বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ওরে আলয়ে আজ মহালয়া মা এসেছে ঘর
ওরে আলয়ে আজ মহালয়া মা এসেছে ঘর।
তোরা উলু দে রে, শঙ্খ বাজা, প্রদীপ তুলে ধর॥
(এলো মা, আমার মা)
মাকে ভুলে ছিলাম ওরে
কাজের মাঝে মায়ার ঘোরে,
আজ বরষ পরে মাকে ডাকার মিলল অবসর॥
মা ছিল না ব'লে সবাই গেছে পায়ে দ'লে,
মার খেয়েছি যত তত ডেকেছি মা ব'লে।
মা এসেছে ছুটে রে তাই
ভয় নাইরে আর ভয় নাই,
মা অভয়া এনেছে রে দশ হাতে তাঁর বর॥
- ভাবসন্ধান: দুর্গাপূজার প্রারম্ভের দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়া নামক
আচারে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সবাইকে
উলু ধ্বনি দিয়ে, শঙ্খ বাজিয়ে এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে মাতৃরূপিণী দেবী দুর্গাকে
আবাহন করা হয়েছে এই গানে।
বৎসরান্তে দেবী আসেন মর্তলোকে। এর মাঝে সংসারের মোহমায়ায় সবাই ভুলে মাতৃভক্তিতে দেবীকে
কাছে পাওয়ার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন। মহালয়া উপলক্ষে সেই মাকে ডাকার অবসর মিলেছে সবার।
মাতৃরূপিণী দেবী রক্ষাকারণী রূপে ছিলেন না বলে, নানা জনে অসহায় মানুষদের উপর
অত্যাচার চলেছে। যতই এরা আঘাতে জর্জরিত হয়েছে, ততই দেবীকে ডেকেছেন। প্রতীক্ষার
অবসান শেষে সেই দেবী
এসেছেন বলেই সবাইকে ডেকে কবি বলছেন- মা এসেছেন এখন আর কোনো ভয় নাই। মা এসেছেন
তাঁদের অভয়বাণী শোনাতে, তাঁর দশহাতে অকল্যাণ দূর করে এনেছে বরাভয়।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪২) মাসে এইচএমভি গানটির রেকর্ড করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৬ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত
সংগ্রহ,[নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ১৩১৫। সংখ্যা
১৩১৫। পৃষ্ঠা:
৩৯৮]
- নজরুলের হারানো গানের খাতা [নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা। আষাঢ় ১৪০৪/জুন ১৯৯৭।
গান সংখ্যা
১৪৪। for
Kamal Gupta (HMV) ।
আগমনী।
পৃষ্ঠা
১৭১]
- রেকর্ড:
- এইচএমভি [অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন-কার্তিক
১৩৪২)। এন ৭৪১৬। শিল্পী: কমল দাশগুপ্ত ও অন্যান্য।]
- সুরকার:
কমল দাশগুপ্ত
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
আহসান মুর্শেদ
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি সাতচল্লিশতম খণ্ড। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। ফাল্গুন ১৪২৫/ফেব্রুয়ারি
২০১৯] পৃষ্ঠা: ৩৪-৩৬। [নমুনা]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু ধর্ম। শাক্ত, মহালয়া
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর
- তাল:
দাদরা [দ্রুত]
- গ্রহস্বর: স