বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: তোমার দেওয়া ব্যথা
তোমার দেওয়া ব্যথা, সে যে তোমার হাতের
দান।
তাই তো সে দান মাথায় তুলে নিলাম, হে পাষাণ॥
তুমি কাঁদাও তাই ত বঁধু
বিরহ মোর হল মধু,
সে যে আমার গলার মালা তোমার অপমান॥
আমি বেদীমূলে কাঁদি, তুমি পাষাণ অবিচল,
জানি হে নাথ, সে যে তোমার পূজা নেওয়ার ছল।
তোমার দেবালয়ে মোরে
রাখলে পূজারিণী ক’রে,
সেই আনন্দে ভুলেছি নাথ সকল অভিমান॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে পরম দৈবসত্তাকে না পাওয়ার বেদনা এক পূজারিণীর
অভিব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর আহ্বানে আরাধ্য সত্তা সাড়া না দিলেও
তিনি ভক্তিতে অবিচল থাকেন। পূজারিণী মনে করেন, তাঁর যাপিত জীবনের সকল
আনন্দ-বেদনা সেই পরম দৈবসত্তারই দান। আর সেই দান সানন্দে গ্রহণ করার মধ্যেই
নিহিত রয়েছে তাঁর পরম প্রাপ্তি।
তিনি বিশ্বাস করেন, আরাধ্য এই দৈবসত্তার দেওয়া ব্যথাও মূলত তাঁরই কৃপাদান। তাই
সেই দুঃখকে তিনি কখনো অভিশাপ বা অপমান বলে মনে করেন না। তিনি তাঁকে ‘পাষাণ’ বলে
সম্বোধন করলেও এর মধ্যে কোনো অভিযোগ নেই; বরং রয়েছে গভীর প্রেমমিশ্রিত অভিমান।
কারণ, তাঁর দেওয়া বিরহই পূজারিণীর কাছে মধুময় হয়ে উঠেছে। সেই বিরহবেদনাকেই তিনি
গলার মালার মতো ধারণ করেছেন। অর্থাৎ তাঁর দুঃখই হয়ে উঠেছে তাঁর ভক্তির অলংকার।
পরম দৈবসত্তাকে না পাওয়ার বেদনায় পূজারিণী মন্দিরের বেদীমূলে ব্যথাভরা হৃদয়ে
পূজা নিবেদন করেন, অথচ আরাধ্য সত্তা পাষাণমূর্তির মতো অবিচল থাকেন। তবু পূজারিণী
মনে করেন, এও তাঁর পূজা গ্রহণের এক অভিনব ছলনা। এই উপলব্ধিই তাঁর পরম সান্ত্বনা
ও আনন্দ। কারণ, তাঁর আরাধ্য দৈবসত্তা তাঁকে নিজের পূজানিকেতনে পূজারিণীর
মর্যাদায় স্থান দিয়েছেন। তাই তিনি তাঁকে না পাওয়ার অভিমান ভুলে পরমানন্দে
নিমগ্ন থাকেন। অর্থাৎ দুঃখ ও বিরহের মধ্য দিয়েই তিনি এক বিশেষ আধ্যাত্মিক
মর্যাদা লাভ করেছেন।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
পূর্বাচল পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৪২ (মে-জুন ১৯৩৫) গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৫ বৎসর ১১ মাস।
-
গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ৩০৫৯ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা:
৯৩৬।
-
নজরুলের হারানো গানের খাতা [নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা। আষাঢ় ১৪০৪/জুন ১৯৯৭।
গান সংখ্যা ১৫৭।
for Nisharani (Sengupta)
। ভজন। পৃষ্ঠা:
১৮০।]
নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি,
আটচল্লিশতম খণ্ড। স্বরলিপিকার: ইদ্রিস আলী। [কবি নজরুল ইন্সটিটিউট,
কার্তিক ১৪২৬। নভেম্বর ২০১৯। পৃষ্ঠা: ৮৬-৮৮] [নমুনা]
রেকর্ড: টুইন [জানুয়ারি ১৯৩৬ (পৌষ-মাঘ ১৩৪২)। এফটি ৪২১৪। শিল্পী:
নিশিরাণী গুপ্তা]
পত্রিকা: পূর্বাচল [জ্যৈষ্ঠ ১৩৪২ (মে-জুন ১৯৩৫)]
স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- ইদ্রিস আলী। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশিত গানের [শিল্পী: নিশিরাণী
গুপ্তা] সুরানুসারে স্বরলিপিটি নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি
আটচল্লিশতম
খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। [নমুনা]
পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। সাধারণ। দৈবসত্তা।
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গান
- রাগ:
ভৈরবী
- তাল:
দাদরা
- গ্রহস্বর: সগ