দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী।
শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে শ্মশান মাঝে শিব-দুলালী॥
আজ শান্ত সিন্ধু তীরে
অশান্ত ঝড় থেকেছে রে,
মা’র কালো রূপ উপ্চে পড়ে ছাপিয়ে ভুবন গগন-ডালি॥
আজ অভয়ার ওষ্ঠে জাগে শুভ্র করুণ শান্ত হাসি,
আনন্দে তাই বসন ফেলি’ মহেন্দ্র ঐ বাজায়-বাঁশি,
ঘুমিয়ে আছে বিশ্ব ভুবন
মায়ের কোলে শিশুর মতন,
পায়ের লোভে মনের বনে ফুল ফুটেছে পাঁচমিশালি॥
গানের শুরুতে কবি সাড়ম্বড়ে সবাইকে দেখছেন, ভদ্রকালী
রূপিণী রুদ্রাণীকে দর্শন করার আহ্বান করা হয়েছে।
শিবের আদরিণী রূপিণী এই দেবী তাঁর সকল তেজ
ও প্রলয় -শক্তিকে সংহত করে গভীর প্রশান্তিতে বিরাজ করছেন। তাই অশান্তির ঝড়
থেমে গেছে, শান্তির সাগর বেলায় প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
মাতৃরূপিণী এই দেবীর স্নিগ্ধ কালো রূপের অপরিসীম মহিমা ও
সৌন্দর্যে আকাশ-বাতাস ও সমগ্র বিশ্বজগৎকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
দেবীর মুখে আজ ফুটে উঠেছ করুণাময়,
শুভ্র ও স্নিগ্ধ হাসি। তাঁর এই কল্যাণময় উপস্থিতিতে দেবরাজ
ইন্দ্রও আনন্দে আত্মহারা হয়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন। মায়ের আশ্রয়ে সমগ্র বিশ্ব
যেন নিশ্চিন্ত শিশুর মতো গভীর নিদ্রায় মগ্ন। তাঁর চরণপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষায়
ভক্তের মনও নানা রঙের ফুলে ভরে ওঠা বাগানের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে।
রেকর্ড:ইদ্রিস আলী [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, দ্বাবিংশ খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা ভাদ্র, ১৪০৭/ সেপ্টেম্বর, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ] ১৯ সংখ্যক গান। রেকর্ডে মৃণালকান্তি ঘোষ-এর গাওয়া স্বরলিপি। [নমুনা]
ইদ্রিস আলী।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, পঞ্চাশতম খণ্ড, কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, কার্তিক ১৪২৬। জুন নভেম্বর ২০১৯।
রেকর্ডে রণজিত মণ্ডল-এর গাওয়া স্বরলিপ অনুসারে রেকর্ড করা হয়েছে। [নমুনা]