তাজখান কররানী
বাংলার কররানী রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা

প্রথম জীবনে তাজখান কররানী ছিলেন সম্রাট শেরশাহের অন্যতম উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তিনি শেরশাহের পুত্র ইসলাম শাহের শাসনামলে দক্ষিণ বিহারের শাসনকর্তা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে আদিলশাহের শাসনামলে একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমীরের পদ পান। গোয়ালিয়রে আদিলশাহের রাজদরবারে রাজনৈতিক অরাজকতার কারণে, তাজখান সেখান থেকে পালিয়ে এসে গাঙ্গেয় দোয়াব অঞ্চলে নিজের কতৃর্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

এই কারণে আদিলশাহ তাজখানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ফররুখাবাদের ১৮ মাইল দক্ষিণে ছিব্রা-মউয়ের যুদ্ধে আদিলশাহের কাছে পরাজিত হয়ে- তাজখান এবং তার ভাই আহমদ সুলায়মান পালিয়ে যান এবং খাবাসপুর, তাণ্ডা এবং গঙ্গার তীরবর্তী কিছু গ্রামের জায়গিরদার হিসেবে নিজেদের শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন।  এই সময় তাজখান এবং তাঁর ভাইয়েরা জনগণের নিকট থেকে কর আদায় করতেন। মাঝে মাঝে আশপাশের অঞ্চলে লুণ্ঠনও করতেন। এঁরা একবার দিল্লির সুলতানের প্রায় একশ হাতি দখল করে নেন। এই সময়ে বিপুল সংখ্যক আফগান যুবকরা তাঁর সেনাবাহিনীতে যুক্ত হন। এই অবস্থায় আদিলশাহ তাজখানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী পাঠান।

১৫৫৪ খ্রিষ্টাব্দে আদিলশাহের সেনাপতি হিমুর নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নিকট এঁরা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যান।  বাংলার আফগান দলপতিদের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে  তাজখান ও সুলায়মান নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেন। অবশেষে তাজখান সুলতান তৃতীয় গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহকে হত্যা করে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ১৫৬৩ খ্রিষ্টাব্দে কররানী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এ‌ই ঘটনার পর পরই তাজখান মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর সুলতান হন সুলায়মান খান কররানি।