বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম:
ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান হে আমার ধ্যনের দেবতা
ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান হে আমার ধ্যনের দেবতা।
পূজা লহ, অর্ঘ্য লহ ক’য়ো না ক’য়ো না কথা॥
পাষাণ মূরতি তুমি পাষাণ হইয়া থাকো,
মন্দির-বেদী হতে ধরার ধূলায় নেমো নাকো।
তুমিও মাটির মানুষ বুঝায়ে দিও না ব্যথা॥
সহিবে সকলি স্বামী হেনো হেলা ব্যথা দিও,
সহিবে না অপমান ভালোবাসার আমার হে প্রিয়,
থাক তুমি হিয়ার মাঝে তোমার মন্দির যথা॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানটিতে কোন এক ভক্ত তাঁর ধ্যানের দেবতার উদ্দেশ্য
নিবেদিত- গভীর প্রেম, পূজার ভক্তি, আদর্শায়িত দেবসত্তাকে অক্ষুণ্ণ রাখার আকাঙ্ক্ষা এবং প্রেমভঙ্গের আশঙ্কা
উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে ভক্তরের আরাধ্য দেবতাকে ধ্যানের দেবতা বলা হয়েছে। ভক্ত চান, তাঁর
আরাধ্য দেবতা যেন তাঁর কল্পনা ও হৃদয়ের পবিত্র আসনে চিরকাল অমলিন থাকেন; বাস্তবের মানুষ হয়ে তাঁর সেই পূজার ভাবনাকে ভেঙে না দেন।
ভক্ত দেবতার কাছে নিজের পূজা ও অর্ঘ্য নিবেদন করতে চান, কিন্তু দেবতার কাছ থেকে কোনো মানবিক প্রত্যুত্তর চান না। কারণ কথা বললেই দেবতার ঐশ্বরিক, কল্পিত রূপটি হয়তো বাস্তব মানুষের রূপ পেয়ে যাবে এবং তাঁর ভক্তির জগৎ ভেঙে পড়বে।
এই গানের ‘পাষাণ’ শব্দটির মধ্যে অদ্ভুত এক দ্বৈততা আছে। এখানে নিষ্ঠুর বা কঠোর
অর্থকে পরিহার করে- আক্ষরিক পাথরের দৈবমূর্তির প্রতি নির্দেশিত করা হয়েছে। এই দেবতার মূর্তি পাথরের হলেও ভক্তের কাছে সেই পাথরই পবিত্র, চিরস্থায়ী ও অমলিন। তাই তিনি চান, দেবতা সেই মূর্তিরূপেই থাকুন; জীবন্ত মানুষ হয়ে তাঁর সামনে এসে তাঁর কল্পনার দেবত্বকে নষ্ট না করুন।
কারণ যদি পূজিত দেবতা আসলে সাধারণ মানুষের মতোই দোষ-ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা ও পরিবর্তনশীল আবেগের অধিকারী হন, তবে ভক্তের হৃদয়ের পূজার আসনটি ভেঙে যাবে। তাই তিনি অনুরোধ করছেন—তুমি যে আমার কাছে পরম, পূর্ণ ও আদর্শ, সেই বিশ্বাসটি ভেঙে দিও না।
এখানে পাষাণ অবিচল ও শ্বাশত অর্থকেই প্রকটীত করে।
ভক্তের ভয় কখন তাঁর আরাধ্য দেবতা তাঁকে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দেয়। ভক্ত মনে
করেন- নিজের প্রতি অবহেলার চেয়েও নিজের ভালোবাসার অপমান তার কাছে অসহনীয়। ভক্ত তার প্রেমকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন।
তাঁর কামনা সে প্রেম যেন প্রত্যাখ্যান, উপহাস বা অবজ্ঞার দ্বারা কলঙ্কিত না হয়।
তাই ভক্ত দেবতাকে বাহ্যিক মন্দিরে নয়, নিজের হৃদয়ের মন্দিরেই চিরকাল প্রতিষ্ঠিত রাখতে চান। বাস্তবের স্পর্শে দেবতার রূপ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়; হৃদয়ের কল্পনা, প্রেম ও ভক্তির মধ্যে তিনি চিরকাল পূজিত থাকুন।
-
রচনাকাল ও স্থান:গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৪
খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি (মাঘ-ফাল্গুন
১৩৪০
বঙ্গাব্দ)
মাসে এইচএমভি এই গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৪ বৎসর ৮ মাস।
- গ্রন্থ:
-
গানের
মালা
- প্রথম সংস্করণ আশ্বিন ১৩৪১ বঙ্গাব্দ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)।
৮৮। জংলা-দাদরা
-
নজরুল রচনাবলী। জন্মশতবর্ষ সংকলন ষষ্ঠ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, জুন ২০১২। গানের মালা।
৮৮। জংলা-দাদরা। পৃষ্ঠা ২৪৬]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ২০৫৪। রাগ: জংলা, তাল-দাদরা। পৃষ্ঠা:
৬১৯]
- রেকর্ড: এইচএমভি [ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪ ( মাঘ-ফাল্গুন ১৩৪০)]। পি ১১৭৭৯। শিল্পী: ইন্দুবালা
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। সাধারণ। দৈবসত্তা।
প্রার্থনা
-
সুরাঙ্গ: ভজন
-
রাগ: জংলা
- তাল:
দাদরা
- গ্রহস্বর: র্সা