বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর দর কর নাথ
তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর দূর কর নাথ
ভক্তি দাও।
যেখানে হোক তুমি আছ – এই বিশ্বাস শক্তি দাও॥
যে কোন জনমে আমি
পাইব পাব তোমার আমি
অবিশ্বাসের আঁধার রাতে তোমায় পাওয়ার পথ দেখাও॥
শত দুঃখ ব্যথার মাঝে এইটুকু দাও শান্তি নাথ।
কাঁদিবে তুমি আমার দুঃখে আজকে যতই দাও আঘাত॥
হয়ত কোটি জনম পরে
পাব তোমার আমার করে,
তোমায় আমায় মিলন হবে এই আশাতেই মন দোলাও॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে পরমসত্তার প্রতি অটল বিশ্বাস অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, জন্মজন্মান্তরের সাধনা, দুঃখের মধ্যেও
তাঁর করুণার প্রতি আস্থা এবং পরম মিলনের আশায় উজ্জীবিত এক ভক্তহৃদয়ের গভীর আধ্যাত্মিক নিবেদনের প্রকাশ
ঘটেছে। এই গানে ভক্ত মুক্তি, স্বর্গ বা পার্থিব সুখ কামনা করেন না; তাঁর
একমাত্র আকাঙ্ক্ষা হলো বিশ্বাস অটুট রাখা এবং অনন্ত প্রতীক্ষার মধ্যেও
পরমসত্তার সঙ্গে মিলনের আশা বাঁচিয়ে রাখা।
পরমসত্তাকে লাভ করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সন্দেহ ও অবিশ্বাস। তাই গানের শুরুতেই ভক্ত তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছেন, যেন তিনি হৃদয়ের সকল সংশয় দূর করে অটল ভক্তি ও বিশ্বাসের শক্তি দান করেন। তিনি সর্বত্র বিরাজমান—এই উপলব্ধি যেন কখনো ম্লান না হয়, ভক্তের এও এক আন্তরিক প্রার্থনা।
ভক্তের বিশ্বাস, জন্মান্তরের যে পথই তাঁকে অতিক্রম করতে হোক না কেন, একদিন তিনি অবশ্যই পরমসত্তাকে লাভ করবেন। কিন্তু অবিশ্বাস ও অজ্ঞতার অন্ধকারে আচ্ছন্ন মানবমন সেই পথ স্পষ্ট দেখতে পায় না। তাই তাঁর প্রার্থনা—পরমসত্তা যেন অন্তরের অবিশ্বাসের অন্ধকার দূর করে তাঁকে নিজের কাছে পৌঁছানোর পথ দেখান। এখানে ‘অবিশ্বাসের আঁধার রাত’ মানুষের আত্মিক বিভ্রান্তি ও সংশয়ের প্রতীক, আর ‘পথ দেখাও’ কথাটি পরমসত্তার কৃপা ও আধ্যাত্মিক জাগরণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে।
জীবনে যতই দুঃখ, কষ্ট ও আঘাত আসুক না কেন, ভক্ত একটি বিষয়ে নিশ্চিন্ত হতে চান—পরমসত্তা তাঁর দুঃখে নির্লিপ্ত নন। তিনি বিশ্বাস করতে চান যে, তাঁর সকল বেদনা পরমসত্তা অনুভব করেন এবং করুণাময় সত্তা হিসেবে সর্বদা তাঁর পাশে থাকেন। এই বিশ্বাসই তাঁর জীবনের শান্তি, সাহস ও আশ্রয়ের উৎস। তাই তিনি দুঃখমুক্তি নয়, বরং পরমসত্তার সহানুভূতি ও সান্নিধ্যের আশ্বাস কামনা করেন।
গানের শেষাংশে ভক্তের আশা, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের মহিমা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জানেন না কত জন্ম, কত সাধনা বা কতকাল অপেক্ষা করতে হবে; হয়তো কোটি জন্ম পর সেই পরম মিলন ঘটবে। তবু তিনি নিরাশ নন। কারণ তাঁর হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, একদিন না একদিন পরমসত্তার সঙ্গে তাঁর মিলন অবশ্যই ঘটবে। সেই আশাই তাঁর মনকে আন্দোলিত করে এবং দীর্ঘ সাধনার পথে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না।
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের
১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার ৩০ ভাদ্র ১৩৪৩)
এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানির সাথে নজরুল ইসলামের একটি
চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তিপত্রের এই গানটির উল্লেখ ছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
১৯২৭। পৃষ্ঠা: ৫৮০]
- রেকর্ড:
- এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানির সাথে নজরুল ইসলামের একটি
চুক্তি হয়েছিল ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের
১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার ৩০ ভাদ্র ১৩৪৩) । এই চুক্তিপত্রের এই গানটির উল্লেখ ছিল।
-
টুইন [ডিসেম্বর ১৯৩৬ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩)]। এফটি ৪৭১১। শিল্পী: অমরেন্দ্র ঘোষ। রাগ: ছায়ানট।
এর জুড়ি গান: স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে
[তথ্য]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ: ভজন
- রাগ:
ছায়ানট
- তাল:
একতাল
- গ্রহস্বর: র