বিষয়: নজরুলসঙ্গীত।
শিরোনাম: আমি হজে যেতে পাইনি ব’লে কেঁদেছিলাম রাতে
আমি হজে যেতে পাইনি ব’লে কেঁদেছিলাম রাতে।
তাই হযরত এসে স্বপ্নে মাগো ধরেছিলেন হাতে॥
যেদিন বাবা গেলেন কাবার হজে বলেছিলাম কাঁদি’,
ধ’রে নবীর কবর, বলো, কি দোষ করেছে এ বাঁদী।
মোর মদিনা-মোহন হঠাৎ শুনলেন কি সেই মুনাজাত –
তাই খা’বে এসে বলেছিলেন, ‘যাবে কি মোর সাথে’॥
যেন জয়তুন গাছের ডাল ধ’রে মা বললেন আঁখি-জলে,
দেখবে কাবা আমায় পাবে, এই কল্পতরু তলে।
মা হঠাৎ এলো শুভ্র জ্যোতি, আঁধার হল আলা,
যেন নীল সাগরের ঢেউ-এ দোলে লাখো মোতির মালা।
মোর সকল জ্বালা জুড়েয়ে গেল সেই কাবা আরফাতে॥
- ভাবসন্ধান: কোনো এক মদিনাবাসিনীর হজে যাবার ইচ্ছা ছিল বহুদিন। একদিন
এই নারীর বাবা হজে গেলেন তাঁকে রেখেই। সেদিন তিনি মদিনায় নবির কবর ধরে কেঁদে
বলেছিলেন- কি দোষ তিনি করেছেন যে, নবি তাঁর ইচ্ছা পুরণ করলেন না। সেই রাতেই নবী
তাঁকে খা'বে (খোওয়াবে স্বপ্নে) দেখা দেন। তিনি জয়তুন (জলপাই) গাছের শাখা ধরে
বললেন- ‘যাবে কি মোর সাথে’। তিনি বললেন- এই কল্পতরুর তলে দাঁড়িয়ে কাবা দর্শনে
তাঁকেও পাওয়া যাবে। সে রাতে তাঁর অপূর্ব শুভ্র জ্যোতিতে, সকল অজ্ঞনতা, কলুষতার
আঁধার কেটে গিয়েছিল। যেন আনন্দ সাগরের ঢেউয়ে ঢেউয়ে দুলে উঠেছিল লাখো মতির মালা।
তাঁর সকল জ্বালা জুড়েয়ে গিয়েছিল সেই নবিরূপী কাবা আরফাতে।
মূলত এই গানে উপস্থাপিত হয়ে নবি-অনুরাগিণী পূর্ব মহিমার কথা। যিনি তাঁর একনিষ্ঠ
ভক্তদের ইচ্ছা অপূর্ণ রাখেন না। এই নারীকে তিনি স্বপ্নদর্শনে তাঁর মনের ইচ্ছা
পূরন করেছিলেন স্বপ্নলোকে। এই অর্থে এই গানটিতে মূলত নবির মহিমাকেই উপস্থাপন করা
হয়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার ২৫ পৌষ ১৩৪৭), কলকাতা
বেতারকেন্দ্র থেকে 'ঈদজ্জোহা' গীতিআলেখ্য প্রচারিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের
বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৭ মাস।
- পাণ্ডুলিপি:
মূল পাণ্ডুলিপি
- বেতার:
- ঈদজ্জোহা। গীতিআলেখ্য।
কলকাতা বেতারকেন্দ্র। [৯ জানুয়ারি ১৯৪১ (বৃহস্পতিবার ২৫ পৌষ ১৩৪৭)।
রাত ৮.০৫ -৮.৩৯ মিনিট। শিল্পী:
আব্বাসউদ্দীন আহমদ]
সূত্র: বেতার জগৎ। ১২বর্ষ ১ম সংখ্যা। ১ জানুয়ারি, ১৯৪১। পৃষ্ঠা: ৪২
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। ১৩৯১ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৭৭৯
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামি গান। নাত-এ-রসুল।