![]() |
জাতীয় পতাকা |
আয়তন: ১,৮৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার (৭১,৫০০ বর্গমাইল)।
ভৌগোলিক অবস্থান:
৩২° এবং ৩৮° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৩৫° এবং ৪৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এর মধ্যে অবস্থিত।
এর উত্তরে
তুরস্ক, পূর্ব ও
দক্ষিণ-পূর্বে
ইরাক,
দক্ষিণে জর্ডান এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে
লেবানন ও
ইস্রায়েল
অবস্থিত।
ভূসংস্থান: সিরিয়ার ভূসংস্থানকে পাঁচটি প্রধান ভৌগলিক অঞ্চল ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো-
লেবানন সীমান্ত বরাবর দক্ষিণ দিকে প্রসারিত পর্বতমালা, মধ্য সিরিয়ার বৃষ্টিপাতের পানি ধারণের ক্ষেত্রে জলাধার হিসেবে কাজ করে। এই রেঞ্জের উত্তরে রয়েছে আনসারিয়াহ পর্বতমালা (১৫০০ মিটার, ৫০০০ ফুট)।১. ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল বরাবর সংকীর্ণ উপকূলীয় সমভূমি
২.উপকূলের সমান্তরাল উত্তর-পশ্চিমে আনসারিয়াহ ('আলাওয়াইট) পর্বতমালা, লেবানন-বিরোধী পর্বতমালার পূর্ব ঢাল এবং দক্ষিণ-পূর্বে জাবাল আদ-দুরুজ সহ পাহাড় ও পর্বত অঞ্চল;
৩. আনসারিয়াহ এবং লেবানন-বিরোধী রেঞ্জের পূর্বে চাষকৃত এলাকা, যা উত্তরে প্রশস্ত, হিম এবং দামেস্কের মধ্যে বিচ্ছিন্ন
৪. ইউফ্রেটিস (আল-ফুরাত) নদী দ্বারা প্রবাহিত স্টেপ্প এবং মরুভূমি অঞ্চল
৫. উত্তর-পূর্বে জাজিরা, নিম্ন ঘূর্ণায়মান পাহাড় সহ স্টেপ দেশ।
জাতি:
দেশটিতে নানা জাতের মানুষ বসবাস করে। তবে মূল জাতিগত গোষ্ঠীগুলো হলো- সিরীয়, আরব, গ্রীক, আর্মেনীয়, অশূরীয়, কুর্দি, কার্কাসীয়, মানডিয়ান্স এবং তুর্কি।
ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো হলো- ইসলাম (সুন্নি, শিযা আলবীয়, দ্রুজ, ইসমাইলি, সালাফি, খ্রিষ্টান, মেন্ডীয়বাদী, ও ইহুদি।
মুদ্রা: সিরিয়ান পাউন্ড।
ছুটি: নববর্ষের দিন, ১ জানুয়ারি। বিপ্লব দিবস, ৮ মার্চ। মিশরের বিপ্লব দিবস, ২৩ জুলাই। আরব প্রজাতন্ত্র দিবস ইউনিয়ন,
১ সেপ্টেম্বর। জাতীয় দিবস, ১৬ নভেম্বর। মুসলিম ধর্মীয় ছুটির মধ্যে রয়েছে 'ইদ-উল-ফিতর', 'ইদ-উল-আধা', মিলাদ আন-নবী এবং লায়লাত আল-মিরাজ।
খ্রিষ্টান ধর্মীয় ছুটির মধ্যে রয়েছে ইস্টার (ক্যাথলিক), ইস্টার (অর্থোডক্স). এবং ক্রিসমাস
, ২৫ ডিসেম্বর।
দেশটি জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ছোট ছোট পাহাড়। এর মধ্যে রয়েছে
মাউন্ট আল-দুরুজ পর্বত। এর উচ্চতা ৫,৯০০ ফুট। এছাড়া
রয়েছে আবু রুজমাইন এবং অন্যান্য পর্বতমালা।
পরিবহন: সিরিয়ার জাতীয় রেলপথ প্রায় ২৭১১ কিলোমিটার স্ট্যান্ডার্ড এবং ন্যারোগেজ রেলপথ রয়েছে।
এর ভিতরে যার মধ্যে ২৪৬০কিমি স্ট্যান্ডার্ড গেজ লাইন। রেলপথ তিনটি বিভাগে বিভক্ত।
এগুলো হলো-
২০০২ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত সিরিয়ায় সড়ক পথ
ছিল ৪৫,৬৯৭। যার ভিতরে শুধু ৬৪৮৯ কিমি ছিল পাকা। এর ভিতরে ১০০১ কিমি
ছিল এক্সপ্রেসওয়ে। প্রধান শহরগুলির মধ্যে এবং ইরাক, জর্ডান, লেবানন এবং তুরস্কের সাথে সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।
২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত ১,৮১,৮১৭টি যাত্রীবাহী গাড়ি এবং ২,৯০,০০০টি বাণিজ্যিক যানবাহন ছিল।
১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ইস্রায়েলদেশটির গোলান হাইটসের অঞ্চল
দখল করে নেয়। ফলে প্রাচীন সিরয়ার সাথে বর্তমান সিরিয়ার ভৌগোলিক
মানচিত্রের সাথে মেলা না।
সিরায়ার টারতুস এবং আল লা ঝিকিয়াহ হল প্রধান বন্দর এবং জাবলা ও বানিয়া ছোট বন্দর। সিরিয়ার
