ফকীর উল্লাহ
সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাট ঔরঙ্গজেবের শাসনামলের সেনপতি এবং সঙ্গীতগবেষক।  রাজা মানসিংহ তোমরের রচিত সঙ্গীতবিষয়ক মানকতুহল গ্রন্থের অনুবাদক। এই গ্রন্থের সাথে নিজস্ব মতবাদ যুক্ত করে তিনি রচনা করেছিলেন 'রাগ-দর্পণ' নামক একটি গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি রচনা শেষ করেছিলেন ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।

ফকীর উল্লাহ জন্মকাল সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। ‌এঁর পিতা তরবীয়ৎ খাঁ ফকরুদ্দীন আহ্‌মদ নখ্‌শীর দ্বিতীয় পুত্র। উল্লেখ্য ফকরুদ্দীন তুরান থেকে ভারতবর্ষে এসেছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে (রাজত্বকাল
১৬০৫-১৬২৭ খ্রিষ্টাব্দ)। সম্রাটের দরবারের সাথে যুক্ত হয়ে তিনি অচিরেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠেন। ১৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান সিংহাসন লাভের পর, তিনি দরবারে গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করেন এবং তিনি তরবীয়ৎ খাঁ উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি ১৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রাষ্ট্রদূত হয়ে তুরানে যাব এবং ১৬৪১ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীরের শাসক হন। বিবাহিত জীবনে তরবীয়ৎ খাঁ দুই পুত্র সন্তান লাভ করেন। জ্যৈষ্ঠ পুত্র মীর্জা মুহম্মদ আফজাল নিপুণ তীরন্দাজ ও অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। এঁর অপরপুত্র ছিলেন ফকীরত উল্লাহ।

ফকীর উল্লাহ
শাহজাহান-এর অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনি দক্ষ ও কুশলী যোদ্ধা হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। এই কারণে তিনি শাহজাহান-এর রাজত্বকালে তিনি অস্ত্রাগারের অধকর্তা হয়েছিলেন। সাতশ সৈন্য ও একশ অশ্বারোহৌ সৈন্যের মনসবদার পদ লাভ করেছিলেন।

 

সূত্র :