ঝালকাঠি জেলা
বর্তমান ঝালকাঠি অঞ্চল একসময় বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে এটি পিরোজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। নদীবিধৌত ভৌগোলিক অবস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার কারণে ঝালকাঠি ক্রমে দক্ষিণ বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়।
ঝালকাঠির নদীবন্দর ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব ইউরোপীয় বণিকদেরও আকৃষ্ট করেছিল। বিভিন্ন সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ওলন্দাজ (ডাচ) ও ফরাসি বণিকরা এ অঞ্চলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর ফলে উনিশ ও বিশ শতকের প্রথম দিকে ঝালকাঠি দক্ষিণ বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এর বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণে ঝালকাঠিকে কখনো কখনো ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ বলেও অভিহিত করা হতো।
ঝালকাঠির গুরুত্বপূর্ণ নদী
কীর্তনখোলা, খায়রাবাদ, বিষখালী, সুগন্ধা, ধানসিঁড়ি, গাবখান, জাংগালিয়া ও বাসন্ডা।
প্রশাসনিক বিকাশ
ঝালকাঠি
পৌরসভার প্রতিষ্ঠা হয় ১ এপ্রিল ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে। এর মাধ্যমে ঝালকাঠি শহর একটি প্রাতিষ্ঠানিক নগর প্রশাসনের অধীনে আসে।
ব্রিটিশ শাসনামলে ঝালকাঠি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনেও ঝালকাঠির প্রশাসনিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে ঝালকাঠিতে একটি পুলিশ থানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঝালকাঠি অঞ্চলেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে র
১৬ জুন স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী ঝালকাঠি অঞ্চলের নিরস্ত্র মানুষদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঝালকাঠির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
মহকুমা থেকে জেলা
স্বাধীনতার পর প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ধারায় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের
১ জুলাই ঝালকাঠি থানা পিরোজপুর জেলার একটি মহকুমায় উন্নীত হয়। পরবর্তীকালে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ১৯৮৪
খ্রিষ্টাব্দের ঝালকাঠি পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে পিরোজপুর জেলার অধীন মহকুমা থেকে ঝালকাঠি স্বতন্ত্র জেলা প্রশাসনে উন্নীত হয়।
সূত্র: