বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: মন লহ নিতি নাম রাধা শ্যাম গাহো হরি গুণ গান
মন লহ নিতি নাম রাধা শ্যাম গাহো হরি গুণ গান।
তব ধন জন প্রাণ, যাহার কৃপার দান
জপ তারি নাম জয় ভগবান জয় ভগ্বান॥
জনক-জননীর স্নেহে তাঁহার হেরিস্ তুই
স্নেহময়,
ভাই ভগিনীর প্রীতিতে যাঁর, শান্ত মধুর
পরিচয়।
প্রণয়ী বন্ধুর
মাঝে, যাঁর প্রেম রূপ বিরাজে;
পুত্র কন্যা-রূপে সেই জুড়ায় তাপিত
পরান॥
তৃষ্ণা ক্ষুধায় সেই কৃষ্ণেরি লীলা,
হাসে শ্যাম শস্যে কুসুমে রঙিলা;
তরঙ্গে ছলছল আঁখি জল-নীলা,
কল-ভাষা নদী-কলতান।
দেয় দুখ্ শোক সেই, পুন সেই করে ত্রাণ।
জয় ভগবান, জয় ভগবান, জয় ভগবান॥
- ভাবসন্ধান: রাধাকৃষ্ণ কেবল মন্দিরে নন; মানুষের ভালোবাসা, প্রকৃতির সৌন্দর্য, সুখ-দুঃখ এবং জীবনের প্রতিটি অনুভূতির মধ্যেই তাঁর উপস্থিতি রয়েছে।
রাধাকৃষ্ণ রূপেই জগতে হরি বিরাজ করেন। তাই সর্বাবস্থায় তাঁর নাম স্মরণ করে তাঁর প্রতি ভক্তি ও আস্থা রাখা উচিত।
এই ভাবাদর্শে রচিত গানে জগতের সকল ভালোবাসা, সুখ-দুঃখ ও জীবনের প্রতিটি অনুভূতির মধ্যেই
রাধাকৃষ্ণের অনুভব করা এবং তাঁর নাম স্মরণ করার প্রত্যয় উপস্থাপিত হয়েছে।
গানের শুরুতে সর্বদা রাধা-শ্যামের নাম স্মরণ করো এবং হরির গুণগান করার কথা
বলা হয়েছে। মূলত হরি আর রাধাশ্যাম অভিন্ন। মানুষের ধন, জন, জীবন—সবই তাঁরই কৃপায় পাওয়া। তাই সেই পরম করুণাময়ের নাম জপ করে তাঁর জয়গান করা উচিত।
কবি মা-বাবার স্নেহের মধ্যে আমরা ভগবানের স্নেহের প্রকাশ দেখতে পান। ভাই-বোনের ভালোবাসায়ও তাঁর শান্ত ও মধুর পরিচয়
মেলে। আবার প্রিয়জন ও বন্ধুর প্রেমের মধ্যে তাঁরই প্রেমের রূপ প্রকাশিত হয়। সন্তানদের ভালোবাসার মধ্যেও সেই ভগবান আমাদের দুঃখ-ক্লান্ত হৃদয়কে শান্তি দেন। অর্থাৎ মানুষের বিভিন্ন সম্পর্কের ভালোবাসা আসলে পরম প্রেমময়
হরিরিই নানা প্রকাশ।
প্রকৃতি ও জীবনের সাধারণ অভিজ্ঞতার মধ্যেও কৃষ্ণের লীলা দেখানো হয়েছে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতিতেও তাঁর লীলা, আবার সবুজ শস্য ও রঙিন ফুলের সৌন্দর্যে শ্যামের হাসি যেন ফুটে ওঠে। নদীর নীল জলে, ঢেউয়ের চঞ্চলতায় এবং নদীর মধুর কলতানে ভগবানের সৌন্দর্য ও প্রাণের স্পন্দন অনুভূত হয়।
মূলত জীবনে দুঃখ ও শোকও তিনি দেন, আবার তিনিই সেই দুঃখ থেকে উদ্ধার করেন। তাই সুখে যেমন তাঁকে স্মরণ
করা ইচিৎ, তেমনি দুঃখেও তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখতে উচিৎ।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৩৯)
মাসে গানটি প্রথম এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশিত
হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ:
-
গীতি-শতদল
- প্রথম সংস্করণ [বৈশাখ ১৩৪১। এপ্রিল ১৯৩৪। বেহাগ মিশ্র-কার্ফা]। [গীতি-শতদল-৬৩]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, পঞ্চম খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ মে, ২০১১। গীতি-শতদল। গান সংখ্যা
৬৩। বেহাগ মিশ্র-কার্ফা। পৃষ্ঠা ৩১৮]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২) -এর ৪৯৫ সংখ্যক গান।
- রেকর্ড:
এইচএমভি।
ডিসেম্বর ১৯৩২ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৩৯)। এন ৭০৫৯। শিল্পী: কমলা ঝরিয়া [শ্রবণ
নমুনা]
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: সালাউদ্দিন আহ্মেদ
[নজরুল-সঙ্গীত
স্বরলিপি, অষ্টাদশ খণ্ড। প্রথম সংস্করণ। নজরুল ইন্সটিটিউট আশ্বিন ১৪০৪/অক্টোবর
১৯৯৩। ২০ সংখ্যক গান]
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। হরি। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয়