বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: আমি গো-রাখা রাখাল
আমি গো-রাখা রাখাল।
যারা গোপের মতন চির-সরলমন
─
তাদেরি সাথে আমি খেলি চিরকাল গো॥
নয়ন বুঁজে ধ্যানী আমারে খুঁজে যে গিরি-গুহায়,
(সেই) গিরি ধরিয়া রহি গিরিধারী ওরা দেখিতে না পায়।
আমি নন্দ-লালার বেশে
কাছে আসি মৃদু হেসে,
ওরা ভাবে হরি শুধু বিপুল বিশাল॥
(ওরা প্রেম যে পায়নি,
ওরা সহজে গোপীর মত ভালোবেসে চায়নি
প্রেম যে পায়নি!)
-
ভাবসন্ধান: এই গানে ব্রজধামের লীলাময় কৃষ্ণ আত্ম-পরিচয় দিয়ে বলেছেন- 'আমি
গো-রাখাল'। যাঁরা গোপের (গো-রক্ষক বা গোয়ালা) মতো চিরসরল মনের অধিকারী,
তাঁদের সাথে তিনি খেলা করেন। চোখ বন্ধ করে যে ধ্যানী গিরিগুহায় কৃষ্কের সন্ধান
করেন, তাঁরা জানেন না, গিরিধারী (কৃষ্ণ) সেই গিরিকে (পাহাড়) ধারণ করে রয়েছেন।
তিনি ধ্যানীর ছোট্ট গুহায় তিনি থাকেন না।
কৃষ্ণ তাঁর লীলায় নন্দের কাছে তাঁর পুত্র রূপে লালিত হওয়ায়, নন্দলালা
নামপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। যখন নন্দলালা রূপে হাসি মুখে তিনি তাঁর অলৌকিক লীলাময়
ক্ষমতা দেখান, ভক্তরা তখন অনুভব করেন শুধু হরির (এখানে বিষ্ণুর অবতার রূপী
কৃষ্ণ) বিপুল আর বিশাল রূপ। কিন্তু তাঁরা হরির প্রেমের মহিমা বুঝতে পারেন না।
কারণ তাঁরা গোপীর মত তাঁকে ভালোবেসে চায় নি।
এই গানের মূল কথা হলো- হরিকে ভয়, ভক্তি, পূজা দিয়ে পাওয়া যায় না। হরির প্রতি
প্রেমই হরিকে পাওয়ার একমাত্র পথ।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৭
ডিসেম্বর তারিখে (শনিবার ২১ অগ্রহায়ণ ১৩৪৭),
কলকাতার
মিনার্ভা থিয়েটারে
দেবেন্দ্রনাথ রাহা রচিত 'অর্জুন বিজয়'
নামক নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। উক্ত নাটকে এই গানটি পরিবেশিত
হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বছর ৬ মাস।
- মঞ্চ:
অর্জুন-বিজয়
(নাটক)। নাট্যকার দেবেন্দ্র রাহা। পরিচালনা শরৎচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়। প্রথম মঞ্চস্থ-
মিনার্ভা থিয়েটার [৭ ডিসেম্বর ১৯৪০ (শনিবার,
২১ অগ্রহায়ণ ১৩৪৭)]। শিল্পী: ইভা। চরিত্র: নন্দবালা।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ
১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১১৩১ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৩৪৫।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব সঙ্গীত। হরি-প্রাপ্তি