তুরস্কের পতাকা

তুরস্ক
ইংরেজি: Turkey
পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোজক রাষ্ট্র। রাজধানীর নাম আঙ্কারা। উল্লেখযোগ্য শহর ইস্তাম্বুল।

ভৌগোলিক অবস্থান: ৩৯°৫৫' উত্তর ৩২°৫০'' পূর্ব। এর উত্তর কৃষ্ণ সাগর; উত্তর-পূর্বে জর্জিয়া; পূর্বে আজারবাইজান ও ইরান; দক্ষিণে সিরিয়া, ইরাক ও ভূমধ্যসাগর; পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর, গ্রিস ও বুলগেরিয়া।
আয়তন:
৭,৮৩,৩৫৬ বর্গকিলোমিটার (৩,০২,৪৫৫ বর্গমাইল)।

জনসংখ্যা:
২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের অনুমানিক হিসাব ৮,০৮,১০,৫২৫।
ভাষা: তুর্কি। ইতিহাস: মূলত বর্তমান তুরস্কের অধিকাংশ অঞ্চলের প্রাচীন নাম হলো এশিয়া মাইনর বা আনাতোলিয়া। এই অঞ্চলটির উত্তরে কৃষ্ণসাগর, পশ্চিমে অজিয়ন সাগর এবং দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর। এই উপদ্বীপের পশ্চিম দিকের অজিয়ন সাগর থেকে একটি প্রণালী বের হয়ে মার্মারা সাগরের সাথে মিলিত হয়েছে। এই প্রণালীটি দার্দানেলেস নামে পরিচিত। আর উত্তরের কৃষ্ণসাগরের সাথে মার্মারা সাগরের সংযোগ সাধন করেছে বসফোরাস প্রণালী। মূলত বসফোরাস প্রণালী এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।

আনাতোলিয়াকে বলা হয় ইন্দো-ইউরোপীয়ান ভাষাভাষীদের আদি সূতিকাগার। এই অঞ্চলের গোবেক্লি টেপে (
Göbekli Tepe)-তে পাওয়া গেছে পৃথিবীর প্রাচীন সমাধিফলক। এই ফলকগুলো তৈরি করেছিল পাথুরে যুগের শিকারীর জনগোষ্ঠী। এখান থেকে বন্য পশু হয়েছিল গৃহপালিত পশুতে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেই সময়ে এরা প্রয়োজনীয় উদ্ভিদের চাষ এবং পরিচর্যার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেছিল। এই অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৩টি কৃষিভিত্তিক প্রাচীন নগরী। এগুলো হলো- কুর্গান উপপ্রমেয় ( Kurgan hypothesis)
অনুসারে, জানা যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ অব্দ থেকে ১০০০ অব্দের ভিতরে আনাতোলিয়ায় বসবাসকারীদের একটি বিশাল অংশ বলকান এবং ককেশাশ অঞ্চলে প্রবেশ করে। পরে এই সকল অঞ্চল অতিক্রম ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দিকে চলে আসে। আর আনাতোলিয়ায় থেকে যাওয়া জনগোষ্ঠী রাজ্য স্থাপন করে বসবাস করতে থাকে।

আনাতোলিয়ান উপপ্রমেয় (Anatolian hypothesis)
খ্রিষ্টপূর্ব ৯৮০০-৭০০০ বৎসর আগে আনাতোলিয়ার নব্য প্রস্তরযুগের সূচনা হয়েছিল। এই সময় এই অঞ্চলের মানুষ যে ভাষায় কথা বলতো, সেই ভাষাই ছিল প্রাগ-ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা। তবে আনাতোলিয়ান উপপ্রমেয়ের সমালোচনা করে কোনো কোনো ভাষা বিজ্ঞানী এই অভিমত দিয়েছেন যে, আনাতোলিয়াতে  প্রাগ-ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা'র মানুষ বাস করতো আদি ব্রোঞ্জযুগ পর্যন্ত। এই বিচারে খ্রিষ্টপূর্ব ৬৫০০ বৎসর পর্যন্ত প্রাগ্‌-ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার মানুষ আনাতোলিয়াতে বসবাস করতো, এমনটা অনুমান করা যায়।

আনাতোলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আদি রাজ্য স্থাপিত হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ২৪শ শতাব্দীতে। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে স্থাপিত এই রাজ্যের নাম ছিল আক্কাদিয়ান। এই সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য সম্রাট ছিলেন আক্কাদের সার্গোন (
Sargon of Akkad)। এই সম্রাট আক্কাদিয়ান এবং সুমেরিয়ান ভাষা-ভাষীর লোকদের একত্রীভূত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই অঞ্চলের আদিবাসীদের ভাষাকে ভাষাতাত্ত্বিকরা নামকরণ করেছেন হাট্টিয়ান (Hattian)। এরা বাস করতো মধ্য আনতোলিয়াতে। পক্ষান্তরে মেসোপটেমিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং আনাতোলিয়াতে বাস করতো হুরিয়ান (Hurrian) ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীঁ।  খ্রিষ্টপূর্ব ২১শ শতাব্দীতে আক্কাদিয়ান রাজ্যের পতন ঘটে। আক্কাদিয়ান জনগোষ্ঠীরে উত্তর শাখার নাম ছিল আসুরিয়ান। এরা মেসেপোটেমিয়া এবং আনাতোলিয়া অঞ্চলের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ১৮শ শতাব্দীতে আনাতোলিয়ার অধিবাসীরা শক্তিশালী হয়ে উঠে। সেই সূত্রে হাট্টুসা জাতি আনাতোলিয়াতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

১৭৫০ খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দে আনাতোলিয়ার ব্রোঞ্জ যুগে রাজা পিথানা (Pithana) আনাতোলিয়ার ক্ষমতা দখল করেন এবং এই রাজার হাতে প্রাচীন কুসারা (Kussara) নগরী গড়ে উঠেছিল। তিনি নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন এবং কনেশ নগরী দখল করেন। উল্লেখ্য এই নগরী ছিল হিটাইট ভাষাভাষীদের কেন্দ্রীয় অঞ্চল।

খ্রিষ্টপূর্ব ১১শ শতাব্দী পর্যন্ত এই সাম্রাজ্য প্রবলভাবে এই অঞ্চল শাসন করেছে। খ্রিষ্টপূর্ব ১১৮০ অব্দে হাট্টুসা সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এই সময় ক্ষমতায় আসে নব্য-হাট্টুসা জনগোষ্ঠী। খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দ পর্যন্ত এরা আনাতিলিয়া শাসন করে। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর দিকে পারস্য সম্রাট আনাতোলিয়া আক্রমণ করে দখল করে নেয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৬৯৯ অব্দে আর্মেনিয়ান জনগোষ্ঠী পশ্চিম আনাতোলিয়া বিদ্রোহ করে। এর ফলে উভয় শক্তির মধ্যে যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধ শেষ হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৪৪৯ অব্দে। পারশ্য-শক্তি পরাজিত হলে, আনাতোলিয়ার অধিবাসীরা স্বাধীনতা লাভ করে।

খ্রিষ্ট-পূর্ব ৩৩৪ অব্দে আলেকজাণ্ডার এই অঞ্চল দখল করে নেয়। আলাকেজান্ডারের মৃত্যুর পর এই অঞ্চলের গ্রিকশক্তির আধিপত্য দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপর হেলেনিক কিছু রাজা এই অঞ্চল শাসন করে। এরপর রোমান রাজা শক্তি শক্তিশালী হয়ে উঠলে, এই অঞ্চলে গ্রিক আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হয় এবং রোমানরা পশ্চিম ও মধ্য আনাতোলিয়া দখল করে নেয়। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে এই অঞ্চলটি আর্মেনিয়ানদের অধিকারে আসে। পরবর্তী সময় আনাতোলিয়া রোমান আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। রোমান সাম্রাজ্য বিভাজিত হলে, এই অঞ্চলে বাইজেন্টিয়ান সাম্রাজ্যের পত্তন ঘটে। আরব ভূখণ্ডে ইসলাম ধর্মের বিকাশের পর আরবদের ক্রমাগত আক্রমণে মধ্য-এশিয়া এবং এশিয়া মাইনরে বাইজাইন্টান ও গ্রিক আধিপত্য বিলুপ্ত হয়।

এই সময় মাওয়ারান নদীবর্তী অঞ্চলে ওঘুজ ভাষাভাষী নামক একটি জাতি বসবাস করতো।  এই ভাষাটি ছিল তুর্কি ভাষার আঞ্চলিক রূপ। এই কারণে এদেরকে তুর্কি নামেও অভিহিত করা হয়। জন সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খাদ্যাভাব দেখা দিলে- খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর দিকে তুর্কিদের একটি বিরাট অংশ আনাতোলিয়াতে চলে আসে। এছাড়া এদের অন্যান্য অংশ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়ে। ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এমনই একট বড় দল জেইহুন নদীর তীরে আবসস্থল গড়ে তোলে। এই সময় এদের কিছু মানুষ তাবারিস্তান এবং জুরজান অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। ৬৪১ খ্রিষ্টাব্দে নিহাবেন্দ যুদ্ধের পর ইরানের সাসানী রাজ্যের পতনের পর এবং ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ জুড়ে ইসলাম ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে। এই সূত্রে এই অঞ্চলের তুর্কিদের অধিকাংশই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। ৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বাহিনী তুর্কি অধ্যুসিত বিশাল অঞ্চল দখল করে।  অষ্টম শতাব্দীতে ওঘুজ ইয়াবগু রাজ্য নামে একটি সম্মিলত জনবসতি তৈরি হয়েছিল। এই সময় ওঘুজদের বেশিরভাগই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। ধীর ধীরে তুর্কি অন্যান্য জনগোষ্ঠীগুলোর সাধারণ নাম হিসেবে প্রচলিত হয়েছিল তুর্কমেন।

