হযরত সাওদা (রাঃ)
ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হজরত মুহম্মদ (সাঃ) -এর দ্বিতীয় স্ত্রী। ৬১৯ খ্রিষ্টাব্দে হযরত খাদিজা (রাঃ)-এর মৃত্যর পর এঁকে বিবাহ করেছিলেন।

তিনি মক্কার কুরাইশ বংশের 'বনু আমির ইবনে লুয়াই' শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জামআ ইবনে কায়েস এবং মাতার নাম শাম্মাস বিনতে কায়েস। তিনি অত্যন্ত দীর্ঘদেহী এবং গম্ভীর প্রকৃতির নারী ছিলেন।

ইসলাম ধর্মের শুরুর দিকেই তিনি তাঁর প্রথম স্বামী সাকরান ইবনে আমর-এর সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। কুরাইশদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তাঁরা দুইজনেই দ্বিতীয় দফায় হাবশায় (আবিসিনিয়া) হিজরত করেছিলেন। হাবশা থেকে ফিরে আসার পর মক্কায় তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। বিধবা অবস্থায় সাওদা (রা.) এক চরম সংকটের মুখে পড়েন, কারণ তাঁর বাবার পরিবার তখন পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেনি।

হযরত  খাদিজা (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) মানসিকভাবে অত্যন্ত একা হয়ে পড়েছিলেন এবং ছোট সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবকের প্রয়োজন ছিল।   ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে হজরত তাঁর ৫১ বৎসর বয়সে, তাঁকে বিবাহ করেন। এই সময় তাঁর বয়স ছিল ৫০ বৎসর। মহানবী (সা.)-এর ফুফু হযরত খাওলা বিনতে হাকিম (রা.)-এর প্রস্তাবে সাওদা (রা.)-এর সাথে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়।    

নবুওয়াতের দশম বছরে মহানবী (সা.)-এর ফুফু হযরত খাওলা বিনতে হাকিম (রা.)-এর প্রস্তাবে সাওদা (রা.)-এর সাথে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৫০ বছর। তিনি অত্যন্ত মমতা দিয়ে মহানবী (সা.)-এর ছোট সন্তানদের (বিশেষ করে হযরত ফাতিমা ও উম্মে কুলসুম-কে) দেখাশোনা করেন।

তিনি অত্যন্ত দানবীর ছিলেন। হযরত ওমর (রা.) একবার তাঁকে এক থলি দিরহাম পাঠালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেন।  জীবনের শেষ দিকে তিনি তাঁর জন্য নির্ধারিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়টুকু হযরত আয়েশা (রা.)-কে দান করেছিলেন, যেন তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রী হিসেবেই জান্নাতে থাকতে পারেন। গম্ভীর প্রকৃতির হলেও তিনি মাঝে মাঝে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আনন্দ দেওয়ার জন্য মজার কথা বলতেন।  

হযরত সাওদা (রা.) হযরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালের শেষের দিকে (২২ হিজরি / ৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে) মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হযরত সাওদা (রা.) সন্তানাদি: ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সীরাত গ্রন্থসমূহ (যেমন: আল-ইসাবা বা উসদুল গাবাহ) অনুযায়ী, তাঁদের এক পুত্র সন্তান ছিল। তাঁর নাম ছিল আবদুর রহমান ইবনে সাকরান। তিনি তাঁর পিতামাতার সাথে ইসলামের প্রাথমিক যুগেই মুসলিম হয়েছিলেন এবং তাঁদের সাথে হাবশায় (আবিসিনিয়া) হিজরত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি একজন সাহসী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি পারস্য বিজয়ের ঐতিহাসিক জালুলার যুদ্ধে (১৬ হিজরি / ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দ) অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শাহাদাত বরণ করেন।

উল্লেখ্য যে, কোনো কোনো ইতিহাসবিদ সাওদা (রা.)-এর আবদুল্লাহ নামে আরেকজন পুত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী 'আবদুর রহমান'-এর নামই অধিক প্রসিদ্ধ। সাওদা (রা.) যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন তিনি তাঁর এই সন্তানদের নিয়েই মহানবী (সা.)-এর ঘরে এসেছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন।