ভাবসন্ধান: গানটিতে পরম পুরুষ (শিব) এবং পরা প্রকৃতি (নারীরূপিণী আদ্যাশক্তি)-র আবাহন এবং তাঁদের স্তুতির একটি চমৎকার
উপস্থাপন করা হয়েছে।
গানটির শুরুতে 'হর-পার্বতী' তথা পরম পুরুষ ও শিব ও শক্তির জয়ধ্বনি
দেওয়া হয়েছে। এখানে 'পরম পুরুষ' বলতে পরমাত্মা বা চৈতন্যস্বরূপ শিব এবং 'পরা প্রকৃতি' বলতে তাঁর সৃজনী
আদ্য মহাশক্তি
হিসেবে দুর্গাকে বোঝানো হয়েছে।
মূলত এটি সৃষ্টিতত্ত্বের সেই অমোঘ সত্যকে প্রকাশ করে যেখানে পুরুষ ও প্রকৃতি অভিন্ন।
আবার পুরুষ ও প্রকৃতির মিলনেই চলে সৃষ্টির লীলা।
অন্তরাতে বলা হয়েছে- আদ্যা মহাশক্তি যুগে যুগে মানুষের মনের অজ্ঞানতা বা মূঢ়তারূপ অন্ধকার (তিমির) দূর করেন। জ্ঞানালোকের বিস্তারের মাধ্যমে তিনি ভক্তের অন্তরকে আলোকিত করেন। কবি এই হর-পার্বতীর কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন- 'অন্তর বাহিরের দানব-ভীতি'
দূরীভূত হয়। কবি মনে করেন মানবজীবনের ভীত দুই ধরনের। এর একটি অন্তর-ভীতি,
যা অন্তরের ষড়রিপু (কাম, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি) বা মানসিক দুর্বলতা থেকে
উৎপন্ন হয়। অপরটি হলো বাইরের অশুভ শক্তি। কবির প্রার্থনায়
হরপার্বতী যেন- অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সমস্ত ভয় ও আসুরিক প্রবৃত্তির বিনাশ
ঘটে।
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায় না। ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে (১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ)
হরপার্বতী, শচীন সেনগুপ্তের রচিত নাটকের গ্রন্থের প্রকাশিত
হয়েছিল। এই গ্রন্থে এই গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। গ্রন্থটির প্রকাশকাল ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ
উল্লেখ থাকলেও মাসের নাম উল্লেখ নেই। আবার পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক লাইব্রেরির
তালিকায় গ্রন্থভুক্তির সময় উল্লেখ আছে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ। এই বিচারে
প্রকাশকালের সময় ধরা যেতে পারে- বৈশাখ- চৈত্র ১৩৩৯ (এপ্রিল- ডিসেম্বর১৯৩২)।
এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩২ বৎসর।
গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২৫৪৪। পৃষ্ঠা: ৭৮৩]