২০০২ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত ৯০০ কিলোমিটার নৌযানযোগ্য অভ্যন্তরীণ জলপথ ছিল। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব খুব কম ছিল।
২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সিরিয়ার আনুমানিক ৯২টি বিমানবন্দর ছিল। এসব বিমানবন্দরে
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত, এর মোট ২৬টি পাকা রানওয়ে ছিল এবং সাতটি হেলিপোর্টও ছিল।
সম্প্রচার: সিরিয়ায় রেডিও রেডিও সম্প্রচার শুরু হয় ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে। রেডিও সম্প্রচার প্রধানত আরবি
ভাষায় হয়। তবে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, তুর্কি, রাশিয়ান, হিব্রু এবং জার্মান ভাষায়তে
সম্প্রচার হয়ে ধাকে। । দেশের প্রথম বেসরকারী রেডিও স্টেশন, আল-মদিনা এফএম,২০০৫
খ্রিষ্টাব্দে সালে চালু হয়েছিল।
সিরিয়ান টেলিভিশন সার্ভিস, ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। টেলিভিশন সম্প্রচারের মধ্যে রয়েছে শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, সঙ্গীত, সংবাদ এবং খেলাধুলা।
সিরিয়ার ইতিহাস
এই অঞ্চলে পাথুরের যুগের মানববসতিগুলোতে পাথরের সরঞ্জামসহ হাতি, ঘোড়ার অস্থি পাওয়া
গেছে। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে নিয়ানডার্থলদের অস্থি। মধ্য পাথুরে যুগে পাওয়া গেছে
নাটুফিয়ান সভ্যতা র ধ্বংসাবশেষ। এই সভ্যতার মানুষ মাছ ও পশু শিকার করতো। পরে কৃষির
উন্নয়ন করে এবং বন্য পশুকে গৃহপালিত পশুতে পরিণত করে। খ্রিষ্টপূর্ব ৯ম সহ্রাব্দের
গম চাষের সূত্রপাত হয়েছিল এই অঞ্চলে। এরা মাটির তৈরি পাত্র তৈরি করা শিখেছিল।
খ্রিষ্টয় চতুর্থ সহাস্রাব্দে এরা তামা এবং ব্রোঞ্চের ব্যবহার করা শুরু করে। এই সূত্রে
প্রাচী সিরিয়ায় নগরকেন্দ্রি সভ্যতার উদ্ভব ঘটে।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের দিকে সিরিয়ায় ব্যবিলিনে উদ্ভাবিত কীলকলিপিভিত্তিক লেখন
পদ্ধত চালু হয়। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের মাঝামাঝি সময়ে, সেমেটিক মানুষ সিরিয়া-ফিলিস্তিন এবং ব্যাবিলোনিয়ায়
বসতি স্থাপন করে।
খ্রিষ্টপূর্ব ২৬০০-২৫০০ অব্দের একটি প্রাসাদ নির্মিত হয়েছিল। এই অঞ্চলে প্রায় খপদাই
করা ১৭০০০ মাটির ফলক পাওয়া গেছে।
খ্রিষ্টপূর্ব ২৩২০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এই অঞ্চলের
উরুক অঞ্চলের সুমেরীয় শাসক ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত তাঁর রাজ্য বস্তৃত করেছিল। পরে
মেসোপটেমিয়ার রাজা
সার্গোন এই অঞ্চল দখল করে
নেয়। সার্গোন বা তার বংশধরদের দ্বারা এই নগরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই সময় সিরিয়ার কিছু
অংশ আক্কাদের হাতে চলে যায়।
প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার পাহাড়ী মানুষ যারা প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় জাগ্রোস রেঞ্জের হামাদানের চারপাশে বাস করত।
খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় এবং
দ্বিতীয় সহস্রাব্দ জুড়ে গুটি একটি শক্তিশালী
রাজ্য এই অঞ্চল শাসন করতো।
খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০-৮০০ অব্দের ভিতরে ফিনিশিয়ানদের অধীনে সিরিয়া এবং লেবাননের উপকূলভূমি বরাবর একটি উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।এদের
