রঞ্জিত সিংহ
(১৭৮০-১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দ)
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর ভারতের গুজরানওয়ালা-তে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহন সিংহ
ছিলেন শিখ রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর তিনি শিখ
গোষ্ঠীর প্রধান পদ লাভ করেন। তিনি প্রধান পদ লাভের পর, গুজরানওয়ালা শহর এবং
আশাপাশের শিখ-প্রধান এলাকাগুলোকে একত্রিত করেন।
১৭৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি স্থানীয় কানহায়ার একজন সর্দারের কন্যা মেহতাব কউরকে বিবাহ করেন। পরে
তিনি নাক্কাইদ গোষ্ঠীর একটি কন্যাকে বিবাহ করলে তিনি শক্তিশালী সামন্ত রাজায় পরিণত
হন। এই বিবাহের সূত্রে তিনি শিখদের অন্যতম নেতায় পরিণত হন। এরপর তিনি তাঁর
সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন। একই সাথে স্থানীয় শিখ গোষ্ঠীগুলোর সাথে
সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করতে থাকেন। এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে
তিনি সর্দার রান সিংহ নাকাই-এর কন্যা দাতার কাউরকে বিয়ে করেন ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে।
১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তৎকালীন পাঞ্জাবের
রাজধানী লাহোর দখল করেন। সে সময়ে আফগান সুলতান জামান শাহ তাঁকে লাহোরের প্রশাসক
হিসেবে নিয়োগ দেন। ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিজেকে পাঞ্জাবের মহারাজা ঘোষণা করেন।
এরপর তিনি শিখ গুরুদের নামে মুদ্রা তৈরি করেন।
১৮০১ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর দ্বিতীয় রানী দাতার কাউরের গর্ভে
জন্ম গ্রহণ করেন কারাক সিংহ।
১৮০২ খ্রিষ্টাব্দে শিখদের পবিত্র নগরী
অমৃতসর
দখল করেন। এরপর তিনি ছোট ছোট শিখ রাজ্যগুলো দখল করা শুরু করেন।
১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে মেহতাব কাউরের গর্ভে তাঁর প্রথম সন্তান ঈশ্বর সিংহের জন্ম হয়। এই
সন্তান এক বছর বয়সে মৃত্যবরণ করেন।
১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় রানী দাতার কাউরের গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন
কুনওয়ার রতন সিংহ।
১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে
ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তি করেন। এই
চুক্তির সূত্রে ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মারাঠা বাহিনীকে পরাস্ত ও বিতারিত করতে
সমর্থ হন। এই বছরে দাতার কাউরের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন তাঁর তৃতীয় সন্তান ফাতহ সিংহ।
১৮০৭ খ্রিষ্টাব্দে মেহতাব কাউরের গর্ভে জমজ পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। এঁদের নাম
ছিল শের সিংহ এবং তারা সিংহ। এই সময় তিনি রঞ্জিত সিংহ জ্বাওয়ালামুখিতে
অবস্থান করছিলেন। এরপর তিনি অমৃতসর নগরীতে গিয়ে তাঁর সন্তনদের জন্ম উপলক্ষে
উৎসবের আয়োজন করেন। এরপর তিনি লাহোরে ফিরে যান।
১৮১১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বিধবা এবং দয়া কাউরকে বিবাহ করেন।
১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর স্ত্রী মেহতাব কাউর মৃত্যুবরণ করেন।
১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দে দাতার কাউরের মুসলিম দাসী রতন কাউরের গর্ভ জন্মগ্রহণ করেন মুলতান
সিংহ।
১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে রানী দয়া কাউরের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন- কাশিমরা সিংহ এবং
পেশোয়ার সিংহ
১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জিন্দ কাউরকে বিয়ে করেন।
১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে জিন্দ কাউরের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর শেষ পুত্র দলীপ সিংহ।
১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই সময় জিন্দ কাউরের পুত্র দলীপ
সিংহ নাবালক থাকায় তাঁকে সহমরণে যেতে হয় নি। বাকি সকল রানিকে সহমরণে যেতে
হয়েছিল।