দোল ফাগুনের দোল লেগেছে, আমের বোলে দোলন-চাঁপায়।
মৌমাছিরা পলাশ-ফুলের গেলাশ ভ’রে মউ পিয়ে যায়॥
শ্যামল পাতার কোলে কোলে
আবির-রাঙা কুসুম দোলে,
দোয়েল শ্যামা লহর তোলে কৃষ্ণচূড়ার ফুলেল শাখায়॥
বন-গোপিনী ফুল ছুঁড়ে ঐ খেলে হোরী দখিন-বায়ে,
হলদে পাখি দোদুল দুলে সোনাল শাখায় আদুল গায়ে।
ভাঁট-ফুলের ঐ নাট-দেউলে
রঙিন প্রজাপতি দুলে,
মন ছুটে যায় দূর গোকুলে, বৃন্দাবনে প্রেম যমুনায়॥
গানের সূচনায় কবি তাঁর কল্পলোকের বিহারে মুগ্ধ হয়ে বসন্তের এই রূপসৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি দেখেন—ফাগুনের দোল-উৎসবের দোলা লেগেছে চারদিকে; আমের মুকুল, দোলনচাঁপা ও পলাশফুল যেন সেই আনন্দে আন্দোলিত। পলাশফুলের গেলাস ভরে মৌমাছিরা মধুপানে ব্যস্ত, যেন তারাও এই রঙিন উৎসবের নীরব অংশীদার।
এই আনন্দযজ্ঞে প্রকৃতির সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে দোলের আবির। সবুজ পাতার কোলে লাল-হলুদ কুসুম দোল খাচ্ছে, যেন প্রকৃতি নিজেই আবিরে রাঙা দোল উৎসব উদযাপন করছে। কবি কল্পলোকের বিহারে দেখেন—শ্যামল পাতার মাঝে আবির-রাঙা কুসুম দোল খাচ্ছে, আর দোয়েল ও শ্যামা পাখিরা কৃষ্ণচূড়ার শাখায় সুরের লহর তুলছে।
আভোগ ও সঞ্চারীর স্তরে কবি অনুভব করেন বৃন্দাবনের চিরন্তন দোল-উৎসবের আনন্দধারা। দক্ষিণা বাতাস যেন বনগোপিনীর রূপ ধরে ফুল ছড়িয়ে হোলির খেলায় মেতে উঠেছে। সোনালি শাখায় দুলছে হলদে পাখি, আর ভাঁটফুলের নাটমন্দিরে রঙিন প্রজাপতিরা নৃত্যের ছন্দে দুলে উঠেছে। এই অপূর্ব রঙিন আবেশে কবির মন ছুটে যায় দূর গোকুলে, বৃন্দাবনে—প্রেমময় যমুনাতীরে।
এই
উৎসবমুখর প্রকৃতির মাঝেই কবির মন দোল খেয়ে ওঠে। তিনি বাস্তব জগতের সীমা
অতিক্রম করে অনুভব করেন বৃন্দাবনের দোললীলা, শ্রীকৃষ্ণের হোলি-উৎসব এবং
রাধা-কৃষ্ণের চিরন্তন প্রেমধারাকে। প্রকৃতির দোল উৎসব তাঁর অন্তরে জাগিয়ে তোলে
প্রেম, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আনন্দের এক গভীর অনুভব।