বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: হে দুখ-হরণ ভক্তের শরণ
চলচ্চিত্র: ‘ধ্রুব’।
রাগ: লাচ্ছাশাখ, তাল: ত্রিতাল
হে দুখ-হরণ ভক্তের শরণ,
অনাথ-তারণ হে বিধাতা!
তুমি ধ্রুবজ্যোতি, চাহ যা’র পানে
নিমেষে সে ছুটে যায় তব সন্ধানে।
বৃথা তাঁরে সংসার পিছু ডাকে বার বার,
হে মুক্তি দাতা হে বন্ধ-ত্রাতা॥
-
ভাবসন্ধান: চলচ্চিত্র: ‘ধ্রুব’র জন্য রচিত এই গানে বিষ্ণুকে দুঃখহরণকারী, ভক্তের আশ্রয়দাতা, অনাথের ত্রাণকর্তা এবং মুক্তিদাতা হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে। বিপদগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জন্য তিনিই একমাত্র নির্ভরতার আশ্রয়।
তিনি অবিচল ও চিরস্থায়ী হে বিধাতা, ধ্রুবজ্যোতিরূপে বিরাজ করেন। যিনি একবার
তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন, তিনি তাঁকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় তাঁর দিকে ছুটে যান। কোনো পার্থিব বন্ধন
ভক্তকে সহজে থামিয়ে রাখতে পারে না। কারণ তাঁর মন তখন তাঁর সন্ধানেই ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
সংসারের মায়া, মোহ, কামনা-বাসনা ও পার্থিব আকর্ষণ তাঁকে সংসারবন্ধনে টেনে রাখে । কিন্তু যে হৃদয়ে
তাঁকে লাভ করার আকাঙ্ক্ষা জেগে থাকে, সংসারের এই আহ্বানকে অতিক্রম করে তাঁর আরাধ্য
দেবতার দিকেই তিনি এগিয়ে যেতে চান। কারণ তিনি তাকে মুক্তির পথ দেখান এবং সংসারের বন্ধন থেকে
তিনিই উদ্ধার করেন। এখানে ‘ধ্রুবজ্যোতি’ শুধু আকাশের কোনো জ্যোতিষ্কের আলো নয়; এটি চিরস্থায়ী, অবিচল ও পথপ্রদর্শক পরম আলোর প্রতীক। সেই আলোর দিকে যে আত্মা একবার মুখ ফেরায়, তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হয়ে ওঠে পরম সত্তার সন্ধান।
-
রচনাকাল ও স্থান:
১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি ‘ধ্রুব’ নামক
চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
এই সময়
নজরুলের বয়স ছিল ৩৪ বৎসর ৭ মাস।
-
গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২১২৯। চলচ্চিত্র: ‘ধ্রুব’।
রাগ:
লচ্ছাশাখ, তাল:
ত্রিতাল। পৃষ্ঠা: ৬৪৩]
-
চলচ্চিত্র:
ধ্রুব। ক্রাউন টকি হাউস।
১ জানুয়ারি ১৯৩৪ (সোমবার, ১৭ পৌষ ১৩৪০)। মুনি-পত্নীর গান। শিল্পী: পারুল বালা]
-
পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। বিষ্ণু। বন্দনা