বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ওরে নীল যমুনার জল! বল্ রে মোরে বল্
ওরে নীল যমুনার জল! বল্ রে মোরে বল্
কোথায় ঘনশ্যাম-আমার কৃষ্ণ ঘনশ্যাম।
আমি বহু আশায় বুক বেঁধে যে এলাম
- এলাম ব্রজধাম॥
তোর কোন্ কূলে কোন্ বনের মাঝে
আমার কানুর বেণু বাজে,
আমি কোথায় গেলে শুনতে পাব 'রাধা রাধা' নাম॥
আমি শুধাই ব্রজের ঘরে ঘরে
- কৃষ্ণ কোথায় বল্;
কেন কেউ কহে না কথা, হেরি সবার চোখে জল।
বল্ রে আমার শ্যামল কোথায়
কোন্ মথুরায় কোন্ দ্বারকায়-বল্ যমুনা বল।
বাজে বৃন্দাবনের কোন্ পথে তাঁর নূপুর অভিরাম॥
-
ভাবসন্ধান: কৃষ্ণবিহীন ব্রজধামে কোনো এক কৃষ্ণ-অনুরাগী বুক বাঁধা আশা নিয়ে এসেছেন
কৃষ্ণ দর্শনে। কিন্তু কোথাও কৃষ্ণকে দেখতে না পেয়ে তিনি সবাইকে জিজ্ঞাসা করে ফিরছেন-
'কোথায় ঘনশ্যাম-আমার কৃষ্ণ ঘনশ্যাম'?। ব্রজবাসী নিজেরাই কৃষ্ণ-বিরহে ছিলেন
যন্ত্রণা-কাতর। তাই কারো কাছে এর সদুত্তর তিনি পান না। মূলত এর ভিতর দিয়ে উপস্থাপিত হয়েছে-
কৃষ্ণবিহীন ব্রজবাসীর মনবেদনার অভিব্যক্তি।
কৃষ্ণ-অনুরাগী কৃষ্ণের সন্ধান চেয়েছেন- নীল যমুনার জলের কাছে। অন্যান্যদের জানতে
চেয়েছেন- ব্রজের কোন কুঞ্জে কৃষ্ণ বাঁশি বাজাচ্ছেন, কোথায় গেলে তিনি শুনতে পাবেন
তাঁর কণ্ঠে 'রাধা রাধা নাম। এ প্রশ্নের উত্তরে ব্রজবাসী নিরুত্তর। কারণ তাঁরাও
জানেন না কৃষ্ণের সন্ধান। ব্রধধাম ছেঢ়ে তিনি কি আছেন মধুরায় নাকি দ্বারকায়?, এর উত্তরও তাঁদের জানা
নেই। তাঁরা জানেন না- বৃন্দাবনের কোন পথে তাঁর পায়ে বাজে পরমসুন্দর
নূপুরের ধ্বনি।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮।
ফেব্রুয়ারি ২০১২)। গান সংখ্যা ৫৩১।
- রেকর্ড: এইচএমভি [অক্টোবর ১৯৩৬ (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৩)। এইচএমভি ৯৭৮৮। শিল্পী: যূথিকা রায়। সুর: কমল দাশগুপ্ত]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
নীলিমা দাস। [নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, বত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন ১৪১৫। ফেব্রুয়ারি
২০০৯] চতুর্থ গান। রেকর্ডে যূথিকা রায়ের গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ।
অন্বেষণ।
- সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্য