হযরত খাদিজা (রাঃ)
ইসলাম ধর্মের শেষ নবী
হজরত মুহম্মদ (সাঃ) -এর
প্রথম স্ত্রী।
আনুমানিক ৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশের বনু আসাদ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ,
মাতার নাম ফাতিমা বিনতে জায়েদ।
আরবের প্রাক্-ইসলাম পর্বে, তিনি তাঁর পবিত্র চরিত্র ও সততার জন্য
তিনি 'তাহেরা' (পবিত্রা) নামে খ্যাতি লাভ করেন।
তিনি ছিলেন আরবের অন্যতম সফল নারী ব্যবসায়ী
তাঁর বাণিজ্য কাফেলা,
সিরিয়া-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করত
তাঁর সততা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য তিনি বিশেষ মর্যাদার আসন লাভ করেছিলেন।
খাদিজা রাঃ-এর তিন বার বিবাহ হয়েছিল। এঁরা হলেন-
- প্রথম স্বামী: খাদিজা (রা.)-এর প্রথম বিবাহ হয়েছিল আতিক বিন আবিদ (বা আয়েজ)-এর সাথে। তাঁদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল, যার নাম ছিল হিন্দ। আতিক বিন আবিদের মৃত্যুর
পর তিনি প্রথম বিধবা হন।
-
দ্বিতীয় বিবাহ:
প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর দ্বিতীয় বিবাহ হয় আবু হালা বিন জুরারাহ তামিমি-এর সাথে। আবু হালা ছিলেন আরবের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
তাঁদের ঘরেও সন্তানাদি ছিল। প্রসিদ্ধ বর্ণনা মতে, তাঁদের এক পুত্রের নাম ছিল হিন্দ (মাঝে মাঝে নামের মিলের কারণে বিভ্রান্তি হতে পারে, তবে হিন্দ নাম দিয়ে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই হতো)।
আবু হালার মৃত্যুর পর খাদিজা (রা.) দ্বিতীয় বার বিধবা হন।
-
তৃতীয় স্বামী:
হজরত
মুহম্মদ (সাঃ)। দ্বিতীয়বার
বিবাহের পর খাদিজা সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠেন। সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনার জন্য
তিনি একজন কর্মচারী সন্ধান করতে থাকেন। এই সময়
সততার
জন্য আল-আমিন নামে খ্যাত
হজরত
মুহম্মদ (সাঃ -কে
তিনি বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে
হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-কে তাঁর বাণিজ্যের দায়িত্ব দেন।
তিনি নবিকে এক বাণিজ্য সফর পাঠান। সফর শেষে তাঁর দাস মাইসারা মুহাম্মদ (সা.)-এর অসাধারণ চরিত্রের প্রশংসা করলে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন।
পরবর্তীকালে তিনি নিজেই বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
এই সময় খাদিজা (রাঃ)-র বয়স ছিল ৪০ এবং
হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর
বয়স ছিল ২৫। এই সময় তাঁর গর্ভে তাঁর দুই পুত্র ও চার কন্যার জন্ম হয়। এর মধ্যে সকল পুত্রই শৈশবেই মারা
যান।
পুত্র সন্তান:
- হযরত কাসিম (রা.):
তিনি ছিলেন সবার বড় সন্তান। তিনি অত্যন্ত অল্প বয়সে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।
- হযরত আবদুল্লাহ (রা.): তাঁর জন্ম হয়েছিল নবুওয়াত পরবর্তী সময়ে। তিনিও শৈশবে
মৃত্যুবরণ করেন।
কন্যা সন্তান:
কন্যাদের প্রত্যেকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁরা হিজরতের সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।
- হযরত জয়নব (রা.): তিনি ছিলেন কন্যাদের মধ্যে সবার বড়। তাঁর বিবাহ হয়েছিল আবুল আস ইবনে রবির সাথে।
- হযরত রুকাইয়া (রা.): তাঁর বিবাহ হয়েছিল হযরত উসমান (রা.)-এর সাথে। তিনি হাবশায় হিজরত করেছিলেন।
- হযরত উম্মে কুলসুম (রা.): রুকাইয়া (রা.)-এর মৃত্যুর পর তাঁর বিবাহও হযরত উসমান (রা.)-এর সাথে হয়।
- হযরত ফাতিমা (রা.): তিনি ছিলেন সবার ছোট এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে প্রিয় কন্যা। তাঁর বিবাহ
হয়েছিল হযরত আলী (রা.)-এর সাথে।
জিব্রাইল (আঃ)
দ্বারা
আল্লার বাণীসমূহ ইনি গোপনে প্রচার শুরু করেন। এই বাণীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে
প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন- তাঁর স্ত্রীঁ খাদিজা (রাঃ)। প্রথম তিন বৎসরে
মাত্র ৩০জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। চতুর্থ বৎসরে ইনি প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার শুরু
করেন।
৬১৯ খ্রিষ্টাব্দে হজরত খাদিজা রাঃ ৬৫ বৎসর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, তিনি ১০ই রমজান মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তাঁকে মক্কার জান্নাতুল মুয়াল্লা নামক কবরস্থানে দাফন করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তাঁর কবরে নেমেছিলেন, তবে তখন পর্যন্ত জানাজার নামাজ পড়ার বিধান না আসায় তাঁর জানাজা পড়ানো হয়নি।