মাধ্যমে সিরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প এবং সমুদ্রযাত্রার উন্নতি হয়েছিল। এরপর হিট্টাইট, মিশরীয়, অ্যাসিরিয়ান, পারস্য এবং অন্যান্যদের দ্বারা ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করেছিল।
খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের শাসনাধীনে আসে। তাঁর সাম্রাজ্য ভেঙ্গে যাওয়ার পর, সিরিয়ার উপর আধিপত্য নিয়ে সেলিউসিড এবং টলেমাইক উত্তরসূরি রাজ্যগুলি
দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এছাড়া ছিল সুযোগসন্ধানী পারস্যের আক্রমণ করতো।
খ্রিষ্টপূর্ব্ব ১ম শতাব্দীতে, সমস্ত সিরিয়া, লেবানন, প্যালেস্টাইন এবং ট্রান্সজর্ডান রোমানরা
জয় করে নেয়। এই সময় সিরিয়া একটে প্রদেশ পরিণত হয়।
কনস্টানটাইন দ্য গ্রেট কর্তৃক চতুর্থ শতাব্দীর প্রথম দিকে খ্রিষ্টধর্মকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি
দেয়। ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্ক আরবদের অধিকারে জাসে। এই সময় বেশিরভাগ সিরিয়ান ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয় এবং আরবি
ভাষা এই অঞ্চলের প্রধান ভাষায় পরিণত হয়। উমাইয়া খলিফাদের অধীনে, দামেস্ক ইসলামী বিশ্বের রাজধানী এবং আরব বিজয়ের একটি ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। 'আব্বাসীদের অধীনে, খিলাফত বাগদ-এ কেন্দ্রীভূত ছিল এবং সিরিয়া প্রাদেশিক মর্যাদায় সংকুচিত হয়েছিল। এরপরে, সিরিয়া পশ্চিম ইউরোপের বাইজেন্টাইন এবং ক্রুসেডারদের উত্তরাধিকারীদের আক্রমণের শিকার হয় । সিরিয়ার কিছু অংশ কুর্দি রাজবংশ সেলজুকস এবং আইয়ুবিদের অধীনে আসে।
খ্রিষ্টীয় ১৩শ শতাব্দীতে, মঙ্গোলরা প্রায়ই সিরিয়া আক্রমণ করে এবং পরবর্তী
২০০ বছর ধরে সিরিয়ার কিছু অংশ মামলুকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। তখন স্থানীয় গভর্নরদের মাধ্যমে মিশর থেকে
সিরিয়া শাসিত হতো। ১৫১৬ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান সেলিমের অটোমান বাহিনী মামলুকদের পরাজিত করে এবং পরবর্তী চার শতাব্দীর জন্য সিরিয়া অটোমান সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ ছিল ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, মক্কার শরীফ হুসেইন (হুসেন ইবনে-আলি) মিত্রদের সাথে মিলে অটোমান শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। যুদ্ধের পর, ব্রিটিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে,
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ অক্টোবর হুসেনের পুত্র ফয়সাল (ফয়সাল) এর অধীনে আরব বাহিনী দামেস্কে মিত্রবাহিনীর
সাথে প্রবেশ করেছিল। ফয়সাল এবং আরব জাতীয়তাবাদীরা, সিরিয়ায় ফরাসি শাসনের
বিরোধিতা করে এবং ব্রিটিশ সরকার ও হুসেনের মধ্যে চুক্তির শর্তাবলীর অধীনে স্বাধীনতা দাবি করে।
১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে, সিরিয়া, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্বকারী কংগ্রেস দ্বারা ফয়সালকে রাজা ঘোষণা করা হয়।
প্রথমাস্থায় সিরিয়া ব্রিটিশ এবং ফরাসি ম্যান্ডেটে বিভক্ত ছিল। জুন মাসে, ফরাসিরা, যারা সান রেমো চুক্তির দ্বারা সিরিয়া এবং লেবাননের জন্য একটি ম্যান্ডেট বরাদ্দ করা হয়েছিল, তারা ফয়সালকে সরিয়ে দেয় এবং তাদের নিজস্ব পছন্দের স্থানীয় প্রশাসন স্থাপন করে।
আরব জাতীয়তাবাদীরা ফরাসি শাসনে বিরক্ত হয়ে ১৯২৫ থেকে ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত একটি বড় বিদ্রোহ হয়েছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া পর্যন্ত অশান্তি অব্যাহত ছিল।
