চণ্ড প্রদ্যোত
(১৯২০-১৯৮৭)
প্রাচীন ভারতের
অবন্তী নামক
মহাজনপদের প্রখ্যাত এবং শক্তিশালী রাজা। তাঁর সামরিক উগ্রতা এবং শৌর্য-বীর্যের জন্য তাঁকে 'চণ্ড'
(ভয়ংকর বা রাগী) বলা হতো।
ভারতের প্রাচীন ইতিহাসে অবন্তী
'বিতীহোত্র' বংশের রাজাদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। পুরাণ অনুসারে, চণ্ড প্রদ্যোতের পিতা পুনিকা (বা পুলিকা) ছিলেন বিতীহোত্র বংশের রাজাদের একজন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী বা সেনাপতি। তাঁর পিতা পুনিকা অবন্তীর শেষ বিতীহোত্র রাজা অত্যন্ত দুর্বল এবং অযোগ্য হওয়ার সুযোগ নিয়ে- সেই রাজাকে হত্যা করেন এবং নিজের পুত্র প্রদ্যোতকে সিংহাসনে বসান। এভাবেই অবন্তীতে প্রদ্যোত রাজবংশের সূচনা হয়।
বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, প্রদ্যোত যখন সিংহাসনে বসেন, তখন তাঁর সামরিক দক্ষতা এবং অত্যন্ত কঠোর মেজাজের কারণে তিনি 'চণ্ড' (উগ্র) নামে পরিচিত হন। তিনি কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ক্ষমতা রক্ষা করেননি, বরং নিজের বাহুবলে অবন্তীকে উত্তর ভারতের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।
খ্রিষ্টাপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী ভারতে ষোড়শ মহাজনপদের উত্থানকাল ছিল। প্রদ্যোত এমন এক সময়ে ক্ষমতায় আসেন যখন মগধ, কোশল এবং বৎস রাজ্যের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হয়েছিল। তাঁর রাজত্বলাভ অবন্তীকে একটি সাধারণ জনপদ থেকে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেছিল।
মগধ
রাজা
বিম্বিসারের
সাথে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কথিত আছে, রাজা প্রদ্যোত যখন
পাণ্ডু রোগে আক্রান্ত হন, তখন
বিম্বিসার তাঁর বিখ্যাত চিকিৎসক জীবককে চিকিৎসার জন্য অবন্তীতে পাঠিয়েছিলেন।
বৌদ্ধ সাহিত্যে প্রদ্যোতের কন্যা বাসবদত্তা এবং রাজা
উদয়নের প্রেমকাহিনী অত্যন্ত জনপ্রিয়।