বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত
তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত।
যত চাহি তত কাঁদি, আমার মেটে না হজ্রত॥
কোথায় আরব কোথায় এ হিন্দ্
নয়নে মোর নাই তবু নিন্দ্
প্রাণে শুধু জাগে (তোমার) মদিনার ঐ পথ॥
কে বলে তুমি গেছ চলে হাজার বছর আগে
আছ লুকিয়ে তুমি প্রিয়তম আমার অনুরাগে।
মোর অন্তরের হেরা গুহায়
আজো তোমার ডাক শোনা যায়
জাগে আমার মনের কাবা ঘরে তোমারি সুরত্
-
হজরত তোমারি সুরত্॥
যারা দোজখ হতে ত্রাণের তরে তোমায় ভালোবাসে
আমার এ প্রেম দেখে তারা কেউ কাঁদে কেউ হাসে।
তুমি জান হে মোর স্বামী, শাফায়াৎ চাহি না আমি
আমি শুধু তোমায় চাহি তোমার মুহব্বত
হজরত তোমার মুহব্বত॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর প্রতি নিঃস্বার্থ
প্রেম, আধ্যাত্মিক বিরহ, হৃদয়ের অন্তর্লোকে তাঁর চিরজাগরূক উপস্থিতি এবং
পার্থিব বা পরকালীন লাভের ঊর্ধ্বে উঠে শুধু কবির মুহব্বত আকাঙ্ক্ষাই মূল
ভাব হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর এই প্রেম কোনো পার্থিব লাভ বা ভয় থেকে
উৎসারিত নয়; বরং এটি এক নিঃস্বার্থ, আত্মনিবেদিত ও হৃদয়মগ্ন ভালোবাসা।
গানের শুরুতেই কবি বলেন, মহানবীর নামে এমন এক প্রেমময় নেশা তাঁর হৃদয়ে
জেগেছে, যা কখনো তৃপ্ত হয় না। তিনি যতই নবীর কথা স্মরণ করেন, ততই তাঁর হৃদয়
আবেগে উসদ্বেলিত হয়ে ওঠে। ভৌগোলিক দূরত্ব- 'আরব ও ভারতবর্ষ'-এর ব্যবধান,
তাঁর প্রেমকে বাধা দিতে পারে না। তিনি নবীর স্মৃতি বিজড়িত মদিনায় যেতে না
পারার কারণে তাঁর হৃদয় ব্যথাতুর হয়ে থাকে সর্বদা, তাই তাঁর প্রাণে সর্বদা
মদিনার পথ জেগে থাকে।
কবি বিশ্বাস করেন, মহানবী কেবল অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নন; তিনি
আজও প্রেমিক হৃদয়ের অনুরাগে জীবন্ত। তাই কবি অনুভব করেন, তাঁর অন্তরের 'হেরা
গুহা'য় আজও নবীর আহ্বান ধ্বনিত হয়। এখানে 'হেরা গুহা' রূপকভাবে কবির
ধ্যানমগ্ন অন্তর্জগতের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। আবার 'মনের কাবা ঘর'
বলতে হৃদয়ের সেই পবিত্র স্থানকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে নবীর রূপ ও স্মৃতি
চিরজাগরূক হয়ে আছে।
কবি মনে করেন- অনেকে পরকালের মুক্তি বা দোজখ থেকে পরিত্রাণ লাভের আশায় নবীকে
ভালোবাসে। কিন্তু তাঁর প্রেম সে ধরনের স্বার্থসন্ধানী নয়। কেউ তাঁর এই গভীর
প্রেম দেখে হাসে, কেউ কাঁদে; তবু কবি তাতে বিচলিত হন না। তিনি স্পষ্টভাবে
ঘোষণা করেন যে, তিনি নবীর কাছে শাফায়াত (সুপারিশ বা মুক্তির আশ্রয়) চান না;
তিনি চান শুধু নবীর 'মুহব্বত' (ভালোবাসা)। কবির এই প্রেমের
লক্ষ্য সাধারণভাবে মুক্তি লাভ নয়, বরং তার চেয়ে বেশি- আত্মিক সান্নিধ্য।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়
না। মোয়াজ্জিন
পত্রিকার 'বৈশাখ ১৩৪৩' (এপ্রিল-মে ১৯৩৬),
সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ১১ মাস।
- গ্রন্থ:
নজরুল-সংগীত সংগ্রহ
[রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল
ইনস্টিটিউট।
তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮।
গান ৩৮২]
- পত্রিকা: মোয়াজ্জিন [বৈশাখ ১৩৪৩ (এপ্রিল-মে ১৯৩৬)]
-
রেকর্ড:
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি [শনিবার, ৩ মাঘ
১৩৪৩]। এইচএমভি
রেকর্ড
কোম্পানির সাথে নজরুলের চুক্তি হয়েছিল।
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার, ৩১ আষাঢ় ১৩৪৪) এইচএমভি রেকর্ড
কোম্পানির সাথে নজরুলের চুক্তি হয়েছিল।
-
এইচএমভি [জানুয়ারি ১৯৩৭ (পৌষ-মাঘ
১৩৪৩)। এন ৯৮৪৪। শিল্পী: কাশেম মল্লিক]
[শ্রবণ
নমুনা]
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
সুধীন দাশ।
[নজরুল-সঙ্গীত
স্বরলিপি, ত্রয়োদশ খণ্ড।
প্রথম সংস্করণ। নজরুল ইন্সটিটিউট । জ্যৈষ্ঠ ১৪০১/মে ১৯৯৪। ১৪ সংখ্যক গান]
[নমুনা]
- পর্যায়:
-
বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল। আত্মনিবেদন
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য