গঙ্গা/পদ্মা
উত্তরপ-পূর্ব ভারতে
র একটি অন্যতম নদী।

এই নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উপন্ন হয়ে প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে, পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভারতে হরিদ্বারের কাছে গঙ্গা নাম ধারণ করেছে এরপর ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গঙ্গা নদী ভারতের রাজমহল পাহাড়ের উত্তর-পশ্চিমে তেলিগড় ও সকরিগলির সংকীর্ণ গিরিপথ ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুর মহকুমায় সমভূমিতে প্রবেশ করেছে।

এরপর
মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান শহরের নিকটে গঙ্গা নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এর দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত শাখার নাম ভাগিরথী, আর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত শাখার নাম পদ্মা। এই বিচারে উভয় নদীই গঙ্গা। তবে গঙ্গার মূল স্রোতধারাটি পদ্মা নামে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
 

ভাগীরথী
ভাগীরথীর প্রবাহ মুর্শিদাবাদ জেলাকে দুই ভাগে বিভাজিত করেছে। এই নদীর পূর্ব প্রান্তকে বলা হয় বাগড়ি এবং পশ্চিম পাড়ের ভাগকে বলা হয় রাঢ় । এরপর নবদ্বীপ পর্যন্ত গঙ্গার এই ধারা  ভাগীরথী নদী বলা হয়। আর নবদ্বীপ থেকে এই নদী হুগলি নাম ধারণ করে গঙ্গাসাগরে পতিত হয়েছে। এই নদীর তীরেই কলকাতা নগরী অবস্থিত।

গঙ্গাসাগর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের একটি সাগর সৈকত এবং তীর্থস্থান। গঙ্গাসাগর সৈকতে হুগলি নদী নামধারী হুগলি নদী পতিত হয়েছে। এই সৈকতটি দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ও তীর্থস্থান ৷ এখানে বঙ্গোপসাগরের তীরে সমুদ্র সৈকতের পাশে কপিলমুনির প্রাচীন মন্দির আছে ৷ জানুয়ারি মাসে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে এখানের মেলায় লক্ষাধিক পুন্যার্থীর সমাগম হয় ৷ তবে এ নিয়ে বিতর্ক আছে।

পদ্মা
বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলির অন্যতম

মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান শহরের নিকটে গঙ্গার মূল স্রোতধারাটি রাজশাহী জেলার দক্ষিণ দিয়ে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে রাজশাহী  রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ির নিকট মহানন্দা নদী এই নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এরপর এই নদী পাবনা জেলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে নদীটি যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে- পদ্মা নদী নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে এই স্রোতধারাটি চাঁদপুরের কাছে এসে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে

বাংলাদেশে পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার এই নদীর শাখানদীগুলি হলো কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি এই নদীটি তীব্র স্রোতধারাটির রুদ্র মূর্তির কারণে একসময় প্রমত্তা নামে অভিহিত হতো ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ফারাক্কা বাঁধের কারণে এটি একটি শীর্ণ নদীতে পরিণত হয়েছে


সূত্র :
বাংলা বিশ্বকোষ (১ম-৪র্থ খণ্ড)। নওরোজ কিতাবিস্তান।
শিশু বিশ্বকোষ (তৃতীয় খণ্ড)। মাঘ, ১৪০৩, জানুয়ারি ১৯৯৭।