ভাবসন্ধান: এই গানে কবি পরমসত্তার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, অটল বিশ্বাস
ভক্তিভরে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবি মনে করেন মানুষের জীবনে যতই দুঃখ, বিপদ, ঝড়-ঝঞ্ঝা বা অনিশ্চয়তা আসুক না কেন,
যিনি আন্তরিকভাবে নিজেকে পরমসত্তার কাছে সমর্পণ করে, সে কখনো প্রকৃত অর্থে একা বা অসহায় হয় না।
তিনি তাঁর আশ্রয়দাতা এব পথপ্রদর্শক হয়ে বিরাজ করেন।
গানের শুরুতে কবি তাঁর আত্মোপলব্ধি থেকে বলেছেন, যিনি নিজের প্রাণ ও জীবন পরমসত্তার চরণে নিবেদন করেন, তাঁর আর কোনো ভয় থাকে না। কারণ
তিনি বিশ্বাস করে, সকল বিপদ ও আপদের মধ্যে পরমসত্তা তাঁর হাত ধরে পথ দেখান এবং জীবনের সকল সংকট নিরাপদে অতিক্রম করতে সাহায্য করেন। এখানে
'হাত ধরে কর পার' কথাটি তাঁর করুণা, রক্ষা ও পথনির্দেশের প্রতীক।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি প্রবল আত্ম-প্রত্যয়ে বলেছেন- মানুষের জীবনে দুঃখ, শোক, দুশ্চিন্তা ও ভয় আসবেই।
তারপরেও পরমসত্তার নাম তাঁর হৃদয়ে সান্ত্বনা, সাহস ও আশার উৎস হয়ে বিরাজ করে। সেই নামের শক্তিতেই মানুষ জীবনের
'দুস্তর পারাবার'- অর্থাৎ দুঃখ-কষ্ট, পরীক্ষা ও সংসারের কঠিন পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। এখানে
পরমসত্তার নাম কেবল উচ্চারিত শব্দ নয়; বরং তাঁর প্রতি অটল বিশ্বাস, স্মরণ ও আত্মনিবেদনের প্রতীক।
এরপর কবি একটি সুন্দর উপমার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও
ঈশ্বরবিশ্বাসীর অন্তরের প্রাণশিখা নিভে যায় না; বরং শান্ত ও স্থির থাকে। যদিও
জীবনের পদ্মফুল নানা সুখ-দুঃখের ঢেউয়ে দুলতে থাকে, তবু তার অন্তরের বিশ্বাস
অচঞ্চল থাকে। অর্থাৎ বাহ্যিক প্রতিকূলতা তার আধ্যাত্মিক স্থিরতাকে নষ্ট করতে
পারে না।গানের শেষাংশে কবি শিশুর সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের সাথে পর্মসত্তা আর
ভক্তের সম্পর্কের তুলনা করে- পরস্পরের সম্পর্কের গভীরতাকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
যেমন একটি শিশু তার মায়ের বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমায়, কারণ সে জানে তার মা তাকে
রক্ষা করবেন, তেমনি ভক্ত পর্মসত্তার আশ্রয়ে ঘুমন্ত শিশুর মতো নির্ভয়ে থাকেন।
সংসারের কোনো ভয়, দুঃখ বা অনিশ্চয়তা তখন আর তাকে বিচলিত করতে পারে না, কারণ
তিনি উপলব্ধি করেন যে পরম আশ্রয়দাতা পরসত্তা সর্বদা তার সঙ্গে আছেন।