১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে, ফ্রি ফ্রেঞ্চ এবং ব্রিটিশ বাহিনী ভিচি ফ্রান্সের কাছ থেকে সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয় । দুই বছর পর, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে, ফরাসিরা নির্বাচন এবং জাতীয়তাবাদী সরকার গঠনের অনুমতি দেয়। যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
১৮৪৪ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭
এপ্রিল শেষ ফরাসি সৈন্যরা সিরিয়া ত্যাগ করে
সিরিয়ার স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দুটি দল- জাতীয়তাবাদী দল এবং পিপলস পার্টি, সিরিয়ার রাজনীতিতে
প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৪৮-৪৯ খ্রিষ্টাব্দে প্যালেস্টাইন যুদ্ধ হয়। এই
যুদ্ধে, আরব সেনাবাহিনীর পরাজয় ঘটে এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ১৯৪৮
সেনাবিদ্রোহ হয় ডিসেম্বরে, সেনাবাহিনী দ্বারা সরকারের বিরুদ্ধে দাঙ্গা থামানো হয় এবং বেশ কয়েকটি সেনা দল সিরিয়ার রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করে।
১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে ডিসেম্বর থেকে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত তিনি সিরিয়া শাসন
করেন। পরে তিনি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন।
১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী বণিক জমির মালিক শ্রেণির ব্যয়ে প্যান-আরব এবং বাম রাজনৈতিক শক্তির
উত্থান ঘটে । এই শক্তিগুলির মধ্যে সর্বাগ্রে ছিল আরব সমাজতান্ত্রিক বাথ পার্টি। এই
দলের নেতা ছিলেন গামাল আবদেল নাসের (নাসির)কে দেখেছিল, এক আত্নীয় প্যান-আরবিবাদী।
এবং তিনি সিরিয়ার শাক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ১লা ফেব্রুয়ারি মিশর ও সিরিয়া সিরিয়া ও মিশরের ইউনিয়নকে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র হিসাবে ঘোষণা করা
হয়।
১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে একটি সামরিক
অভ্যুত্থানের পরে, সিরিয়াসংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র থেকে পৃথক হয়ে যায়। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময়
১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ৪ মার্চ পর্যন্ত, বামপন্থী সেনা কর্মকর্তাদের একটি দল নিজেদেরকে
বিপ্লবী কমান্ডের জাতীয় কাউন্সিল বলে ক্ষমতা দখল করে এবং বাথ পার্টির আধিপত্যে একটি
উগ্র সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়।
১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়া হাফেজ আল-আসাদ ক্ষমতায় আসার পর, স্থিতিশীল অবস্থায় আসে।
তিনি জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা অর্জন এবং ইস্রায়েলর দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে গুরুত্ব
দেন। এই লক্ষে সামরিক বাহিনীকে শকতিশালী করা উদ্যোগ নেন। এর ফলে জাতীয় বাজেটে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।
২০০০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর ছেলে বাশার আল আসাদ প্রেসিডেন্ট হন। তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের দিকে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেন। তবে তাঁর সময়ে তাঁরপিতার স্বৈরাচারী শাসন শাসন অব্যাহত রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে চাপা ক্ষোভের কারণে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায় ।