বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: তুমি আশা পুরাও খোদা, সবাই যখন নিরাশ করে
তুমি আশা পুরাও খোদা, সবাই যখন নিরাশ করে।
সবাই যখন পায়ে ঠেলে, সান্ত্বনা পাই তোমায় ধ'রে॥
দ্বারে দ্বারে হাত পাতিয়া ফিরি যখন শূন্য হাতে,
তোমার দানের শির্নি তখন আসে আমায় পথ দেখাতে,
দেখি হঠাৎ শূন্য তোমার দানে গেছে ভ'রে॥
খোদা, তোমায় ভরসা করি নামি যখন কোন কাজে,
সে কাজ হাসিল হয় সহজে শত বিপদ বাধার মাঝে
(খোদা) তোমায় ছেড়ে অন্য জনে শরণ নিলে যায় সে সরে॥
মাঝ দরিয়ায় ডুবলে জাহাজ তোমায় যদি ডাকি
তোমার রহম কোলে করি তীরেতে যায় রাখি
দুখের অনল কুসুম হয়ে ফুটে ওঠে থরে থরে॥
- ভাবার্থ: মানুষ যখন জীবনের কঠিন বাস্তবতায় চারদিক থেকে নিরাশ হয়ে পড়ে
এবং আপনজনের কাছ থেকেও অবহেলা পায়, তখন একমাত্র আল্লাহই তার শেষ ও চিরস্থায়ী
আশ্রয় হয়ে দাঁড়ান। এই গানে স্রষ্টার প্রতি মানুষের গভীর বিশ্বাস, নির্ভরতা এবং
তাঁর অসীম রহমতের মহিমা অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শীভাবে প্রকাশিত হয়েছে। কবি উপলব্ধি
করেন—সুখে-দুঃখে, সাফল্যে-ব্যর্থতায়, বিপদে-আপদে সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণই
মানুষের প্রকৃত শক্তি। মানুষের সাহায্য যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই আল্লাহর
রহমতের সূচনা ঘটে।
স্বার্থপর এই পৃথিবীতে বিপদের সময়ে মানুষ অনেক সময় একে অপরকে দূরে ঠেলে দেয়।
কিন্তু আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দাকে নিরাশ করেন না। যখন মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরে
শূন্য হাতে ফিরে আসে, তখনই আল্লাহর অদৃশ্য দান, করুণা ও নেয়ামত তার জীবনে আশার
আলো হয়ে দেখা দেয়। কবির ভাষায়, মানুষের দান সীমিত হলেও আল্লাহর দান অফুরন্ত;
তিনি মুহূর্তেই শূন্য জীবনকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দিতে পারেন।
মানুষ যদি কোনো কাজ শুরু করার আগে আন্তরিকভাবে আল্লাহর ওপর নির্ভর করে, তবে
শত বাধা-বিপত্তির মাঝেও সেই কাজ সহজ হয়ে যায়। কারণ আল্লাহর সাহায্য মানুষের সকল
সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে। অন্যের ওপর নির্ভরতা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু
আল্লাহর ওপর ভরসা কখনো ব্যর্থ হয় না।
“মাঝ দরিয়ায় ডুবলে জাহাজ”—এই চিত্রকল্প মানুষের জীবনের ভয়াবহ সংকট ও অসহায়
অবস্থার প্রতীক। যখন সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন আল্লাহর রহমতই মানুষকে রক্ষা করে
নিরাপদ তীরে পৌঁছে দেয়। তাঁর কৃপায় জীবনের দুঃখ, কষ্ট ও যন্ত্রণাও একসময় শান্তি
ও সৌন্দর্যের রূপ ধারণ করে। তাই কবি বলেছেন—দুঃখের অনলও তাঁর রহমতে কুসুম হয়ে
ফুটে ওঠে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের জুন (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৭) মাসে টুইন
রেকর্ড কোম্পানি গানটির
একটি রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ১ মাস।
- রেকর্ড: টুইন। [জুন ১৯৪০ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৭)। এফটি ১৩৩৩৩। শিল্পী:
আব্বাসউদ্দীন আহমদ। সুর: নজরুল ইসলাম।]
- গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৫৭৮। পৃষ্ঠা: ১৭৬।
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
নীলিমা দাস।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, বত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন ১৪১৫। ফেব্রুয়ারি
২০০৯] অষ্টম গান। রেকর্ডে
আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। হামদ। প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর