উরুক

সুমেরিয়ান সভ্যতার প্রাচীন নগরী। এই নগরীটির পত্তন করেছিলেন রাজা এমমের্কার। এই সময় থেকে শুরু হয়েছিল- উরুক-যুগ। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০-৩১০০ অব্দের দিকে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব-প্রান্তে উরুক নগরী গড়ে উঠেছিল। এটি প্রাচীন নিপ্পুর নগরী থেকে  দক্ষিণপূর্ব দিকের ১০৮ কিলোমিটার এবং উর নগরী থেকে ৯৩ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে উরুক নগরীটি ছিল। ধারণা করা হয় এই নগরীতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার লোক বাস করতো।

এর বর্তমান নাম ওয়ার্কা। বর্তমানে
ইউফ্রেটিস নদীর এই অংশ জলহীন শুকনো নালার অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি বর্তমান ইরাকের লার্সা নগরী থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্ব এবং সামওয়াহ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খ্রিষ্ট-পূর্ব ৪০০০-৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব-প্রান্তে মানুষ স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলেছিল। প্রথম দিকে এখানকার অধিবাসীরা পশুপালন করতো। ফলে, এদের অনেকেই যাযাবর জীবনযাপন করতো। এদের কিছু মানুষ ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী উর্বর প্রান্তের কৃষিকাজ শুরু করে। এই সূত্রে এখানে স্থায়ীভাবে মানুষ বসতি স্থাপন করায় আগ্রহী হয়ে উঠে। কালক্রমে এখানে গড়ে উঠতে থাকে কৃষি-পল্লী।

প্রথম দিকে এই অঞ্চলে ছোটো গ্রামগুলো দলপতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। ক্রমান্বয়ে গ্রামের সংখ্যা এবং সেই সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ক্ষুদ্র দলপতিদের ভিতর থেকে উদ্ভব হয়েছিল জমিদার। খ্রিষ্টপূর্ব ৩২০০ অব্দের দিকে এই অঞ্চলে বিশাল আকারের জনবসতি গড়ে উঠেছিল। ফলে এখানে বিশাল কৃষিক্ষেত্র গড়ে উঠেছিল। পরে এই অঞ্চল রাংজবংশ দ্বারা শাসিত হওয়া শুরু হয়। এই সূত্র উরুক সামান্য পল্লী থেকে নগররাষ্ট্রে পরিণত হয়। এই নগর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এনমেকারকে বলা হয়। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪০০-৩১০০ খ্রিষ্টপূর্বাদের ভিতরে এই নগর রাষ্ট্র শাসন করেছিলেন এনমেকার। এরপর রাজত্ব লাভ করেন
লুগালবান্দা

সুমেরীয় সাহিত্য 'পাহাড়ের গুহায় লুগলবান্দা' নামক গল্প থেকে জানা যায়-   এনমেকার উচ্চভূমিতে অবস্থিত আরাত্তা রাজ্য দখল করার উদ্দেশ্যে সসৈন্যে অগ্রসর হন। এই বাহিনীর ভিতরে
লুগালবান্দা ছিলেন। যাত্রাপথে লুগালবান্দা অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাঁর ভাইয়েরা কিছু খাবার-সহ তাঁকে একটি গুহায় রেখে যান। দুদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর, তিনি শামাশ , ইনানা এবং নান্না দেবতাদের কাছে তার অসুস্থতা থেকে নিরাময়ের জন্য প্রার্থনা করেন এবং অবশেষে তাদের দ্বারা সুস্থ হন। তাঁকে একটি স্বপ্নে বন্দী পশু বলি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাচীন এই সাহিত্যের শেষের অংশ পুরোপুরি পাওয়া যায় নি, তাই এই গল্পের শেষাংশ জানা যায় নি।

সুমেরীয় সাহিত্যের অপর গল্প 'লুগলবান্দা ও আনজুদ পাখি' থেকে জানা যায়-  প্রাচীন উচ্চভূমি লুল্লুবিতে লুগলবান্দা আনজুদ‌‌ নামক দৈত্যাকার এক পাখির ছানা খুঁজে পেয়েছিলেন। এই পাখিকে বলা হয়েছে সিংহের মাথাযুক্ত ঈগল। লুগালবান্দা ক্ষুধার্ত এই ছানাকে খাবার দেন। কিছুক্ষণ পরে মা পাখিটি ফিরে এসে- তার শাবকের সাথে লুগলবান্দার সদয় আচরণ সম্পর্কে অবগত হয়ে- খুশি হন এবং এই পাখি তাঁকে অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে ভ্রমণের ক্ষমতা দান করে। এই ক্ষমতার বলে- আরাত্তা রাজ্যের পথে যাওয়া এনমেকারের সাথে যুক্ত হতে সক্ষম হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এনমেকার আরাত্তা শহর একবছর ধরে অবরোধ করে রাখার পরও দখল করতে সক্ষম হলেন না। ফলে এনমেকার নিজ রাজ্যে ফিরে আসেন।


শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল 'মেশ-কি-আনং-গাশের'। পরে মেশ-কি-আনং-গাশের'-এর পুত্র এনমের্কার এখানে নগর পত্তন করেন। কালক্রমে এই নগরীটি হয়েছিল সুমেরীয় সভ্যতার প্রধান নগরী।


খ্রিষ্টপূর্ব ২৬০০ থেকে ২৫০০ অব্দের ভিতরে উর-এর রাজা
মেসানেপাদা উরুকের রাজা লুগাল-কিতুনকে পরাজিত করে, তাঁর রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত করেন।