বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম:
নবীর মাঝে রবির সম
নবীর মাঝে রবির সম আমার মোহাম্মদ রসুল।
খোদার হবিব দীনের নকিব বিশ্বে নাই যার সমতুল॥
পাক আরশের পাশে খোদার
গৌরবময় আসন যাঁহার,
খোশ-নসীব উম্মত আমি তাঁর (আমি) পেয়েছি অকূল কূল॥
আনিলেন যিনি খোদার কালাম
তাঁর কদমে হাজার সালাম;
ফকির দরবেশ জপি' সেই নাম (সবে) ঘর ছেড়ে হলো বাউল॥
জানি, উম্মত আমি গুনাহ্গার
হবো তবু পুল্সরাত পার;
আমার নবী হষরত আমার করো মোনাজাত কবুল॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানে ইসলামের মহান নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, ভক্তি ও আত্মসমর্পণের ভাব প্রকাশ পেয়েছে। কবি তাঁকে
মানবজাতির মধ্যে সূর্যের মতো উজ্জ্বল, সর্বশ্রেষ্ঠ ও অনন্য মহামানব হিসেবে
কল্পনা করেছেন।
কবি বলেন, নবীদের মধ্যে হজরত
মুহাম্মদ (সা.) সূর্যের মতো দীপ্তিমান ও শ্রেষ্ঠ। তিনি আল্লাহর প্রিয়তম
হবিব এবং ইসলাম ধর্মের পথপ্রদর্শক।
পৃথিবীতে তাঁর মতো মর্যাদা ও গুণের অধিকারী আর কেউ নেই। আল্লাহর নৈকট্যে তাঁর
বিশেষ সম্মান রয়েছে; পবিত্র আরশের সান্নিধ্যে তাঁর মর্যাদা অতুলনীয়। তাই তাঁর
উম্মত হতে পারাকে কবি নিজের পরম সৌভাগ্য বলে মনে করেছেন এবং মনে করেছেন, তাঁর
আশ্রয়ে এসে তিনি জীবনের প্রকৃত পথ ও মুক্তির ঠিকানা লাভ করেছেন।
যিনি মানবজাতির কাছে আল্লাহর পবিত্র বাণী
বা কালাম পৌঁছে দিয়েছেন, সেই মহান নবীর চরণে কবি সহস্র সালাম নিবেদন করেছেন।
তাঁর প্রেম ও স্মরণে ফকির, দরবেশ ও সাধকরা নিজেদের জাগতিক বন্ধন ভুলে
আত্মনিবেদনের পথে এগিয়ে গেছেন। তাঁর নামের স্মরণ মানুষকে ভক্তি, প্রেম ও
আধ্যাত্মিক সাধনার পথে পরিচালিত করে।
গানটির শেষাংশে কবির বিনয় ও আত্মঅনুশোচনা প্রকাশ
পেয়েছে। তিনি নিজেকে পাপী ও গুনাহগার উম্মত বলে স্বীকার করেছেন। তবু তাঁর
বিশ্বাস, প্রিয় নবীর রহমত ও সুপারিশের কারণে তিনি কঠিন পরীক্ষার পথ—পুলসিরাত—অতিক্রম
করতে পারবেন। তাই তিনি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে নিজের মোনাজাত কবুল
করার জন্য প্রার্থনা করেছেন।
-
রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৩৪
খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ- মাঘ ১৩৪০) মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটি প্রথম প্রকাশিত
হয়েছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৪ বৎসর ৭ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহে [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২।
গান ৩১৫। পৃষ্ঠা: ৫৯০]
- রেকর্ডসূত্র:
এইচএমভি।
জানুয়ারি ১৯৩৪ (পৌষ- মাঘ ১৩৪০)। এন ৭১৯১। শিল্পী: কে মল্লিক [শ্রবণ
নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
সুধীন দাশ ও ব্রহ্মমোহন ঠাকুর।
[নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি, একাদশ খণ্ড (নজরুল ইনস্টিটিউট জুন ১৯৯৭)]
১৩ সংখ্যক গান। [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম, নাত-এ-রসুল। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল:
তালফেরতা
(দাদরা/
কাহারবা)
- গ্রহস্বর: র্সা