বিষয়:
নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম :
আমি গরবিনী মুসলিম বালা
আমি গরবিনী মুসলিম বালা
সংসার সাহারাতে আমি গুলে লালা॥
জ্বালায়েছি বাতি (আমি) আঁধার কাবায়
এনেছি খুশির, ঈদে শিরনির থালা॥
আনিয়াছি ঈমান প্রথম আমি
আমি দিয়াছি সবার আগে মোহাম্মদে মালা॥
কত শত কারবালা বদরের রণে
বিলায়ে দিয়াছি স্বামী-পুত্র স্বজনে;
জানে গ্রহ-তারা জানে আল্লাহ তালা॥
- ভাবসন্ধান: ইসলামি জগতে নারীর গৌরবময় ভূমিকা, একজন গরবিনী নারীর
অভিক্তিতে ব্যক্ত হয়েছে এ গানে। বর্ণগন্ধহীন মরুসদৃশ সংসারে এই নারী বিরাজ
করেন- লাল রঙে রঞ্জিত গোলাপের মতো। পৌত্তালিকতার অন্ধত্বে অন্ধকারাচ্ছন্ন
কাবাগৃহে একেশ্বরবাদীর প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন এই নারী। আবার রমজানে সংযমের
মাস শেষে, বা ত্যাগের সর্বোত্তম মহিমায় মহিমান্বিত কোরবানীর খুশির ঈদে,
সংসারের সবার হাতে তুলে দিয়েছেন সুস্বাদু শিরনির থালা।
ইসলাম ধর্ম প্রথম গ্রহণ করেছিলেন হজরত খাদিজা (রাঃ)। 'হজরত মুহম্মদ (সাঃ)
আল্লাহর রসুল' তিনিই প্রথম স্বীকার করে- নবুয়ত প্রাপ্তির গৌরবের মালা তিনিই
পরিয়েছিলেন তাঁর গলায়। ইসলামের কত শত নারী- কারবালা, কদর ইত্যাদি যুদ্ধে
স্বামী-পুত্র স্বজন হারিয়েছেন, তার হিসেবে জানে আকাশের গ্রহ-তারা, জানেন আল্লাহ তালা।
তাই এই গানের নারী সগৌরবে ঘোষাণা দিতে পেরেছেন- 'আমি গরবিনী মুসলিম বালা'।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪২) মাসে এইচএমভি রেকর্ড
কোম্পানি গানটি প্রথম রেকর্ড করে। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ২
মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি
২০১২। গান সংখ্যা ৯০২।
- রেকর্ড:
- এইচএমভি।
[আগষ্ট ১৯৩৬
(শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৩)]। এন ৯৭৬১।
শিল্পী: রাবেয়া খাতুন (ঊষারাণী)।
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার,
১৩ মাঘ ১৩৪৩) নজরুলের সাথে রেকর্ড কোম্পানির চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে এই
গানটির উল্লেখ ছিল।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
আহসান মুর্শেদ [নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, চল্লিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩
বঙ্গাব্দ/ জুন, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ] তৃতীয় গান। পৃষ্ঠা: ২৬-৩১।
[নমুনা]
- সুরকার:
কমল দাশগুপ্ত
- পর্যায়:
-
বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামী গান। মহিমা। নারী
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গান