বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: রাখিস্নে ধরিয়া মোরে, ডেকেছে মদিনা আমায়
রাখিস্নে ধরিয়া মোরে, ডেকেছে মদিনা আমায়।
আরাফাত্ময়দান হতে তারি তক্বীর শোনা যায়॥
কেটেছে পায়ের বেড়ি, পেয়েছি আজাদী ফরমান,
কাটিল জিন্দেগী বৃথাই দুনিয়ার জিন্দান-খানায়॥
ফুটিল নবীর মুখে যেখানে খোদার বাণী
উঠিল প্রথম তক্বীর ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি,
যে দেশে পাহাড়ে মুসা দেখিল খোদার জ্যোতি-
রব না দারুল হরবে যেতে দে যেতে দে সেথায়॥
যে দেশে ধূলিতে আছে হজরতের চরণ-ধূলি
সে ধূলি করিব সুরমা চুমিব নয়নে তুলি-,
যে দেশের মাটিতে আছে নবীজীর মাজার শরিফ-
নবীজীর দেহের পুষ্প ভাসে রে যে দেশের হাওয়ায়॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কাজী নজরুল ইসলাম একজন মুমিনের হৃদয়ের গভীর ঈমান, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা এবং মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমিতে গমন ও হজ পালন করার অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে কাব্যিক ভাষায় প্রকাশ করেছেন। পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী মোহ ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য ও নবীপ্রেমে আত্মনিবেদনের আহ্বানই এই গানের মূল প্রতিপাদ্য।
মূলত এখানে কবি একজন গভীর ঈমানদার মুসলমানের হৃদয়ের আকুল আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করেছেন। তাঁর অন্তর মদিনার আহ্বানে উদ্বেলিত। তিনি পার্থিব জীবনের সব বন্ধন ছিন্ন করে ইসলামের পবিত্র ভূমিতে পৌঁছাতে চান। তাঁর কল্পনায় আরাফাতের ময়দান থেকে ভেসে আসছে লক্ষ লক্ষ হাজির একসঙ্গে উচ্চারিত
'তকবীর', 'আল্লাহু আকবার'-এর ধ্বনি। এই আহ্বান তাঁর কাছে এতই প্রবল যে, পৃথিবীর কোনো বন্ধন আর তাঁকে আটকে রাখতে পারে না।
কবি বলেন, তিনি যেন জীবনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির পরোয়ানা পেয়েছেন। দীর্ঘকাল তিনি পৃথিবীর মোহ, ভোগ-বিলাস ও ক্ষণস্থায়ী সুখের কারাগারে বন্দি ছিলেন। এখন তাঁর একমাত্র বাসনা সেই পবিত্র ভূমিতে যাওয়া, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মুখে সর্বপ্রথম আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যেখানে ইসলামের প্রথম তকবীর ধ্বনিত হয়েছিল।
তিনি সেই ভূমিকেও স্মরণ করেন, যেখানে মহানবীর আগের যুগে হজরত মূসা (আ.) আল্লাহর নূর বা জ্যোতির দর্শন লাভ করেছিলেন। তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অশান্তির পৃথিবীতে (দারুল হারব) আর থাকতে চান না; তিনি শান্তি, ঈমান ও পবিত্রতার সেই দেশে যেতে উদ্গ্রীব।
গানের শেষাংশে কবির ভক্তি ও ভালোবাসা চরম আবেগময় ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, যে ভূমিতে মহানবী (সা.)-এর পদধূলি রয়েছে, সেই ধূলিই তাঁর কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তিনি সেই ধূলিকে সুরমার মতো চোখে ধারণ করতে চান। যে দেশের মাটিতে মহানবী (সা.)-এর রওজা মুবারক অবস্থিত এবং যার বাতাস নবীজীর পবিত্র স্মৃতিতে ধন্য, সেই দেশের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা, প্রেম ও আত্মনিবেদনের আকুল প্রকাশ এই গানে ফুটে উঠেছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের
১৫ অক্টোবর (শনিবার ২৯ আশ্বিন ১৩৩৯), '
জুলফিকার'
নামক গীতি-গ্রন্থে
গানটি প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ:
- জুলফিকার
- প্রথম সংস্করণ। ১৫ অক্টোবর ১৯৩২ (শনিবার ২৯ আশ্বিন ১৩৩৯)। ২০ সংখ্যক গান।
আশাবরী পিলু-কার্ফা।
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। চতুর্থ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ
১৪১৪, মে ২০০৭। জুলফিকার।
২০ সংখ্যক গান। আশাবরী পিলু-কার্ফা। পৃষ্ঠা: ৩০৪-৩০৫
-
নজরুল-সঙ্গীত
সংগ্রহ,
[নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। ১৭২১ সংখ্যক গান। রাগ:
আশাবরি-পিলু, তাল: কাহারবা। পৃষ্ঠা:
৫১২]
-
রেকর্ড: টুইন [নভেম্বর ১৯৩২ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৩৯)।
এফটি ২২৯১। শিল্পী: তাকরিমুদ্দীন আহমেদ]
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল
- সুরাঙ্গ: রাগাশ্রয়ী
- রাগ:
মিশ্র (আশাবরী
-পিলু)
- তাল:
কাহারবা
- গ্রহস্বর: স