বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: তোমার সৃষ্টি মাঝে হরি হেরিতে যে নিতি পাই তোমায়
তোমার সৃষ্টি মাঝে হরি হেরিতে যে নিতি পাই তোমায়।
তোমার রূপের আবছায়া ভাসে গগনে, সাগরে, তরুলতায়॥
চন্দ্রে তোমার মধুর হাস, সূর্যে তোমার জ্যোতি প্রকাশ;
করুণা সিন্ধু তব আভাস বারি-বিন্দুতে হিমকণায়॥
ফোটা ফুলে হরি, তোমার তনুর গোপী-চন্দন গন্ধ পাই,
হাওয়ায় তোমার স্নেহের পরশ অন্নে তোমার প্রসাদ খাই।
রাসবিহারী তোমার রূপ দোলে, দুঃখ শোকের হিন্দোলে,
তুমি, ঠাঁই দাও যবে ধর কোলে মোর বন্ধু স্বজন কেঁদে ভাসায়॥
- ভাবসন্ধান: এই গানটিতে বিশ্বপ্রকৃতির সর্বত্র শ্রীহরি বা বিষ্ণুর
সর্বব্যাপী উপস্থিতির ভাব প্রকাশ পেয়েছে। ভক্তের উপলব্ধি হলো, শ্রীহরি কোনো
দূরবর্তী বা অদৃশ্য সত্তা নন; বরং সমগ্র সৃষ্টি জগতের মধ্যেই তিনি নানাভাবে
প্রকাশিত। তাই প্রকৃতির প্রতিটি রূপ, সৌন্দর্য ও স্পন্দনের মধ্যে ভক্ত তাঁর
অস্তিত্ব অনুভব করেন।
মহাকাশের বিশালতা, মহাসমুদ্রের গভীরতা এবং বৃক্ষলতার সজীবতার মধ্যে তিনি হরির
রূপের আভাস খুঁজে পান। তাঁর দৃষ্টিতে জগৎ ও তার সৌন্দর্য হরি থেকে পৃথক নয়; বরং
সবই তাঁর মহিমার প্রকাশ। এই উপলব্ধিকে ব্যাখ্যা করতে কবি প্রকৃতির নানা
উপাদানের মধ্যে হরির গুণাবলির প্রতিফলন দেখিয়েছেন। চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় তিনি
হরির মধুর হাসি দেখতে পান, সূর্যের দীপ্তিতে অনুভব করেন তাঁর জ্যোতির প্রকাশ।
শিশিরবিন্দু ও হিমকণার ক্ষুদ্র অস্তিত্বের মধ্যেও তিনি পরম করুণাময় হরির অসীম
স্নেহ ও করুণার আভাস খুঁজে পান।
ফুলের সৌরভে তিনি শ্রীহরির দেহের গোপীচন্দনের গন্ধ অনুভব করেন, বাতাসের মৃদু
স্পর্শে উপলব্ধি করেন তাঁর স্নেহময় পরশ। এমনকি প্রাত্যহিক জীবনের অন্নও তাঁর
কাছে হরির প্রসাদরূপে প্রতিভাত হয়। অর্থাৎ, জীবনের প্রতিটি প্রাপ্তি ও প্রকৃতির
প্রতিটি অনুষঙ্গ ভক্তের কাছে ঈশ্বরের কৃপা ও আশীর্বাদের স্মারক হয়ে ওঠে।
গানের শেষাংশে জীবনের দুঃখ, শোক ও বিচ্ছেদের মধ্যেও ভক্ত হরির সান্নিধ্য অনুভব
করেন। যখন প্রিয়জনের মৃত্যু বা বিচ্ছেদে মানুষ শোকাতুর হয়ে পড়ে, তখন তিনি
বিশ্বাস করেন যে, সেই প্রিয়জনদের আশ্রয় দেন স্বয়ং শ্রীহরি। তিনি তাঁদের পরম
স্নেহ ও করুণায় নিজের কোলে স্থান দেন। তাই মৃত্যু ভক্তের কাছে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ
নয়; বরং পরমসত্তার সান্নিধ্য লাভের এক নতুন পরিণতি। এই বিশ্বাসই শোকের মধ্যেও
তাঁকে সান্ত্বনা, শান্তি ও আশ্রয়ের অনুভূতি প্রদান করে।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর
(অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৩৯) মাসে গানটি প্রথম এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশিত
হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ:
-
গীতি-শতদল
- প্রথম সংস্করণ [বৈশাখ ১৩৪১। এপ্রিল ১৯৩৪। ভৈরবী-দাদরা]।
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংকলন। পঞ্চম খণ্ড। বাংলা একাডেমী। ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ মে, ২০১১। গীতি-শতদল। গান সংখ্যা
৬৪। ভৈরবী-দাদরা। পৃষ্ঠা ৩১৯]
- নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ
দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান সংখ্যা ৭৭৫]
- রেকর্ড:
এইচএমভি।
ডিসেম্বর ১৯৩২ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৩৯)। এন ৭০৫৯। শিল্পী: কমলা ঝরিয়া
[শ্রবণ
নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
ইদ্রিস আলী [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, দ্বাবিংশ খণ্ড,
নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা ভাদ্র, ১৪০৭/
সেপ্টেম্বর, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ] ১৬ সংখ্যক গান।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। বিষ্ণু।
বন্দনা
- সুরাঙ্গ:
ভজন
- তাল:
দাদরা
- গ্রহস্বর: পা