মাহিষ্মতী
ভারতের
একটি প্রখ্যাত নগরী এবং অবন্তী মহাজনপথের প্রাচীন ভারতের
একটি প্রখ্যাত নগরী এবং অবন্তী
মহাজনপথের উত্তরাংশের রাজধানী। ইতিহাসবিদ এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, মধ্যপ্রদেশের খরগোণ জেলার মহেশ্বর
শহরটিই হলো সেই প্রাচীন মাহিষ্মতী। এখানে খননকার্য চালিয়ে খ্রিষ্টপূর্ব যুগের অনেক প্রাচীন নিদর্শন ও মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে, যা অবন্তী রাজ্যের সমৃদ্ধির সাক্ষ্য দেয়।
এই নগরীটি ছিল নর্মদা নদীর তীরে। এই নদীর কারণে নগরীটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা পেত এবং জলপথের বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা ভোগ করত।
রাজ প্রদ্যোতে শাসনামলে এ নগরীটিকে তিনি তাঙর রাজ্যের দক্ষিণাচঞ্চলের রাজধানী
করেছিলেন। এটি উত্তর ভারত থেকে দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার প্রধান বাণিজ্য পথ বা 'দক্ষিণাপথ'-এর ওপর অবস্থিত ছিল। ফলে এখানে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সমাগম ঘটত।
পৌরাণিক বিবরণ অনুযায়ী, বিতীহোত্ররা ছিল বিখ্যাত হৈহয় বংশের একটি উপশাখা। হৈহয় বংশের আদি পুরুষ ছিলেন যদু বংশের রাজা কার্তবীর্য অর্জুন (সহস্রবাহু), যিনি মাহিষ্মতী নগরী থেকে শাসন করতেন। কার্তবীর্য অর্জুনের বংশধরদের মধ্যে পাঁচটি প্রধান শাখা ছিল, যার মধ্যে 'বিতীহোত্র' ছিল অন্যতম।
বর্তমান ভারতে এর পর্যটন কেন্দ্রগুলো হলো-
- মহেশ্বর দুর্গ
এটি মহেশ্বরের প্রধান আকর্ষণ। ১৮শ শতাব্দীতে রানি অহল্যাবাঈ হোলকার এই বিশাল দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। দুর্গের কারুকার্যময় পাথরের দেওয়াল এবং বিশাল প্রবেশদ্বারগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করে। দুর্গের ভেতরে অহল্যাবাঈয়ের রাজপ্রাসাদ বা 'রাজওয়াদা' অবস্থিত, যা বর্তমানে একটি হেরিটেজ হোটেলে রূপান্তরিত হলেও এর কিছু অংশ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত।
- নর্মদা ঘাট (অহল্যা ঘাট):
দুর্গের ঠিক নিচে নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঘাটটি অত্যন্ত শান্ত এবং সুন্দর। পাথর দিয়ে বাঁধানো প্রশস্ত সিঁড়ি এবং নদীর দৃশ্য একে অনন্য করে তুলেছে। এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নৌকা ভ্রমণ পর্যটকদের প্রিয় অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যার সময় ঘাটে নর্মদা আরতি দেখার মতো এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়।
- ৩. অহল্যেশ্বর মন্দির:
এটি ভগবান শিবের উৎসর্গ করা একটি বিশাল ও সুন্দর মন্দির। মারাঠা স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরের গায়ে পাথরের সূক্ষ্ম কারুকার্য ও খোদাই করা মূর্তিগুলো প্রাচীন শিল্পকলার পরিচয় দেয়। এটি রানি অহল্যাবাঈয়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল।
- ৪. রাজরাজেশ্বর মন্দির
এই মন্দিরটি ভগবান শিবের অন্যতম প্রধান মন্দির। এখানে ১১টি 'অখণ্ড দীপক' (যে প্রদীপ কখনো নেভে না) জ্বলে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। ধর্মীয় এবং স্থাপত্যগত—উভয় দিক থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ।
- ৫. বাণেশ্বর মহাদেব মন্দির:
নর্মদা নদীর ঠিক মাঝখানে একটি ছোট দ্বীপে এই প্রাচীন মন্দিরটি অবস্থিত। কথিত আছে যে, উত্তর মেরু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত একটি স্বর্গীয় রেখা এই মন্দিরের মধ্য দিয়ে গেছে। বর্ষাকালে যখন নদীর জল বাড়ে, তখন এই মন্দিরটির দৃশ্য অপূর্ব দেখায়। নৌকায় করে এখানে যেতে হয়।
- ৬. রেওয়া সোসাইটি:
মহেশ্বর তার বিখ্যাত মহেশ্বরী শাড়ির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। রানি অহল্যাবাঈ এখানকার তাঁত শিল্পীদের উৎসাহিত করেছিলেন।
- ৭. অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
- কাশী বিশ্বনাথ মন্দির: নর্মদা ঘাটের কাছে অবস্থিত রানি অহল্যাবাঈ দ্বারা নির্মিত একটি শান্ত মন্দির।
- সহস্রধারা জলপ্রপাত: মহেশ্বর শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নর্মদা নদীর পাথুরে পথে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত, যা পিকনিকের জন্য দারুণ জায়গা।
একমুখী দত্ত মন্দির: একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মন্দির থেকে পুরো মহেশ্বর শহরের দৃশ্য দেখা যায়।