তুর্কিমেনদের ওঘুজ কাইনিক গোত্রের সাহসী যোদ্ধা ছিলেন সেলজুগ বেগ। এঁর পিতা ছিলেন তাকাক। সেলজুকের এঁর প্রকৃতি নাম ছিল তৈমুর ইয়ালিগ। এই নামের অর্থ ছিল- লোহার ধনুক। আনুমানিক ৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আরল ও কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসবাস করতো। এরা তখন বর্তমান তাজাখস্তানের নিম্নভাগে আমু দরিয়ার ডান দিকের তীরে বসতি গড়ে তুলেছিল।

এই গোত্রের প্রধান সেলজুক বেগের নামনুসারে তাঁর গোত্রের নাম 'সেলজুক' নামে অভিহিত থাকে। সেলজুগ বেগের চার পুত্রের নাম ছিল -মিকাইল বেগ, ইস্রাইল বেগ, মুসা বেগ এবং ইউনুস বেগ।  ১০২০ থেকে

সেলজুক বেগের পুত্র মুসা বেগ এবং  মিকাইল বেগের পুত্র তুঘরিল ও চাঘারি

আনুমানিক ১০৩৮ খ্রিষ্টাব্দে  সেলজুক বেগ জাণ্ডে মারা যান।

১০৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মে গজনভিদ রাজ্যের সাথে দণ্ডাকানানের যুদ্ধে মিকাইল বেগ এবং চাঘারি  যুদ্ধ হয়।

এদের ভিতরে মিকাইল বেগ শক্তি সঞ্চয় করে একটি রাজ্য গড়ে তোলেন।  মিকাইল বেগের তুই পুত্রের নাম ছিল তুঘরিল বেগ ও চাগারি বেগ। এই দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে সেলজুকরা খুরাসানে চলে আসে।

সেলজুক বেগ মৃত্যুর আগেই ১০৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর পুত্র  আরসালনকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার হিসেবে ঘোষণা দেন। ১০৩৮ খ্রিষ্টাব্দে  সেলজুক বেগের  মৃত্যুর পরে, আরসলান বেগ ক্ষমতা লাভ করেন।  

 এই যুদ্ধে সেলজুক অধিপতি মিকাইল বেগ বিজয়ী হন। এই বিজয়ের ফলে খোরাসান রাজ্য সেলজুকদের অধিকারে আসে। এরপর আরসলান বেগ তাঁর সৈনবাহিনীকে শক্তিশালী করেন। ১০৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, তুঘরিল বেগ বাগদাদ নিজ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।  নিজেকে আব্বাসীয় খলিফার রক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  সে সময়ে আব্বাসীয় খলিফ তুঘ্রিল বেগকে সুলতান হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

 এদিকে, মিকাইলের ছেলেরা তুগরুল বা তুঘরিল এবং চাঘরি ১৪-১৫ বছর বয়সে প্রশাসনে "বেগ" হিসাবে স্থান লাভ করেন। যদিও আরসলান ইয়াবগু পরিবারের প্রধান ছিলেন, তবুও সেলজুকের ছেলেরা এবং নাতি নাতনিরা তুর্কিমান বেগস এবং তাদের সাথে যুক্ত অন্যান্য বাহিনীকে পুরানো ওঘুজ ঐতিহ্যের ম সাথে সামঞ্জস্য রেখে আধা-সংযুক্ত পদ্ধতিতে শাসন করেছিলেন  


https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%95_%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97


১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে আনাতোলিয়ায় রুম সালতানাতের সূচনা হয়। এই সালতানাতের প্রথমে রাজধানী ছিল ইজনিক। পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়ে কোনিয়াতে। অনেকে সময় অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে কায়সারি ও সিভাস নামক দুটি শহরও ব্যববহৃত হতো।

১০৯২ খ্রিষ্টাব্দে মালক শাহ মৃত্যুবরণ করলে, কিলিজ আরসালানকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই সময় তিনি ক্ষমতা লাভ করেন।

এবং স্বধা ক্ষমতা লাভ


১২১৯ খ্রিষ্টাব্দে চেঙ্গিশ খান মধ্য এশিয়ায় অভিযান চালান। এই সূত্রে ১২২৫ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে তিনি পীত সাগর থেকে শুরু করে ইরান, ইরাক, এবং দক্ষিণ রাশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে সাম্রাজ্য স্থাপন করেন।

১২৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই জানুয়ারি রুম সালতানাতের নেতা উসমান স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এই সময় কায়ি গোত্রের খান উপাধি ধারণ করে, তার নাম হয় উসমান খান। [ক্রমশ...]