বিষয়: রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা:
শিরোনাম:
কোথা আছ, প্রভু, এসেছি দীনহীন,
পাঠ ও পাঠভেদ:
কোথা আছ, প্রভু, এসেছি দীনহীন,
আলয় নাহি মোর অসীম সংসারে!
অতি দূরে দূরে ভ্রমিছি আমি হে ‘প্রভু প্রভু’ ব'লে ডাকি কাতরে॥
সাড়া কি দিবে না। দীনে কি চাবে না। রাখিবে ফেলিয়ে অকূল আঁধারে?
পথ যে জানি নে, রজনী আসিছে, একেলা আমি যে এ বনমাঝারে॥
জগতজননী, লহো লহো কোলে, বিরাম মাগিছে শ্রান্ত শিশু এ।
পিয়াও অমৃত, তৃষিত সে অতি– জুড়াও তাহারে স্নেহ বরষিয়ে॥
ত্যজি সে তোমারে গেছিল চলিয়ে, কাঁদিছে আজিকে পথ হারাইয়ে–
আর সে যাবে না, রহিবে সাথ-সাথ, ধরিয়ে তব হাত ভ্রমিবে নির্ভয়ে॥
এসো তবে, প্রভু, স্নেহনয়নে এ- মুখ-পানে চাও– ঘুচিবে যাতনা,
পাইব নব বল, মুছিব অশ্রুজল, চরণ ধরিয়ে পূরিবে কামনা॥
তথ্যানুসন্ধান
ক. রচনাকাল ও স্থান: রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, ১১ মাঘ ১২৮৭ বঙ্গাব্দ [রবিবার ২৩ জানুয়ারি ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দ] তারিখে অনুষ্ঠিত একপঞ্চাশৎ (৫১) মাঘোৎসব উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ এই গানটি রচনা করেছিলেন। এই বিচারে ধারণা করা হয়- গানটি রবীন্দ্রনাথের ১৯ বৎসর বয়সের রচনা।
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ অষ্টমখণ্ড (মজুমদার লাইব্রেরি, ১৩১০)
কাব্যগ্রন্থ ১০ম খণ্ড (ইন্ডিয়ান প্রেস ১৩২৩)
কাব্যগ্রন্থাবলী [আদি ব্রাহ্মসমাজ প্রেস, ১৩০৩। ব্রহ্মসঙ্গীত। গুজরাটি ভজন। তাল একতালা। পৃষ্ঠা: ৪৪৭][নমুনা]
প্রথম সংস্করণ [সিটি বুক সোসাইটি, ১৩১৫ বঙ্গাব্দ। ব্রহ্মসঙ্গীত। গুজরাটি ভজন-তাল একতালা। পৃষ্ঠা ২৫৩-২৫৪][নমুনা প্রথমাংশ শেষাংশ]
দ্বিতীয় সংস্করণ [ইন্ডিয়ান প্রেস। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩১৬ বঙ্গাব্দ। রাগিণী গুজরাটি ভজন। তাল একতাল। পৃষ্ঠা: ২৭৬-২৭৭। [নমুনা: প্রথমাংশ, শেষাংশ]
গানের বহি ও বাল্মীকি প্রতিভা (আদি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিভা, ১৩০০)
গীতবিতান
অখণ্ড সংস্করণ, তৃতীয় সংস্করণ (বিশ্বভারতী ১৩৮০)। পূজা ও প্রার্থনা ৬।
ধর্ম্মসঙ্গীত (ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস ১৩১২)
বাঙ্গালীর গান (১৩১২, ১৯০৫ সাল)। দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত।
রবিচ্ছায়া (সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ যন্ত্র, ১২৯২)। ব্রহ্মসঙ্গীত ৪৪। গুজরাটি ভজন- তাল একতাল। পৃষ্ঠা: ১৩৫-১৩৬। [নমুনা: ১৩৫, ১৩৬]
ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি তৃতীয় ভাগ (মকর সংক্রান্তি ১৩১৩ বঙ্গাব্দ)। গুজরাটি ভজন-একতাল। কাঙ্গালীচরণ সেন-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
স্বরবিতান ত্রয়োবিংশ (২৩) খণ্ডের ৭-সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ১৯-২৩।
পত্রিকা:
তত্ত্ববোধনী (ফাল্গুন ১৮০২ শকাব্দ, ১২৮৭ বঙ্গাব্দ)।
পরিবেশনা:
গানটি ১১ মাঘ ১২৮৭ বঙ্গাব্দ [রবিবার ২৩ জানুয়ারি ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দ] তারিখে
অনুষ্ঠিত
একপঞ্চাশৎ (৫১) মাঘোৎসবের সায়ংকালীন অধিবেশনে গীত হয়েছিল।
[মাঘোৎসব-৫১'তে
পরিবেশিত গানের তালিকা]
গ. সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
ভাঙা গান: ইন্দিরাদেবী তাঁর 'রবীন্দ্রসঙ্গীতের ত্রিবেণী সংগম' গ্রন্থে এই গানটিকে 'গুজরাটি, ভৈরবী। একতালা' উল্লেখ করেছেন। মূলগানের কোনো চরণ এই গ্রন্থে উল্লেখ নেই।
স্বরলিপিকার: কাঙ্গালীচরণ সেন-কৃত স্বরলিপিটি স্বরবিতান ২৩ খণ্ডের সুরান্তরে দেখানো হয়েছে। স্বরবিতান ২৩-এ গৃহীত স্বরলিপিটি কার, তার উল্লেখ নেই।
সুর ও তাল:
রাগ- গুজরাটি ভজন। তাল-একতাল। [স্বরবিতান-২৩]
রাগ: গুজরাটি ভজন। তাল: একতালা। [রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত। প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি, জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা: ৮৫।]
বিষয়াঙ্গ: ধ্রুপদাঙ্গ
সুরাঙ্গ: ভজনাঙ্গ
গ্রহস্বর: সা।
লয়: মধ্যলয়।