অবন্তী
খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রাচীন ভারতের ষোড়শ
মহাজনপদের একটি অন্যতম জনপদ।
বর্তমান
ভারতের মধ্যপ্রদেশের মালব অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। অবন্তী জনপদটি বিন্ধ্য পর্বতমালা দ্বারা দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত ছিল
রাজনৈতিক ইতিহাস
ভারতের প্রাচীন ইতিহাসে অবন্তী
'বিতীহোত্র' বংশের রাজাদের দ্বারা শাসিত হয়েছেন। পুরাণ অনুসারে,
প্রদ্যোতের পিতা পুনিকা (বা পুলিকা) ছিলেন বিতীহোত্র বংশের রাজাদের একজন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী বা সেনাপতি। তাঁর পিতা পুনিকা অবন্তীর শেষ বিতীহোত্র রাজা অত্যন্ত দুর্বল এবং অযোগ্য হওয়ার সুযোগ নিয়ে- সেই রাজাকে হত্যা করেন এবং নিজের পুত্র
প্রদ্যোতকে
সিংহাসনে বসান। এভাবেই অবন্তীতে প্রদ্যোত রাজবংশের সূচনা হয়।
বিতীহোত্র বংশের শেষ রাজা যখন শাসন করছিলেন, তখন তাঁর মন্ত্রী ছিলেন পুনিকা।
পুনিকা দেখলেন যে রাজা অত্যন্ত দুর্বল এবং শাসনকার্যে অক্ষম।
তিনি সুযোগ বুঝে শেষ বিতীহোত্র রাজাকে হত্যা করেন এবং নিজের পুত্র প্রদ্যোতকে (যিনি চণ্ড প্রদ্যোত নামে পরিচিত হন) সিংহাসনে বসান।
খ্রিষ্টাপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী ভারতে ষোড়শ মহাজনপদের উত্থানকাল ছিল। প্রদ্যোত এমন এক সময়ে ক্ষমতায় আসেন যখন মগধ, কোশল এবং বৎস রাজ্যের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হয়েছিল। তাঁর রাজত্বলাভ অবন্তীকে একটি সাধারণ জনপদ থেকে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেছিল।
মগধের রাজা বিম্বিসার এবং অজাতশত্রুর সাথে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মিত্রতার জন্য তিনি খ্যাত। অবন্তী এবং মগধের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চলেছে। যদিও প্রদ্যোতের সময় অবন্তী অপরাজেয় ছিল, পরবর্তীতে মগধের শিশুনাগ বংশের রাজা শিশুনাগ অবন্তী জয় করেন এবং একে মগধ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।
ষোড়শ মহাজনপদ যুগের ঠিক আগে বিতীহোত্ররা অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও পরবর্তীকালে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। পুরাণে উল্লেখ আছে যে, বিতীহোত্র রাজারা প্রজাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন এবং তাদের শাসনকালে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল।
বাণিজ্য ও সমৃদ্ধি অবন্তী ছিল তৎকালীন ভারতের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের সংযোগস্থলে ছিল উজ্জয়িনী। তাই এটি একটি বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
অবন্তীতে প্রচুর পরিমাণে লোহার খনি ছিল, যা তাদের উন্নত মানের অস্ত্রশস্ত্র তৈরিতে এবং সামরিক শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে সহায়তা করেছিল।
বৌদ্ধ ধর্ম: রাজা চণ্ড প্রদ্যোত বুদ্ধদেবকে অবন্তীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বুদ্ধ স্বয়ং না আসতে পারলেও তাঁর প্রধান শিষ্য মহাকাত্যায়ন সেখানে ধর্ম প্রচার করেন এবং অবন্তী বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।