সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়
১৯৩১-২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী।
১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের
৪ অক্টোবর
কলকাতার
ঢাকুরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ একজন পুলিশ
কর্মকর্তা ছিলেন এবং পরিবারটি ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
ঢাকুরিয়া
তে বসবাস করতেন। পিতার নাম নরেন্দ্রনাথ
মুখোপাধ্যায়, মাতার নাম হেমপ্রভা দেবী। পিতা ছিলেন একজন
রেলের কর্মকর্তা। এঁদের ছয় সন্তানের মধ্যে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ছিলেন সবচেয়ে
ছোট।
পণ্ডিত সন্তোষ কুমার বসু, অধ্যাপক এ টি ক্যানন এবং অধ্যাপক চিন্ময় লাহিড়ীর নিকট তিনি সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নেন। তবে তার গুরু ছিলেন উস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খান,
তার পুত্র উস্তাদ মুনাওয়ার আলী খান । এঁদের কাছে তিনি ভারতীয়
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাঠ গ্রহণ করেন।
১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দি ছবি তারানায় একটি গানে কণ্ঠদান করেন। এরপর তিনি ১৭টি হিন্দি চলচ্চিত্রে নেপথ্য গায়িকা হিসেবে গান গেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত কারণে ১৯৫২
খ্রিষ্টাব্দে তিনি
কলকাতায়
ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৬৬ সালে তিনি গীতিকার
শ্যামল গুপ্তকে বিয়ে করেন। শ্যামল তার অনেক গানের জন্য কথা লিখে দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা তথা
পশ্চিমবঙ্গে আগত লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুদের জন্য তিনি ভারতীয় বাঙালি শিল্পীদের সঙ্গে
গণ আন্দোলনে যোগ দেন এবং তাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাপী
সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির উপলক্ষে তার গাওয়া 'বঙ্গবন্ধু তুমি ফিরে এলে' গানটি মুক্তি পায়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারির উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় পল্টন ময়দানের একটি উন্মুক্ত কনসার্টে অনুষ্ঠান করা
হয়। তিনি এই অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রথম বিদেশি শিল্পী
হিসেবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
তাঁর অনুলিখিত আত্মজীবনী হলো- "গানে মোর কোন্ ইন্দ্রধনু" ।
পরিবার:
স্বামী:
শ্যামল গুপ্ত
কন্যা: সৌমি
সেনগুপ্ত। কলকাতা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।
- জামাতা সিদ্ধার্থ সেনগুপ্ত এবং নাতি রাহুল।