বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: মধুর ছন্দে নাচে আনন্দে নওল কিশোর মদনমোহন
মধুর ছন্দে নাচে আনন্দে নওল কিশোর মদনমোহন!
চারু ত্রিভঙ্গিম ঠাম বঙ্কিম, বন্দে পদ কোটি চন্দ্র তপন॥
বৃষ্টিধারা সম নব নবতম,
সৃষ্টি পড়ে ঝরি সে নাচে নিরূপম
রতন মঞ্জির বাজে রমঝম, ঘোরে গ্রহতারা ঘিরি শ্রীচরণ॥
-
ভাবসন্ধান: চিরনবীন কৃষ্ণের আনন্দময় নৃত্য এমন এক মহাজাগতিক লীলা, যেখানে তাঁর নূপুরের রমঝম ছন্দে সমগ্র সৃষ্টি নব নব রূপে জেগে ওঠে এবং গ্রহ-তারাগুলো তাঁর শ্রীচরণ ঘিরে অনন্ত নৃত্যে মেতে থাকে।
এই ভাবাদর্শে রচিত এই গানে শ্রীকৃষ্ণের নৃত্যময়, আনন্দময় ও বিশ্বমোহন রূপের বন্দনা
করা হয়েছে। এখানে কৃষ্ণ কেবল বৃন্দাবনের নটবর নন; তাঁর নৃত্যের সঙ্গে সমগ্র সৃষ্টি, গ্রহ-তারা ও প্রকৃতি একাত্ম হয়ে যায়। ফলে প্রেমভক্তির সঙ্গে এখানে একটি মহাজাগতিক নৃত্যের কল্পনা যুক্ত হয়েছে।
গানের শুরুতে তাঁর বিশ্বরূপের অংশ হিসেবে 'নওল কিশোর’ অর্থ চিরনবীন তরুণ কৃষ্ণকে
উপস্থাপন করা হয়েছে- মধুর ছন্দে নৃত্যানন্দ রূপে করছেন। তিনি মদনমোহন, কারণ তিনি স্বয়ং প্রেমের দেবতা মদনকেও মোহিত করেন। তাঁর নৃত্য তাই
হয়ে উঠ সৌন্দর্য, প্রেম ও আনন্দের পরম চৈতন্যরূপে। তাঁর নৃত্য ভঙ্গীকে বলা হয়েছে
ত্রিভঙ্গিম। কারণ নৃত্যরূপী কৃষ্ণের ত্রি-ভঙ্গিম সৌন্দর্য যা 'ঠাম বঙ্কিম'
অর্থাৎ বাঁকা দেহশৈলী যা নৃত্যে ব্যবহৃত একটি পারিভাষিক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা
হয়েছে। 'চারু ত্রিভঙ্গিম ঠাম বঙ্কিম” বলা হয়েছে- সুন্দর ত্রিভঙ্গিম নৃত্যভঙ্গিতে বঙ্কিমভাবে স্থিত
বা অবস্থান- অর্থে। এই বিশেষ রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁর সৌন্দর্যের বন্দনা করে অগণন
জ্যোতিষ্মান চন্দ্র তারা। কৃষ্ণের নৃত্য যেন অবিরাম বৃষ্টিধারার মতো নব নব সৃষ্টির ধারা। তাঁর নৃত্যের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি যেন ঝরে পড়ে, প্রস্ফুটিত হয় এবং নতুন রূপ লাভ করে। কৃষ্ণের নৃত্য শুধু সৌন্দর্যের নৃত্য নয়—এটি সৃষ্টি ও নবায়নের নৃত্য। তাঁর আনন্দময় নৃত্যের মধ্যে বিশ্বসৃষ্টির চিরনতুন প্রকাশ ঘটছে।
কৃষ্ণের পায়ে রত্নখচিত নূপুর বা মঞ্জির। তাঁর নৃত্যের তালে সেই মঞ্জির থেকে রমঝম ধ্বনি উঠে। আর সেই নৃত্যের মহিমায় গ্রহ ও তারাগুলোও যেন তাঁর শ্রীচরণকে ঘিরে ঘুরছে। এখানে কৃষ্ণের চরণ হয়ে উঠেছে মহাবিশ্বের কেন্দ্র; গ্রহ-তারার আবর্তন যেন তাঁর চারদিকে সম্পন্ন হওয়া এক মহাজাগতিক নৃত্য।
-
রচনাকাল ও স্থান: ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি ‘ধ্রুব’ নামক
চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
ধারণা করা হয়, কাজী নজরুল ইসলাম এই চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের কোনো এক সময়ে এই গানটি রচনা করেছিলেন। এই সময়
নজরুলের বয়স ছিল ৩৪ বৎসর ৭ মাস।
-
গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২০৫৭। চলচ্চিত্র: ‘ধ্রুব’। পৃষ্ঠা: ৬২০]
-
চলচ্চিত্র:
ধ্রুব। ক্রাউন টকি হাউস।
১ জানুয়ারি ১৯৩৪ (সোমবার, ১৭ পৌষ ১৩৪০)। নারদের গান। শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম]
-
স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
ইদ্রিস আলী।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, পঞ্চাশতম খণ্ড, কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, কার্তিক ১৪২৬। জুন নভেম্বর ২০১৯। [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। বন্দনা
- সুরাঙ্গ:
ধ্রুপদাঙ্গ
- তাল:
তেওরা
- গ্রহস্বর: র্স