপর পাণিনি (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম–চতুর্থ শতক) তাঁর বিখ্যাত ব্যাকরণগ্রন্থ অষ্টাধ্যায়ী-তে সংস্কৃত ভাষার ধ্বনি, ধ্বনিবিন্যাস ও সন্ধির অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তাঁর শিবসূত্র ধ্বনিগুলোর একটি বৈজ্ঞানিক বিন্যাস, যা আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীদের কাছেও বিস্ময়কর।
পাণিনির পর কাত্যায়ন ও পতঞ্জলি এই ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করেন।
- প্রাচীন গ্রিস ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশ:
প্রাচীন গ্রিসে অ্যারিস্টটল, ডায়োনিসিয়াস থ্রাক্স প্রমুখ ভাষা ও ধ্বনি নিয়ে আলোচনা করলেও তাদের প্রধান আগ্রহ ছিল ব্যাকরণ ও দর্শন। ধ্বনির উচ্চারণ ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে কিছু আলোচনা থাকলেও ভারতীয় ব্যাকরণবিদদের মতো সুসংগঠিত ধ্বনিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ সেখানে দেখা যায় না।
মধ্যযুগ আরব বিশ্ব:
মধ্যযুগে আরবি ভাষাবিদেরা কুরআনের শুদ্ধ তিলাওয়াতের জন্য ধ্বনির উচ্চারণস্থান (মাখরাজ) ও উচ্চারণরীতি নিয়ে বিশদ গবেষণা করেন। তাজবীদ শাস্ত্রে ধ্বনির সূক্ষ্ম পার্থক্য, দীর্ঘতা, নাসিক্যতা এবং উচ্চারণবিধি নির্ধারণ করা হয়।
ইউরোপে এই সময়ে ধ্বনিতত্ত্বের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
আধুনিক যুগ:
ঊনবিংশ শতাব্দীতে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের বিকাশের সঙ্গে ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়ম নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। জ্যাকব গ্রিম-এর