বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা:
শিরোনাম:
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা,
তুমি আমার সাধের সাধনা,
পাঠ ও পাঠভেদ:
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা,
মম শূন্যগগনবিহারী।
আমি আপন মনের মাধুরী মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা—
তুমি আমারি, তুমি আমারি,
মম অসীমগগনবিহারী॥
মম হৃদয়রক্তরাগে তব চরণ দিয়েছি রাঙিয়া,
অয়ি সন্ধ্যাস্বপনবিহারী।
তব অধর এঁকেছি সুধাবিষে মিশে মম সুখদুখ ভাঙিয়া—
তুমি আমারি, তুমি আমারি,
মম বিজনজীবনবিহারি॥
মম মোহের স্বপন-অঞ্জন
তব নয়নে দিয়েছি পরায়ে,
অয়ি মুগ্ধনয়নবিহারি।
মম সঙ্গীত তব অঙ্গে অঙ্গে দিয়েছি জড়ায়ে জড়ায়ে—
তুমি আমারি, তুমি আমারি,
মম জীবনমরণবিহারি॥
পাণ্ডুলিপির পাঠ:
পাঠভেদ: এর পাঠভেদ আছে। গীতবিতানের 'প্রেম' ও 'প্রেম ও প্রকৃতি' পর্যায়ে এই গানটির দুটি পাঠ মুদ্রিত হয়েছে। উপরে পাঠটি 'প্রেম' পর্যায়ের। নিচে 'প্রেম ও প্রকৃতি' পর্যায়ের পাঠ দেওয়া হলো।
প্রেম ও প্রকৃতি-৫৬
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা,
তুমি আমার নিভৃত সাধনা,
মম বিজনগগনবিহারী।
আমি আমার মনের মাধুরী মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা—
তুমি আমারি, তুমি আমারি, মম সন্ধ্যাগগনবিহারী॥
মম হৃদয়রক্তরাগে তব চরণ দিয়েছি রাঙিয়া,
মম সন্ধ্যাগগনবিহারী।
তব অধর এঁকেছি সুধাবিষে মিশে মম সুখদুখ ভাঙিয়া—
তুমি আমারি, তুমি আমারি, মম বিজনস্বপনবিহারি॥
মম মোহের স্বপনলেখা
তব নয়নে দিয়েছি পরায়ে,
অয়ি মুগ্ধনয়নবিহারী।
মম সঙ্গীত তব অঙ্গে অঙ্গে দিয়েছি জড়ায়ে জড়ায়ে—
তুমি আমারি, তুমি আমারি, মম মোহনমরণবিহারি॥
ভাবসন্ধান: যুক্ত হবে।
তথ্যানুসন্ধান
ক. রচনাকাল ও স্থান: ১৩০৪ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসের শুরুতে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে যান। তারপর পাবনার ইছামতী, যমুনা বরাল, বলেশ্বরী নদী ধরে সাজাদপুরের উদ্দেশ্যে পৌঁছান ৮ তারিখে। ৯ আশ্বিন সাজাদপুর থেকে পতিসরের দিকে যাত্রা করেন। চলন-বিলে নৌকায় এই গানটি রচনা করেন। 'কল্পনা' কাব্যে গৃহীত 'মানস প্রতিমা' নামক কবিতার সাথে এই গানটির রচনা উল্লেখ আছে - চলনবিল। ঝড়বৃষ্টি। ৯ আশ্বিন ১৩০৪। খ্রিষ্টাব্দের বিচারে এই দিনটি ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর ১৮৯৭ (শুক্রবার)] । এই সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ৫ মাস।
প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি
গ্রন্থ
কল্পনা (২৩ বৈশাখ ১৩০৮ বঙ্গাব্দ)। শিরোনাম : মানস প্রতিমা। [রবীন্দ্ররচনাবলী সপ্তম খণ্ড। বিশ্বভারতী। শ্রাবণ ১৩৯৩ বঙ্গাব্দ]
গীতবিতান
প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ
[বিশ্বভারতী, ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ। ১৩০৭ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত
'কল্পনা' নামক
কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছিল। পৃষ্ঠা: ১৯১][নমুনা]
গীতবিতান-এর প্রেম (উপ-বিভাগ : প্রেম বৈচিত্র্য-৯) পর্যায়ের ৩৬ সংখ্যক গান এবং প্রেম-প্রকৃতি পর্যায়ের ৫৬ সংখ্যক গান।
স্বরবিতান দশম (১০) খণ্ডের (পৌষ ১৪১৩) ২৭ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ৮২-৮৩।
পত্রিকা:
বীণাবাদিনী (জ্যৈষ্ঠ ১৩০৫ বঙ্গাব্দ)। ইমন কল্যাণ-একতাল। স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল, তবে স্বরলিপিকারের নাম অনুল্লিখিত ছিল।
ঝঙ্কার (জ্যৈষ্ঠ ১৩৪২)। অনাদিকুমার দস্তিদার-কৃত।
ভারতী (আষাঢ় ১৩০৬)। সরলাদেবীকৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
গ. সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
স্বরলিপিকার: স্বরবিতান দশম খণ্ডের (পৌষ ১৪১৩) ৮২-৮৩ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত প্রথম স্বরলিপিটি বীণাবাদিনী (জ্যৈষ্ঠ ১৩০৫ বঙ্গাব্দ) পত্রিকা থেকে গৃহীত হয়েছে। স্বরলিপিকারের নাম পাওয়া যায় নাই। ৮৫-৮৬ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত দ্বিতীয় স্বরলিপিটি করেছিলেন অনাদিকুমার দস্তিদার। এই স্বরলিপিটির অনুমোদন করেছিলেন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তা ঝঙ্কার পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৪২ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
সুর ও তাল:
রাগ : ইমন কল্যাণ। তাল একতাল । [স্বরবিতান দশম (১০) খণ্ডের (পৌষ ১৪১৩) ]
রাগ : ইমন কল্যাণ। এই গানের পাঠান্তর ও সুরান্তর একই রাগ-তালে নিবদ্ধ। [রবীন্দ্রসঙ্গীতে রাগ-নির্ণয়। ভি.ভি. ওয়াঝলওয়ার। রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গান। সংগীত-শিক্ষায়তন। বৈশাখ ১৩৯০। পৃষ্ঠা : ৬৯]
রাগ: ইমন কল্যাণ। তাল: একতাল [রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬।। পৃষ্ঠা: ৫৫]।
রাগ: ইমন কল্যাণ। তাল: একতাল [রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত, প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী, জুলাই ২০০১, পৃষ্ঠা: ৯৮।]
গ্রহস্বর : পা।
লয় : মধ্য