বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম : ভেসে' যায় হৃদয় আমার মদিনা পানে
ভেসে' যায় হৃদয় আমার মদিনা পানে।
আসিলেন রসুলে-খোদা প্রথম যেখানে॥
উঠিল যেখানে রণি', প্রথম তক্বির ধ্বনি
লভিনু মণির খনি যথায় কোরানে॥
যথা হেরা গুহার আঁধারে প্রথম
ইসলামের জ্যোতি লভিল জনম,
ঝরে অঝোর ধারায় যথা খোদার রহম,
ভাসিল নিখিল ভুবন যাহার তুফানে॥
লাখো আম্বিয়া আউলিয়া বাদ্শা ফকির
যথা যুগে যুগে আসি' করিল ভিড়
তারি ধূলাতে লুটাবো আমি নোয়া'ব শির;
নিশিদিন শুনি তাঁরি ডাক আমার পরানে॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানে কবি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), মদিনা এবং ইসলামের সূচনাস্থলের প্রতি একনিষ্ঠ প্রেম, শ্রদ্ধা ও আত্মনিবেদন
উপস্থাপন করেছেন। কবি মদিনাকে কেবল একটি নগরী হিসেবে দেখেননি; তিনি একে ইসলামের আলো, আল্লাহর রহমত এবং মানবজাতির আধ্যাত্মিক মুক্তির উৎস হিসেবে কল্পনা করেছেন। তাই তাঁর হৃদয় সর্বদা সেই পবিত্র ভূমির সান্নিধ্য লাভের জন্য ব্যাকুল। কারণ সেখানেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন ঘটেছিল এবং সেখান থেকেই ইসলামের মহান আদর্শ বিশ্বজুড়ে বিস্তার লাভ করে।
কবি স্মরণ করেন, এই পবিত্র ভূমিতেই প্রথম তাকবির ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছিল এবং মানবজাতি পবিত্র কোরআনের মতো অমূল্য ঐশী সম্পদ লাভ করেছিল।
আবার হেরা গুহার নিভৃত অন্ধকারেই মহানবী (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি অবতীর্ণ হয় এবং সেখান থেকেই ইসলামের আলোকধারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহর অসীম রহমত সেই স্থান থেকে এমনভাবে প্রবাহিত হয়েছিল যে, তার প্রভাব সমগ্র মানবসভ্যতাকে আলোকিত ও পরিবর্তিত করেছিল।
এরপর কবি বলেন, এই পবিত্র ভূমিতে যুগে যুগে অসংখ্য নবী, অলী-আউলিয়া, রাজা এবং দরবেশের পদধূলি লেগেছে। তাঁদের স্মৃতি ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যে এই ভূমি পরম পবিত্র। তাই কবির আকাঙ্ক্ষা—তিনি যেন সেই পবিত্র মাটিতে মাথা নত করে, তার ধূলিকণায় গড়াগড়ি দিয়ে নিজের জীবন ধন্য করতে পারেন।
সবশেষে কবি জানান, তাঁর অন্তর সর্বদা সেই পবিত্র ভূমির আহ্বান শুনতে পায়। মদিনার প্রতি এই আকর্ষণ কেবল ভৌগোলিক কোনো স্থানের প্রতি নয়; বরং এটি মহানবী (সা.)-এর প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা, ইসলামের আদর্শের প্রতি গভীর আনুগত্য এবং আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভের এক আন্তরিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
-
রচনাকাল
ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের
ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৪) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম
রেকর্ড প্রকাশ হয়েছিল। সেই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। ৪৬৪ সংখ্যক গান।
- রেকর্ড: টুইন। ডিসেম্বর ১৯৩৭ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৪)। এফটি ১২১৯৪।
শিল্পী:
আব্বাসউদ্দীন আহমদ।
[শ্রবণ নমুনা]
- সঙ্গীতবিষয়ক তথ্যাবলি:
- সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: রশিদুন্ নবী
[নজরুল-সঙ্গীত
স্বরলিপি, ষোড়শ খণ্ড। প্রথম সংস্করণ। নজরুল ইন্সটিটিউট আশ্বিন
১৪০৪/অক্টোবর ১৯৯৩। ১৩ সংখ্যক গান। রেকর্ডে
আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর গাওয়া গানের সুরানুসারে
স্বরলিপি করা হয়েছে]
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামি। মদিনা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল:
কাহারবা
- গ্রহস্বর:গা